Tue 16 June 2026
Cluster Coding Blog

সম্পাদকীয়

maro news
সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয় 

আমাদের বাড়ীর পাশে বিশাল এক ফুটবলের মাঠ আছে। সকাল, রাত্রি সেখানে ছেলেরা ফুটবল পেটে। রাত এগারোটার সময়েও দেখা যায় মেসির মায়া অঞ্জন চোখে মেখে পায়ে বল নিয়ে ছুটছে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত তরুন তূর্কিরা। বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হল। এখন ওই মাঠের কোনায় পাশের বস্তি থেকে চাঁদা তুলে স্ক্রিন বসিয়ে খেলা দেখা চলবে। নিজেরা না পারলেও ব্রাজিলের বস্তির কোন কালো ছেলে যদি আবার উঠে আসে, সোনার তরীর পালে হাওয়া লাগিয়ে, সেই স্বপ্ন দেখবে ওরা। ওদের মত একজন কারুর সোনার তরীর পালে হাওয়া লাগলে লক্ষ কোটি স্বপ্নের উজান বাওয়া শুরু হবে। 

 আমাদের পাড়ার এক সুজন মানুষ আছেন, যিনি ওই মাঠের গরীব বস্তির বাচ্চাদের ফুটবল শেখান। ভোরবেলা ওই বস্তির বেশিরভাগ বাচ্চাদের কারুর দানাপানি জোটে না। তাদের মা, বাবারা বাবুদের বাড়ী কাজে যায় নয় দিন মজুরের কাজ করতে যায়। এই ফুটবল মাষ্টারমশাইয়ের বাড়ীতে তাদের ডিম, পাউরুটি, কলা, পরিজ বরাদ্দ থাকে। গিয়ে শুধু বলতে হবে 'স্যার পাঠিয়েছেন '। স্যারের অফিসের ভাত রেডি করতে করতে স্যারের গিন্নি এদের পুষ্টির দেখভাল করেন। স্যারের গিন্নির নিজের নাম করা হোম ডেলিভারীর ব্যাবসা এখন। করোনা লকডাউন প্রথম ওঠার পর এই ফুটবল টিমেদের জন্য প্রথম একা হাতে পঞ্চাশ জনের লাঞ্চ বানান ভদ্রমহিলা তারপর থেকেই উড়ান শুরু। তাদের একমাত্র ছেলে করোনার পর থেকেই প্রবাসে, সেও হোটেল ম্যানেজমেন্ট পাশ করে এখন মস্ত চাকরী করে। এমন উড়ান দেখলে চোখদুটো আরামের আতিশয্যে বুজে আসে। 

আর আছে আমাদের বাড়ীতে কাজে আসা গৌরী দি। গৌরী দি দের পাড়ার মাঝখানে একখানা বিশাল চাতাল দেওয়া শীতলা মন্দির আছে। মা শীতলা ছাড়াও সেখানে তেত্রিশ কোটি দেব দেবীর আরাধনা হয়।

  সকালবেলা সেখানে ক্ষীর, মিছরী, মাখনের দলা ভোগ হয়। গৌরী দি র কাছে শুনেছি এই বস্তির মেসি, পেলে, মারাদোনা, নেইমাররা এখানে পছন্দের দলে জিতলে, এক চামচ মাখন বেশি ভোগে দেবে বলে মানত করে ।

এইসব দেখেশুনে মনে হয় বেঁচে থাকতে গেলে ধর্ম নিয়ে , বিত্ত নিয়ে অযথা হিংসার ভুল বারবার না করে, দিব্যি বেঁচে থাকা যায় ।

ভালো থাকবেন সকলে।

শুভেচ্ছা নিরন্তর। 

ইন্দ্রাণী ঘোষ।

Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register