- 5
- 0
আলোপথের খোঁজে
কাল সারারাত বেহুঁশ জ্বরের ঘোরে তোমাকে দেখেছি ৷ যে জ্বর পোড়ায়,পোড়ে এক নিখুঁত অনুষঙ্গ নির্মাণ করে ,চোখ বন্ধ করে তার ছোঁয়া টের পেলাম ৷ ঘোরের ভিতর হারিয়ে যেতে যেতে অগণিত মায়ানক্ষত্রের সম্মুখে এসে দাঁড়ালাম ৷ তাদের ঠাণ্ডা শরীর থেকে অশরীরী আলো বেরিয়ে আসছে ৷কত যুগ আগেই ওরা মরে গিয়েছিল কিন্তু এখনও স্বপ্রতিভ ,শান্ত আর স্থির ৷
রাত গভীর হতেই তুমুল হাওয়ার দাপটে থিকথিকে ঘোলাটে মেঘ সরে গেল ৷ স্পষ্ট দেখতে পেলাম,অপরিচিত অবয়বে সালাংকারা মিথ্যে অহমিকা, যা এতকাল অবোধের মতো হৃদয়ের আনাচে কানাচে জমাট বেঁধেছিলো ৷ ঠিক যেমন প্রবল ঝাঁকুনিতে সযত্নে বোনা বাবুইপাখির বাসা ওলোটপালট হয়ে যায় অথবা ঝোড়ো হাওয়ায় বৃন্তচ্যুত হয় খয়েরি পাতাটি—
আমার ভিতরের অবাঞ্ছিত জন্মদাগ থেকে একে একে পাপড়ির মতো তারা খসে পড়ল ৷
মনগড়া ভিতের উপর অহং ইমারত ঝুঁকে পড়তে দেখে, মনে হলো আমি বুঝি ছুঁয়ে ফেলেছি মহাকাব্যের কাল ৷চারদিকে বনস্পতির উদাত্ত শ্লোক,দামাল কালো মেঘপুঞ্জ ৷সেখানে অমৃতবর্ষণে ভিজে ওঠে মহাকালের জটাজাল ৷ তিনি শেকড় হয়ে জড়িয়ে থাকেন আদিম উদ্দামতা ৷
ধীরে ধীরে রাত গড়িয়ে চলে ৷ তীব্র আস্ফালনে মুহূর্তরা দাপিয়ে বেড়ায় ৷স্থল-জল- অন্তরীক্ষে তার প্রতিধ্বনি শোনা যায় ৷ ৷ সুসজ্জিত জতুগৃহের দাবানলের আঁচ ক্রমে ঘিরে ধরে ৷ সে আগুন বিদ্ধ করে , শুদ্ধ করে ৷এই শ্বাশত বার্তাটুকু দেওয়ার জন্যই কি তবে আদিম নক্ষত্র মায়াজালে বেঁধে রেখেছিলো?
দিগন্তের ঢাল বেয়ে গড়িয়ে আসা আয়ুরেখার কাছে নত হলাম ৷প্রাচীন বনস্পতি , ফুরিয়ে আসা স্বপ্ন , দূর দূরান্তে ভেসে যাওয়া মেঘদল ,ক্ষমাসুন্দর প্রেম পরখ করবো বলে বোধের অতীত থেকে সরে দাঁড়ালাম ৷
স্বচ্ছতোয়ায় স্নান সেরে অহং ধুয়ে বনজ্যোৎস্নার মতো তরল হলাম ৷ নিরাপদ হলো আশ্রয় ৷
আরণ্যক গল্পের ছত্রে ছত্রে শব্দের শিথিলতা , মাটির আলগা বাঁধন ৷তবু সেখানে আকাশ মন্ত্র দেয় ৷সেই অসীমের ঔদার্যে ডানা মেলে দেন স্বয়ং মহাকাল ৷ আমিও ধ্যানগ্রস্থ হয়ে স্বপ্ন দেখি — এক সাঁকো ,যেখানে সূর্যের আলোও এঁকেবেঁকে চলে ৷ তার শরীরে ভূত- ভবিষ্যত আঁকা ৷ ফেরেস্তারা সে পথ ধরে ঘরে ফিরে যান ৷
0 Comments.