Tue 28 July 2026
Cluster Coding Blog

গদ্যের পোডিয়ামে (ধারাবাহিক) সুবীর সরকার

maro news
গদ্যের পোডিয়ামে (ধারাবাহিক) সুবীর সরকার

সুপুরি বনের ছায়ায় ছায়ায়

প্রথম পর্ব

সেই কবে কবিতা লিখতে এসেছিলাম।সেই কতকাল আগে কুয়াশায় জিপগাড়ি ঢুকে পড়বার মত জড়িয়ে গিয়েছিলাম লেখা ও পড়ার মস্ত এক ভুবনজোতে।

উত্তরাঞ্চলের শহর কুচবিহারে সেই শুরু হওয়া জার্নি আজও চলছে।

তবে কবিতা লিখবো,কবিতা আর লেখা পড়া ছাড়া আমার বেঁচে থাকাটা পুরো অর্থহীন এই চেতনা তৈরি হয়েছিল আমার ২১ বছর বয়সে।১৯৯১ সালে।

যদিও ৯১_৯৪ পর্যন্ত লেখা আমার সমস্ত কবিতা আমি নষ্ট করে ফেলেছিলাম।কেননা,যা লিখছিলাম সেগুলি কখনোই কবিতা হচ্ছে বলে আমার মনে হয় নি।১৯৯৫_তে লেখা কবিতা থেকে বাছাই করে ১৯৯৬_এ প্রকাশিত হয়েছিল আমার এক ফর্মার প্রথম কবিতার বই_"যাপনচিত্র"।প্রকাশক_"কবিতা পাক্ষিক"।

ইতিমধ্যে চিঠিপত্রের মাধ্যমে সারা বাংলার জেলা মহকুমা ব্লক জুড়ে তৈরি হয়েছিল আমার লেখা পড়ার বন্ধুরা।স্বজনেরা।অসম মহারাষ্ট্র ত্রিপুরা তৎকালীন বিহার মধ্যপ্রদেশ আর বাংলাদেশেও ছিলেন স্বজনেরা।

ক্রমে আমি ডুবে পড়ছিলাম একটা ঘোর আর স্বপ্নের ভেতর।

কবিতা পাক্ষিক,খনন,কৌরব,মথ,মৈনাক,কবিতা ক্যাম্পাস,পঁচিশে বৈশাখ,বালাসন, জাটিঙ্গা,বাংলাদেশের দ্বিতীয় চিন্তা,জীবনানন্দ এবং আরো কয়েকটি পত্রিকায় আমি তখন, মানে শুরুর দিনগুলিতে নিয়মিত লিখি।পাঠক তৈরি হতে থাকে।চিঠিতে সম্পাদক পাঠকের সঙ্গে আড্ডাও জমে ওঠে।

সে এক তুলকালাম পর্ব।

কিছু পরে,১৯৯৭ এর দিক থেকে নিয়মিত লিখতে থাকি "দৈনিক বসুমতী"_তে।দৈনিকবসুমতী তখন নিয়মিত প্রকাশ পাচ্ছে উত্তরের শিলিগুড়ি থেকে।

অস্বীকারের উপায় নেই,দৈনিক বসুমতী আমাকে উত্তরবাংলার বৃহত্তর পাঠকের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল।

এর পর থেকে উত্তরের লিটিল ম্যাগ গুলিতে নিয়মিত লিখতে থাকা।

এত কথা বলে ফেলতে হলো!

আসলে শুরুর দিনগুলির কথা লিখতে গেলে এই কথা না বলে যে কোন উপায় নেই!

এই লেখায় আমি লেখালেখির জীবনে সঙ্গ সান্নিধ্য পাওয়া কিছু অগ্রজের কথা বলবো।যারা আমাকে পুষ্ট করেছেন।আমার স্বপ্নের উনুনে গুঁজে দিয়েছেন কাঠ।আমাকে জেদী হতে,লড়াকু হতে,আমাকে ক্ষুধার্ত এক পাগল হয়ে উঠতে সাহায্য করেছেন।

তবে এই লেখায় একমাত্র কলকাতার সুব্রত রুদ্র

ছাড়া আমি কেবল আমার ইতিহাস_ভূগোলের মানে এই উত্তর জনপদের অগ্রজদের কথাই লিখবো।যারা আমার জীবনের,আমার পড়া লেখার জীবনের অবশিক অংশ।

ইতিমধ্যে কলেজে পড়বার সময় পরিচয় হয়ে গিয়েছিল ভগীরথ দাসের সঙ্গে।সদা উদ্যমী ভগীরথ দাস সম্পাদনা করতেন চমৎকার পত্রিকা "চারুবাক"। ভগীরথ দার সঙ্গে বন্ধুত্ব আমাকে বদলে দিছিল ভেতর থেকে।ভগীরথ দার উৎসাহেই আমি সম্পাদনা শুরু করি "সোনালী আকাশ"।সেই সময় পিঠে স্নেহের হাত রেখেছিলেন আমার দুই স্যার।উত্তম দত্ত আর অম্লানজ্যোতি মজুমদার।পরবর্তীতে আমাকে দেশ বিদেশের চিত্রকলার সঙ্গে পরিচয়ের নিবিড় পাঠ দেন অম্লান জ্যোতি মজুমদার।

আমি অম্লান বাবুর কাছে টিউশন পড়তে যেতাম।আর দেখতাম সুবিশাল গাম্ভীর্য নিয়ে বারান্দার টেবিলে বসে লিখছেন অম্লান বাবুর বাবা শ্রীযুক্ত অমিয়ভূষণ মজুমদার।মাঝে মাঝে ছবিও আঁকতেন তিনি।পরিচয়ের সাহস পাইনি তখন।অনেক পরে ১৯৯৭ এর শেষ দিকে আমি প্রবেশ করবার সুযোগ পাই অমিয়ভূষণের অন্দরমহলে।এটা নিয়ে আলাদা করে লিখবো।

ভগীরথ দার সৌজন্যে পরিচয় হয় কবি নিখিলেশ রায়ের সঙ্গে।বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সবুজ কালিতে লেখা নিখিলেশ রায়ের পোস্টকার্ডগুলি আমাকে শিখিয়েছে অনেক।

ইতিমধ্যে সখ্যতা গড়ে ওঠে ভানু ভট্টাচার্য, আশিষ ভট্টাচার্য,জয়ন্ত নাথ সরকার,সুনীল সাহা,আশিষ দে সরকার,রমেন দাস,উপেন দা প্রমুখের সঙ্গে।

ইতিমধ্যে কুচবিহার জেলার নিজস্ব এক বন্ধুমন্ডল তৈরি হচ্ছিল আমার।

চৈতালী ধরিত্রীকন্যা,অলোক সাহা,অভিজিৎ দাস,আমিনুর রহমান,রূপক সান্যাল,চন্দন কুমার চন্দ,স্বপন দেবনাথ,বিপুল আচার্য্য আরো কত নাম।

দল বেঁধে ঘুরি,হুল্লোড় করি,স্বপ্ন দেখি।

আর বুঝে যাই কবিতাজীবন আসলে তীব্র এক পাখিডাক

Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register