- 22
- 0
হিমালয় ও বিন্ধাচল
পাহাড় বৃদ্ধি পায় কিন্তু সব পাহাড় সমানভাবে বৃদ্ধি পায় না। হিমালয় যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, সেই অনুযায়ী অন্য পাহাড়ের বৃদ্ধি হয়নি। পাহাড় বৃদ্ধি পায় পার্শ্ব চাপের ফলে বিন্ধ্যাচল হিমালয়ের থেকে অনেক পুরানো পাহাড় । বিন্ধ্যাচল কে ছাড়িয়ে অনেক উপরে উঠে গেছে হিমালয় । এই ব্যাপারে একটা পৌরাণিক গল্প আছে। বিন্ধ্যাচল হিমালয়ের থেকে অনেক পুরনো হলেও হিমালয়ের থেকে নিচু কেন ? এই কথারই উত্তর আছে এই গল্পে । বিন্ধ্যাচল প্রথমে হিমালয় থেকে অনেক উঁচু ছিল। এর জন্য বিন্ধ্যাচল এর খুব অহংকার ছিল । সে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে সূর্যকে ঢেকে দিয়ে বলতো " আমার ক্ষমতা দেখেছো। পুরো দেশটাকে অন্ধকার করে রেখেছি," দেশবাসীরও খুব অসুবিধা হতো। দেশবাসীরা নারদের মাধ্যমে ব্রহ্মার কাছে আবেদন করলেন । যাতে বিন্ধ্যাচল এর বৃদ্ধি কমে। এবং কিছুটা ছোট হয়ে যায়। ব্রহ্মা সব দেবতাদের নিয়ে আলোচনায় বসলেন । আলোচনায় জানা গেল - অগস্ত মুনির ভক্ত
হচ্ছেন বিন্ধ্যাচল । মুনিকে নির্দেশ দেওয়া হলো তুমি বিন্ধ্যাচল এর সামনে গিয়ে উপস্থিত হও । তোমাকে দেখে বিন্ধ্যাচল মাথা নিচু করে নমস্কার করবে । তখন তুমি বলবে ভক্ত বিন্ধ্যাচল আমি একটু পরে আসছি। আমি যতক্ষণ না আসি ততক্ষণ তুমি মাথা নিচু করে থাকবে। অগস্ত মুনি সেই যে গেলেন আর এলেন না । বিন্ধ্যাচলের ও আর মাথা উঁচু করা হলোনা । সেই থেকে এখন পর্যন্ত বিন্ধ্যাচলমাথা নিচু করেই আছে। এর থেকে অগস্ত যাত্রা কথাটা চালু হয়েছে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় বলা হয় সব পাহাড় সমানভাবে বৃদ্ধি পায় না । পাহাড় তিন শ্রেণী। ভঙ্গিলো, ক্ষয়জাত
আর সঞ্চয়জাত । বিজ্ঞান মতে - হিমালয় যেখানে অবস্থিত, দশ কোটি বছর আগে সেখানে টেনিস নামে এক বিরাট অগভীর সমুদ্র ছিল । গান্ডয়ানাল্যান্ড নামে এক প্রাচীন ভূখন্ডে ভরাট হয়ে যায়। এবং সঞ্চিত পলি পাললিক শিলায় পরিণত হয়। ওই পাললিক শিলা নিচের দিকে চাপ দিতে থাকে ফলে আঙ্গারল্যান্ড এগিয়ে আসতে থাকে। উপরের দিকে উঠতে থাকে এবং এখনো বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই রকম ধরনের পর্বতকে সঞ্চয়জাত পর্বত বলে। রকি, পর্বত ঠিক এরকম। যেমন একটা মাদুরকে দুহাত দিয়ে চাপ দিলে, মাদুরের মাঝামাঝিটা উপরে উঠে যায় । বিন্ধ্যাচল ও আরাবল্লী এরা ক্ষয়জাত পর্বত। এদের বৃদ্ধি তো হয়ই না। বরং ছোট হয়ে যায়।
0 Comments.