- 7
- 0
হামদোর ভাই মামদো
ইলিশ মাছভাজা খাওয়ার গল্প তো শুনলে। এর পর কি হলো তা জানতে ইচ্ছে করছে না!
হামদো ইলিশ মাছ খেয়ে এতো এতো মজা পেয়েছিল যে খুশিতেই তার ভাই মামদোর কথা মনে পড়ে গেলো! তার পরের দিন সে মামদো বাড়িতে গিয়ে হাজির। দাদাকে দেখে ভাই আনন্দে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরলো।
মামদো থাকতো একশো ক্রোশ দূরে ধুধুনিয়া পাহাড়ের মাথায়। ধুধুনিয়া পাহাড় টি বেশ উচু আর দুর্গম জায়গা। মানুষ জন ঐ পাহাড়ে একেবারেই আসে না। কিন্তু অপূর্ব সুন্দর এই পাহাড়টি! সুউচ্চ পাহাড়ের মাথা থেকে ঝরনা নেমে এসেছে। ঐ ঝর্ণা থেকে সারাদিন ঝিরঝির করে জল জল পড়ে মিষ্টি সুরে। পাহাড়টি অনেক গাছ গাছালিতে ভরা। পাহাড়ে র ঠিক নিচে কয়েশ ফুট হবে শুধুই শিমুল পলাশ শালের জঙ্গল অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। পাহাড়ের মাথা থেকে দেখতে অপূর্ব লাগে! পাখির কলকাকলিতে পাহাড় ভরে থাকে। পাহাড়ের নিচের দিকে প্রচুর বনমোরগ বাসা বাধে। মাঝে মাঝে ময়ূর ময়ূরীর দেখা মেলে।
হামদো পৌঁছে চারিদিকে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতে লাগলো। ভোরের দিকে বৃষ্টির মধ্যেই তার চোখ আটকে গেল নিচে কয়েকটি ময়ূর পেখম মেলে নাচতে শুরু করে দিয়েছে। সেই দৃশ্য দেখে হামদোর মন ভরে গেলো।
মামদো থাকত তার স্ত্রী গুয়েপেত্নীকে নিয়ে। আবার নাম শুনে তোমরা যেন নাক শিটকোবে না। নাম গুয়েপেত্নী হলেও দেখতে শুনতে ভালো। তাদের কোনো সন্তান ছিলো না।
গুয়েপেত্নী আবার লোকজন এলে খুব খুশি হতো। সে মামদোকে বললো, দাদার জন্য একটা আস্ত ছাগল নিয়ে এসো। ছাগলী দুধ দুয়ে নেওয়ার পর ঐটাকে কুচি কুচি করে কেটে ছাগলীর মাঙসের পোড়া, ভাজা, আর ঝাল বানাবো।
আসলে ভূতেদের তো আর মানুষের মতো খেটে খেতে হয় না। মানুষের জিনিস পত্র থেকে শুরু করে গোরু ছাগল সব রাতে চুরি করে চলে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো ভূতেদের এই চুরি মানুষ আজ পর্যন্ত ধরতে পারে নি।
যেমনি বলা তেমনি কাজ। কয়েক মিনিট পরে মামদো একটি বড় পাহাড়ী ছাগলী নিয়ে এসে হাজির হলো। হামদোর খুব বুদ্ধি! ছাগলী যাতে ডাকতে না পারে, মুখটা কলার ছোটা দিয়ে বেধে এনেছে। গুয়েপেত্নী সঙ্গে সঙ্গে বড়ো বালতি নিয়ে দুধ দুইতে লাগলো। ছাগলীর এক বালতি দুধ তিন জনে ভাগ করে ঢকঢক করে খেয়ে নিলো।
তোমরা কি জানো ছাগলের দুধ কতো পুষ্টিকর পানীয় তোমরা জানো কি? যদি তোমাদের কারোর এই দুধ খাওয়ার সুযোগ আসে, খেতে ভুলোনা।
তারপর দুই ভাই মিলে ঐ ছাগলী টাকে কেটে কিছু ছোটো ছোটো টুকরা আর কিছু বড়োবড়ো টুকরো করলো। বড়ো টুকরো গুলো মশলা মাখিয়ে গুয়েপেত্নী ভালো করে পুড়িয়ে কলা পাতায় রাখলো। দুই ভাইকে ডেকে বললো, এসো আমরা তিন জনে মিলে পোড়া মাঙস দিয়ে টিফিন করি। তিনজনে তিনটে বড়ো টুকরো কড়মড় করে চিবিয়ে খেতে লাগলো। তারা কেউ খেতে খেতে কোনো কথা বললো না। কারণ খাওয়ার সময় কথা বলতে নেই!এটা ভূতেরা ও জানে। আমরা অনেকে ই জানলেও তা মানি না! ভূতেরা সবাই তা মেনে চলে। তাই তাদের কখনো বিষম লাগে না।
খাওয়া শেষ হয়ে যাওয়ার পর তারা রগড়ে রগড়ে হাত মুখ ধুয়ে ফেললো। দাতে কাঠি দিয়ে দাত পরিষ্কার করলো খুব সাবধানে।
তারপর হামদো তার ভাই মামদোকে বললো, পরানটা জুরিয়ে গেল এমন মশলা মাখানো মাঙস পোড়া খেয়ে। এমন টি আমি জম্মেও খাইনি।
0 Comments.