- 19
- 0
চতুর্থ ভাগ
ধাতু অধাতুই চেতনাই মুক্তির প্রকৃত আলো
আগের অংশে দেখেছি আদি মাতৃকোষের ধাতু ও অধাতুর যাদুতে কিভাবে জৈব -মানস-রাসায়নিক বিবর্তনের মাধ্যমে মস্তিষ্ক উন্নত হয়েছে। ব্যক্তির আধ্যাত্মিক কামনা বাসনা অর্থাৎ জন্মলাভের দুঃখ ভোগের থেকে মুক্তি অলৌকিক ভাবে সম্ভব না হলেও লৌকিক ব্যক্তি -সচেতনতা দুঃখের ভার লাঘব করতে পারে। এই দেহ প্রকৃতির মধ্যে ওই ধাতু ও অধাতুর যাদুতে কি বিপুল ক্ষমতা লুকিয়ে আছে সে বিষয়ে আলোকপাত করতে পারি ।
শক্তির ধারণা
বিজ্ঞান নিয়ে পড়েও অনেক মানুষ আধ্যাত্মিক ভাবাপন্ন। এটা একটা মানসিক স্বস্তি ও বিশ্বাস। আসলে ব্রহ্ম, ঈশ্বর, আল্লাহ বা গড্ যাই বলি না কেন তা এক ধরনের শক্তি। শক্তি (Energy/ Force) হলো কোনো ভৌত বা প্রাকৃতিক ব্যবস্থায় কাজ বা পরিবর্তন ঘটানোর সক্ষমতার ভিত্তি ,যার জোর তার উৎসে ও প্রক্রিয়ায়। তাই আধার ছাড়া শক্তি থাকতে পারে না। আধার বলতে কেবল দৃশ্যমান বস্তু হতে হবে যা নয়। আসলে প্রকৃতির বিভিন্ন ভৌত ব্যবস্থায় শক্তি তাদের গঠন ও অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তির স্থানান্তর ও রূপান্তর ঘটে, যা পদার্থের স্থিতিশীলতা, পরিবর্তন এবং জটিল সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। শক্তি নিজে কর্তা নয় , তবে এক শক্তি অন্য শক্তিকে সক্রিয় করতে পারে। ভৌত কণার পারস্পরিক সম্পর্ক শক্তির পরিমাণ, শক্তির বণ্টন, ক্ষেত্রের অবস্থা এবং তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য অনুসারে পরিবর্তিত হতে পারে। তবে পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ নির্ভর করে নির্দিষ্ট ভৌত ক্রিয়ার নিয়মের ওপর।
শক্তির রূপান্তর সামর্থ্য
সামর্থ্য (Capacity/Capability) হলো কোনো সত্তা বা সংগঠনের মধ্যে নির্দিষ্ট কাজ করার অন্তর্নিহিত বা অর্জিত যোগ্যতা ।যেমন একটা মানুষের মস্তিষ্কে ভাষা শেখার সামর্থ্য আছে।একজন সংগীতশিল্পীর সুর বোঝার সামর্থ্য থাকতে পারে।একটি বীজের গাছে পরিণত হওয়ার জৈবিক সামর্থ্য আছে।এখানে সামর্থ্য নিজে কোনো আলাদা পদার্থ বা শক্তির রূপ নয়। বরং বিভিন্ন বস্তুগত উপাদান ও তাদের সংগঠন থেকে উদ্ভূত একটি ক্ষমতা বা যোগ্যতা।
সামর্থ্যের রূপান্তর ক্ষমতা
আবার ক্ষমতা ও সামর্থ্য এক নয় ।ক্ষমতা (Power) হলো কোনো শক্তি বা সামর্থ্যকে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করে পরিবর্তন ঘটানোর বাস্তব সক্ষমতা । "ক্ষমতা" শব্দটি সামর্থ্যের তুলনায় একটু বেশি কার্যকর ও প্রয়োগমূলক। ধরা যাক,একজন মানুষের গণিত শেখার সামর্থ্য আছে। কিন্তু তার সেই সামর্থ্যকে শিক্ষা, অনুশীলন ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হলো যে সে জটিল গণিতের সমস্যা সমাধান করতে পারে। তখন তার সেই কার্যকর সক্ষমতাকে ক্ষমতা বলা যায়। অন্যদিকে সামাজিক ক্ষেত্রে "ক্ষমতা"র অর্থ আরও ভিন্ন হতে পারে - রাজনৈতিক ক্ষমতা, অর্থনৈতিক ক্ষমতা, প্রশাসনিক ক্ষমতা।এখানে অন্য মানুষ বা ব্যবস্থার ওপর প্রভাব বিস্তার ও পরিবর্তন ঘটানোর বাস্তব সক্ষমতা বোঝায়।
ধাতু ও অধাতু> প্রকৃতি>শক্তি>সামর্থ্য> ক্ষমতা।
শক্তি হলো পরিবর্তনের প্রাকৃতিক ভিত্তি; সামর্থ্য হলো কোনো সংগঠিত সত্তার সম্ভাব্য কার্যক্ষমতা; আর ক্ষমতা হলো সেই সামর্থ্যের বাস্তব ও কার্যকর প্রকাশ।ধাতু ও অধাতুর শক্তি আবেশের বাইরে কিছু নেই ।শক্তি কখনো আধারহীন নয়; শক্তির প্রকাশের জন্য কোনো না কোনো বস্তুগত বা ভৌত ভিত্তি আবশ্যক। প্রকৃতি সেই শক্তির প্রকাশ ও রূপান্তরের ক্ষেত্র।শক্তির মত সামর্থ্যও প্রকৃতির মধ্যে থাকা এমন একটা বিষয় ,যাকে ধর্ম বলতে পারি না (ধর্ম হলে তা গুণ বা বৈশিষ্ট্য হয়ে যাবে) এবং অনিবার্য ভাবে তা প্রকাশ পাবে তা নয়। প্রকৃতি মধ্যে তা হয়ে ওঠে এবং তারপর প্রকাশ পায় । পদার্থ বিজ্ঞানে শক্তি আছেই এবং তা পরিমাপ যোগ্য। প্রকৃতির ধাতু ও অধাতুর মধ্যে শক্তির সক্রিয়তায় একটা হয়ে ওঠা বা গড়ে ওঠা থাকে , তা সাংখ্য দর্শনের পুরুষ নয় , এটি সামর্থ্য । সামর্থ্য পরিমাপ যোগ্য নয় - তা কম হতে পারে, আবার বেশি হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। তবে এই সামর্থ্য সৃষ্টি না হলে ক্ষমতাও সৃষ্টি হবে না। সামর্থ্যের কার্যকর দিক হলো ক্ষমতা।
এখানে শক্তি → সামর্থ্য → ক্ষমতাকে একই জিনিস না ধরে পরস্পর-সম্পর্কিত তিনটি স্তর হিসেবে দেখা যেতে পারে । পদার্থবিজ্ঞানের শক্তি বা energy হলো পরিমাপযোগ্য ভৌত রাশি। কিন্তু “নৃত্যকলার শক্তি”, পদার্থবিজ্ঞানের energy নয়। এখানে “শক্তি” বলতে বোঝানো হচ্ছে - কোনো সংগঠন, প্রক্রিয়া বা সাংস্কৃতিক রূপের মধ্যে কার্য সৃষ্টি, পরিবর্তন ঘটানো, আকর্ষণ সৃষ্টি বা নিজেকে পুনরুৎপাদন করার অন্তর্নিহিত কার্যক্ষম সম্ভাবনা।অর্থাৎ নৃত্যের “শক্তি” মানে নৃত্যের মধ্যে থাকা আনন্দ, আবেগ, সামাজিক সংযোগ বা অর্থ উৎপাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন সম্ভাবনা।এই সম্ভাবনা যখন কোনো ব্যক্তি বা সমাজ অর্জন, অনুশীলন, শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও সামাজিক পরিবেশের মাধ্যমে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে শেখে, তখন সামর্থ্য তৈরি হয়।যেমন একটি সমাজে নৃত্যের আনন্দদায়ক সম্ভাবনা থাকতে পারে। কিন্তু নিয়মিত অনুশীলন, শিক্ষকতা, অনুকরণ, অনুষ্ঠান এবং প্রজন্মান্তরে সঞ্চালনের ফলে-নৃত্যের সম্ভাবনা থেকে নৃত্যচর্চার সামর্থ্য হয়। সামর্থ্য যখন এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ব্যক্তি বা সমাজ অন্যদের তুলনায় বিশেষ মাত্রায় কোনো কাজ সৃষ্টি, নিয়ন্ত্রণ, প্রসারিত বা রূপান্তর করতে পারে, তখন তাকে ক্ষমতা বলা যেতে পারে।
নৃত্যের সম্ভাবনা → অনুশীলন → দক্ষতা → নতুন রীতি/তাল/ভঙ্গি সৃষ্টি → প্রজন্মান্তরে সঞ্চার → বিশেষায়িত নৃত্যসংস্কৃতি ।
এভাবে একটি জনগোষ্ঠী কোনো বিশেষ শিল্পে বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ক্ষমতা অর্জন করতে পারে। তবে দাবি করা হয় একজন নৃত্যশিল্পীর জৈবিক বৈশিষ্ট্যের কিছু অংশ বংশগত হতে পারে—যেমন শারীরিক গঠন, কিছু motor বা perceptual predisposition ইত্যাদি। কিন্তু নৃত্যের কৌশল, তাল, ভঙ্গি, রীতি, প্রতীক ও নান্দনিকতা DNA-তে উত্তরাধিকারসূত্রে যায় না।এগুলি প্রধানত যায় :: সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার → অনুকরণ → শিক্ষা → অনুশীলন → সামাজিক স্বীকৃতি → প্রজন্মান্তর সংরক্ষণ ও পরিবর্তন-এর মাধ্যমে।
একটি পরিবারের কোনো নৃত্যচর্চা যদি অন্যদের আনন্দ দেয়, সামাজিক অনুষ্ঠানে গ্রহণযোগ্য হয়, তারপর অনুকরণ করা শুরু হয়, তাহলে তা ব্যক্তিগত আবিষ্কার → পারিবারিক চর্চা → গোষ্ঠীগত গ্রহণ → সামাজিক সংক্রমণ → প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা → প্রজন্মান্তর সংরক্ষণ → নতুন সৃষ্টির মাধ্যমে রূপান্তর ঘটতে পারে।
শুধু সাংস্কৃতিক দিক নয় , মানুষ চর্চা করে এমন সব কিছুতেই মানুষের চূড়ান্ত সাফল্যের সম্ভাবনা তার নিজের মধ্যে লুকিয়ে আছে । বলা হয় ,এ জীবন দুঃখময় । আমি ভাবছি কেন ? আমি বিশ্বাস করছি কেন? এটাও একটা বংশ পরম্পরার চর্চা,যা আমাদের মিমে গেঁথে আছে । আমরা ভাবছি না কেন,এ জীবন সুখময় ? আসলে আমাদের সুখের চাহিদা এতখানি যে সামান্য দুঃখ সহ্য করতে পারি না। আবার এটাও সত্যি আমার সুখই দুঃখ টেনে আনে । যারা খেতে ভালো বাসে, তাদের খাওয়া জনিত অসুখ বেশি, যারা মানুষকে ভালোবাসে, তাদের মানুষ জনিত দুঃখ বেশি।যারা নাম পছন্দ করে, তাদের নামেই দুঃখ বেশি। কিন্তু আমরা কেউ বুঝতে চাই না দুঃখটাই আমাকে সুখের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। যার মাথা গোঁজার ভালো বাড়ি নেই, একদিন সে বাড়ি করছে। যাদের খাওয়া জোটে না , খাদ্যের অন্বেষণে তাদের একদিন খাওয়া জোটে। অথচ আমরা বলব ,এ জীবন দুঃখময়। আসলে আধ্যাত্মিক দুঃখ কোনো দুঃখই নয় । ভগবানের করুনা পায়নি বলে , আমার এত দুঃখ। সত্যি করে বলুন তো, আপনি নিজেকে পাবার জন্য কী করেছেন ? যে নিজেকে গড়তে পারে না,সে ভগবানের করুনা পাবে কিভাবে? করুনা করার মতো ক্ষেত্র কোথায় ? শুকনো মাঠে বীজ ছড়ালে কি ফসল ভালো পাওয়া যায়? যুগ যুগ ধরে মাটি প্রস্তুত করা হয়েছে বলেই ভগবান সেখানে কৃপা করেন । আসলে আমাদের দুঃখটা মানসিক। শ্রম করলে সামর্থ্য তৈরি হয়। সেটা ফসল ফলানোর । ফসল ফললে দুঃখ দূর হয় না, তাকে বাজারী করণ না করা পর্যন্ত ক্ষমতার বিকাশ হয় না। বেশিরভাগ চাষীর সঙ্গে ক্রেতার প্রত্যক্ষ সংযোগ নেই। ফলে মাঝখান থেকে দালালে সব সুখ খেয়ে ফেলছে। পরনির্ভরশীলতার এটাই ফল। আমি ডাকব আমার ঈশ্বর বা ঠাকুরকে, সেখানে ব্রাহ্মণ কেন বাপু ? আসলে পরনির্ভরশীলতাই দুঃখের কারণ। ভগবানের ওপর নির্ভর করাও পরনির্ভরশীলতা । এই পরনির্ভরশীলতার কারণে কর্ম যথার্থ ফল দেয় না, জন্মান্তর শুদ্ধ হয় না।এই পরনির্ভরশীলতার ফাঁদ থেকে মুক্তি পাবার জন্য চাই ব্যক্তি সচেতনতা,এক জন্ম নয় - প্রজন্মের পর প্রজন্ম।
ব্যক্তি সচেতনতা
ব্যক্তি সচেতনতা আসলে বস্তু সক্রিয়তা। বস্তু সক্রিয়তাকে ঘিরে আছে ভাববাদী চেতনা। ন্যায় অন্যায়, পাপ পূণ্য ইত্যাদি নানাবিধ সামাজিক, আধ্যাত্মিক, নৈতিক চেতনার দ্বারা ব্যক্তি -সচেতনতা নিয়ন্ত্রিত হয় বলেই বিভ্রান্তি। যেমন ধরা যাক আমি একান্নবর্তী পরিবার থেকে বেরিয়ে এসে নিজের স্ত্রী পুত্র নিয়ে পৃথক ভাবে থাকার ব্যবস্থা করলাম। এর আগে এবং পরে অশান্তি হোক বা না হোক(একান্নবর্তী পরিবারে ),আমাকে অনেক কৈফিয়ৎ -এর মুখোমুখি হতে হবে। যত কৈফিয়ৎ এর উত্তর দেব তত আমার মধ্যে থেকে পজিটিভ এনার্জি ব্যয় হবে। পরিবর্তে কিছু নেগেটিভ এনার্জি ভেতরে ঢুকিয়ে নেব ।যত তর্ক চলবে তত পজিটিভ এনার্জি বা সুকৃতি নষ্ট হতে থাকবে, তার কয়েকগুণ বেশি সুকৃতি বা ভালো কাজ করা বা স্বস্তিতে থাকার পরিমাণ হারাব । আমার মধ্যে আম্লিক উপাদান বাড়তে থাকবে,( উত্তেজনা বাড়বে) । আমি যুক্তি দিয়ে কাউকে বোঝাতে পারবো না, সন্তুষ্ট করতে পারবো না। যদি কোনো উত্তর না দিয়ে আমি হেসে চলে আসি বা এড়িয়ে যাই , কখনো কখনো ক্ষমা চেয়ে যদি নিতে হয় ,নেব - তাতে বিশেষ ক্ষতি হবে না। যে বা যারা ক্ষমা চাইবার দাবি তোলে , বাস্তবে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর কোনো দিন সেই মানুষটার সহযোগিতা পাবে না, তার কাছেই যেতে পারবে না। যে ক্ষমা চেয়ে নেয় , সাময়িক সে কষ্ট পেলেও সে কিন্তু প্রয়োজনে যাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিল তাদের কাছে সাহায্য চাইতে যেতে পারবে । তাই ক্ষমা করে দেওয়াই হলো সবদিক বজায় রাখার পন্থা।এটাই হলো বস্তুগত ব্যক্তি -সচেতনতা ।এটা যত বৃদ্ধি পাবে ব্যক্তির শান্তি স্বস্তি কর্মক্ষমতা কর্মসাফল্য বৃদ্ধি পাবে । তাহলে প্রশ্ন জাগবে তাহলে কি ব্যক্তি নীরব অসামাজিক হয়ে পড়বে ? না সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে ব্যক্তির শান্তি সুখ আনন্দ নিরাপত্তা সব রয়েছে। তাই সে সেটাকে রক্ষা করবেই এবং কিছু উপজাত অস্বস্তিকর উপাদান সৃষ্টি হবেই এবং তার দমন ব্যক্তি নিজেই করবে। কেননা ব্যক্তি ছাড়া এটা করা বাইরের কারো দ্বারা সম্ভব নয়। সব পাপ কামড়ায় না, কিন্তু ফোঁস করতে ছাড়ে না।বাইরের কারো ওপর ভরসা করলে পরিণামে অশান্তি অস্বস্তি টেনে আনবে । সন্তান পড়ে না, বদমায়েশী করে বলে মা তার বাবার কাছে অভিযোগ জানালো, কিন্তু বাবা যখন মারধর শুরু করে দিল - মা থাকতে না পেরে বাবার ওপর চড়াও হলো । পরনির্ভরশীলতার ফল এইরকম হয় ।
ব্যক্তি সচেতনতার ফল
আরো একটা আত্ম পর্যবেক্ষণের উদাহরণ দেখা যেতে পারে। কোনো ব্যক্তি খুব দুধ খেতে পছন্দ করে। কিন্তু তার গ্যাস ,অম্ল পেটেব্যাথা, পটির গণ্ডগোল লেগেই আছে। সেই সঙ্গে চিকিৎসাও করিয়ে চলেছে। একসময় বিরক্ত হয়ে কিসের জন্য পেটের এই গণ্ডোগোল তা বের করতে গিয়ে অন্য কিছু খাবারের সঙ্গে দুধও বন্ধ করলো । দেখলো কিছুটা যেন ভালো আছি। কিন্তু বাড়ির লোক অশান্তি শুরু করে দিল। আবার দুধ খাওয়া শুরু। প্রথম কয়েক দিন কিছু হলো না। বাড়ির লোকেরা যে ঠিক বলছে তা প্রমাণিত হলো। কিন্তু না, আবার কয়েক দিন পরে আবার সেই আগের অবস্থা । এবার সে দৃঢ়ভাবে দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য বন্ধ করে দিলো এবং আগের অবস্থার প্রাবল্য কমে এলো। শেষে ব্যক্তি সচেতনতায় তার পেটের অসুখ থেকে কিছুটা মুক্তি সম্ভব হলো। এইভাবে ব্যক্তি আপন সচেতনতায় জীবন দুঃখের হাত থেকে মুক্তি পেতে পারেন। পুনর্জন্মের হাত থেকে মুক্তি পাবেন না কখনো। তাহলে বিয়ে বন্ধ করতে হবে।কেননা পুনর্জন্ম কোনো পাপের বা কর্মের ফল( ভাববাদী অর্থে) নয়, এটা জন্মের ধারাবাহিকতা। বস্তুবাদী মাতৃকোষে বংশবিস্তারের ধারায় মা ও বাবা তাঁদের সন্তানদের মধ্যে পুনরায় জীবন ধারণ করেন এবং করবেন,পরম সন্তও - যদি তিনি বিয়ে করেন।
নিজের মুক্তি নিজের কাছে
মুক্তি,সে যেখান থেকেই হোক না কেন,আত্ম সক্রিয়তা ছাড়া তা কখনো কারো পক্ষে সম্ভব নয়। দেহস্থ ধাতু ও অধাতুর বিশ্লেষ ও সংশ্লেষ না ঘটলে কোনো ভালো কিছু যেমন ঘটে না, অনুরূপ খারাপ কিছুও ঘটে না । যে যেদিকে সক্রিয়, তার সেইদিকে সাফল্য। তাই খুব বড় সাধু যেমন আছেন, খুব বড় ঘাতক শয়তানও আছে । সবটাই সাধনা। দস্যু রত্নাকর সুস্থ মানুষ হতে চেয়েছিলেন বলেই বাল্মীকি হতে পেরেছিলেন - এখানে দ্বিতীয় কারো হাত নেই । ছোটবেলা থেকে যে ছেলেটা বা মেয়েটার পড়ার জন্য মা বাবার কী না অশান্তি,সে সকলের আগে চাকরি পেয়ে দাঁড়িয়ে গেল। যে বই ছেড়ে উঠত না, তাকে বেগ পেতে হলো । যখন সে প্রকৃত পড়াশোনা করলো , ঠিক চাকরি পেয়ে গেলো। বাইরে থেকে কারো ভেতরের সক্রিয়তা বোঝা যায় না। যে সত্যি সত্যি পড়াশোনা না করে চ্যাংড়ামো মেরে গেছে ,সে চাকরি না পেলেও সেলস্ ম্যান বা বড় দালাল হয়ে গেছে । জীবনে কোনো সক্রিয়তা ব্যর্থ হবার নয় , সেখানেই তার মুক্তি। সারা জীবন দালালীপণায় মাথা পাকিয়ে আধ্যাত্মিক মুক্তি চাইতে গেলে ধর্মের ব্যবসাটা ভালো হবে, শান্তি পাওয়া শক্ত ।
0 Comments.