Sun 02 August 2026
Cluster Coding Blog

হৈচৈ গদ্যে সমীর বরণ দত্ত

maro news
হৈচৈ গদ্যে সমীর বরণ দত্ত

পাগলা বিড়াল ছানাটি

আমাদের বিড়ালটির এবারও দুটো বাচ্চা হয়েছে। একটা সাদা কালো একটা সাদা লাল। তারা ছিল কাকিমার রান্নার ঘরের কয়লার বাক্সে। কয়েকদিন পর বাচ্চা দুটিকে মুখে করে নিয়ে এলো আমাদের বাড়িতে। আমাদের বাড়ি কাকিমার রান্না ঘরের পাশে। বাচ্চা দুটিকে নিয়ে আসবার দৃশ্যটি খুবই অপূর্ব। হেঁটে যখন আসছিল তখন পা ফেলছিল ঠিক চিতা বাঘের মত। বেশ দুদিন কেটে গেল। বেড়ালটির কি 

অসুবিধা হচ্ছিল জানিনা। সে তার সাদা লাল রঙের বাচ্চাটিকে ওই ঘরের ব্যাংকের উপরে তোলবার চেষ্টা করল। কিন্তু তার মুখ থেকে বাচ্চাটি নিচে পড়ে গেলো। বাচ্চাটি মরার মত পরে রইল। আমি বাচ্চাটিকে ঘরের এক কোণে রেখে দিলাম। কাজলা দি জল দিল, দুধ খায়ালো। রাত্রে বাচ্চাটির জ্ঞান এলো। পরদিন হাঁটা শুরু করল তবে টলতে টলতে মাতালের মতো। কিন্তু বাচ্চাটা শরীরে যতই জোর পেতে লাগলো কেমন যেন খিটখিটে মেজাজের হয়ে গেল। আমাদের পায়ের শব্দ শোনা মাত্র টলতে টলতে এগিয়ে আসছে । মুখে অবিরাম ম্যাও ম্যাও আওয়াজ। মাঝে মাঝে ফিরে এসে ফোস ফোস করছে । আরও কয়েকটা দিন গেল। বাচ্চাটি শরীরে বেশ জোর পেল। খিটখিটে মেজাজটাও বেড়ে গেল । যখন ঘরে কেউ থাকতো না তখন বাচ্চাটি চুপচাপ থাকতো । কিন্তু যখনই ঘরে কেউ হাঁটাচলা করত । তখনই টলতে টলতে আসতো পায়ের 

কাছে। তখন মা বিড়ালটি মুখে করে নিয়ে যেত ঘরের কোনে। বাচ্চাটির মুখে অবিরাম ম্যাও ম্যাও আওয়াজ।

আমি কাজলা দিদিকে জানালাম বাচ্চাটি মনে হয় পাগল হয়ে গেছে। কাজলাদি প্রশ্ন করল - " কি করে বুঝলে ? আমি বললাম অত উপর থেকে নিচে পড়ে গেছে। ওর মাথায় মনে হয় প্রচন্ড চোট লেগেছে। ফলে মাথা খারাপ হয়ে গেছে। কাজলাদি গুছিয়ে কোন উত্তর দিতে পারল না ।

শুধু বলল - " কি জানি , কিছুই খাচ্ছে না। কি যে হলো ! "

Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register