- 7
- 0
প্রতিদিন দই খাচ্ছেন? স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে না তো?
যেভাবে দিনদিন বিভিন্ন fast food ও junk food এর প্রভাবে মানুষ স্থূল হচ্ছে, ক্রমশঃ বাড়ছে ওবেসিটিতে ভোগা মানুষ, সচেতন মানুষ তাই প্রায়শই দই খাচ্ছেন প্রতিদিন। আসুন মেনে নেওয়া যাক দই খেলে কি উপকার ও অপকার হতে পারে। সাধারণতঃ আমাদের প্রতিদিনের খাবারে দই রাখা খুব উপকারী। দই তৈরী হয় দুধ থেকে। এতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন B-2, B-12, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম থাকে যা পুষ্টিতে ভরা। দই একটি হালকা ও দুধের চেয়ে সহজপাচ্য। আমরা জানি টক ও মিষ্টি দুই ধরণের দই বাজারে পাওয়া যায়। টক দই, না, মিষ্টি দই, কোনটা শরীরের পক্ষে ভাল? দই মূলতঃ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোবায়োটিক, যা আমাদের পরিপাকতন্ত্র ভাল রাখে। দইয়ে ল্যাকটোব্যাসিলাস নামক ব্যাকটেরিয়া থাকে যা আমাদের হজমশক্তিতে সাহায্য করে। দইয়ে থাকা ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন-ডি আমাদের হাড়কে শক্তিশালী রাখে। দই সহজে হজম হয় বলে সব বয়সের মানুষ খেতে পারে। দই শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। প্রকৃতপক্ষে টক দই বা মিষ্টি দই, দুইয়ের পুষ্টিগুণ সমান। অনেকে মিষ্টি পছন্দ করে বলে মিষ্টি দই বেশী পছন্দ করে। কিন্তু মিষ্টি দইয়ের চেয়ে টক দই শরীরের পক্ষে ভাল। কারণ মিষ্টি দইয়ে চিনি থাকে যা শরীরের পক্ষে ভাল নয়। দই আমাদের রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। দইয়ের উপাদান আমাদের ত্বককে মসৃণ ও উজ্জ্বল রাখে। দই আমাদের খাদ্যপ্রাণ। আমাদের অনেকের দেহের সংবেদনশীল অঙ্গে ছত্রাক আক্রমণ করে। দই এই সংক্রমকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে। দই সংবেদনশীলতা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়ারিয়া, কোলন ক্যানসার ও অন্ত্রের সমস্যা দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করে। নিয়মিত নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় দই খেলে তা শরীরের চর্বি এবং ওজন কমাতে ভীষণভাবে সাহায্য করে।
যাদের ডায়াবেটিস নেই এবং কোলেস্টেরল স্বাভাবিক, তারা নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় মিষ্টি দই খেতেই পারেন। আবার যাদের ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরলের সমস্যা আছে, তারা টক দই খাবেন। মিষ্টি দইয়ে চিনি থাকায় ক্যালরি বেড়ে গিয়ে ওজন বৃদ্ধি ঘটতে পারে। ওজন কমাতে টক দইয়ের বিকল্প নেই। যারা একদম টক দই খেতে পারেন না, তারা বিভিন্ন ফলমূল দিয়ে খেতে পারেন। প্রাতঃরাশে বা দুপুরের খাবারে দই খেতে হবে। রাতে দই না খাওয়াই ভাল। প্রতিদিন এক কাপ দই খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল। আবার এটাও দেখা যায় দই খাওয়ার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। যেমন - দই খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়তে পারে, যদি এক কাপের বেশী দই খান। দই থেকে পেট ফাঁপতে পারে, যাদের ল্যাকটোজে অসহিষ্ণুতা আছে। শরীরে ল্যাকটেজ এনজাইমের ঘাটতি থাকলে এটা হয়। অনিয়ন্ত্রিত মাত্রায় খেলে অ্যাসিডিটি বাড়তে পারে। কারণ এটি হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। যারা বাত বা জয়েন্টের ব্যথায় ভোগেন, তাদের দই খাওয়া কমাতে হবে। কারণ দইয়ে কেসিন থাকে যা ব্যথা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও যাদের ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ রয়েছে তারা মিষ্টি দই খাবেন না। ক্যানসার আক্রান্তরাও মিষ্টি দই এড়িয়ে চলুন।
0 Comments.