- 5
- 0
একলা বিলাস
আমরা সম্পর্ক নিয়ে ঘাঁটতে ঘাঁটতে আরও কঠিন সত্যি গুলোতে এসে পৌঁছেছি। ওই হাত ছাড়া হাত ধরে থাকা ব্যাপারটা আমাদের প্রজন্মে বোধহয় একটা বড় সামাজিক ট্যাবু ছিল কিন্তু প্রতিদিনের ব্যবহার আর যাপনের বদল স্পষ্ট হয়ে উঠতো।ভালো থাকার অভিনয় করতে করতে আমরা অভিনয়টাই সত্যি বলে ভাবতাম। তার বাইরে মনমালিন্য, ঝগড়া, তর্কের পারদ চরতে চরতে চুলোচুলি হাতাহাতির উপক্রম এমনো ভুরি ভুরি এক্সামপেল আর এই তখনই শুরু হয় আসল ভালো থাকার মানসিক যুদ্ধ বা চাপ।সারারাত নির্ঘুম অভিমানে, অথচ ব্রেকফাস্ট পরিপাটি রেডি, শার্টের সাথে পার্স ঘড়ি, লাঞ্চবক্স খবরের কাগজের আড়ালে দৈনন্দিন রুটিন, এসব এখন জাস্ট বাতিল,ক্লিশে। মনের ভেতর ভয়ংকর টর্নেডো অথচ বাইরে সব ফার্স্ট ক্লাস ভাব এইসব খেলার দিন শেষ আমাদের প্রজন্মের সাথে সাথে। একটা সময়ের পরে কেউ কারো নয় সবাই নিজের। জলপটি, হাতপাখা,পথ্যের বাটি, শিঙিমাছের ঝোল, চিকেন স্যুপ এসবই এখন কলিংবেল বাজিয়ে দিয়ে যায়। অর্থাৎ অদ্যকালের মোদ্দা কথা যাতে নিজের শরীর এবং মন আর স্নায়ুর ওপর চাপ তৈরী হয় যে চাপ নিতে পারা যায়না স্রেফ তার থেকে নিঃশব্দে কথা অপচয় না করে দূরে চলে যাও। বাড়ি ছেড়ে নয়, ছেলেমেয়েকে মানসিক চাপে ফেলে নয়, কিন্তু মানসিক ভাবে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখা। সেই কোন কালে স্কুলে যেন পড়ানো হয়েছিল- প্রবৃত্তি আর নিবৃত্তি, এও একরকম নিবৃত্তি। একা থাকাকে উপভোগ করা, চোখ বুজে নিজের ভেতরে বিশ্বস্ত থাকাটা বিলাসের মতো লোভনীয় হয়ে উঠুক। অন্যের সামান্য ক্ষতি না করে নিজে নিজের সাথে আনন্দে থাকো মামনি। আর সেটা যদি রপ্ত করে উঠলে জীবন ঝিঙ্গালালা।
0 Comments.