Sun 26 July 2026
Cluster Coding Blog

হৈচৈ গল্পে অশোক কুমার ঘোষ

maro news
হৈচৈ গল্পে অশোক কুমার ঘোষ

পাতলা জামাইষষ্ঠী 

 কিছু দিন আগে সুকন্যার বিয়ে হয়েছে । ফাল্গুনের শেষের দিকে।জামাই ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার‌ । এম টেক করেছে। কোলাঘাট থার্মালে চাকরি করেন।বাগনান বাড়ি। এই যা, জামাইয়ের নামটা তো বলা হোলো না।

জামাইয়ের নাম নাড়ুগোপাল অধিকারী । ঠাকুমা নাম রেখেছিলেন। স্বপ্ন দেখেছিলেন স্বয়ং' ননীচোরা ' নাকি আসছেন বাড়িতে!

      তিনি মুখে মুখে সর্বদাই কৃষ্ণ নাম জপ করেন। ঠাকুরমার পরিচর্যায় খুব আদরের সঙ্গে মানুষ হয় নাড়ুগোপাল। আদরের নাড়ুগোপাল এই প্রথম বার জামাইষষ্ঠী যাবেন। যথারীতি খুব ধূমধাম করে যাওয়ার আয়োজন চলছে।

     সুকন্যা আর নাড়ুগোপাল অপেক্ষা করছে গাড়ির জন্য। মেকআপ করার মেয়েটি সেই সকাল ছয়টায় এসেছে 

। সুকন্যা কে সুন্দর করে নুতন বৌয়ের সাজে সজ্জিত করেছিল।নাড়ু তো গোল গোল চোখ নিয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে উপভোগ করছিল।আর মুখ টিপে টিপে হাসছিল। ঠাকুরমার খুশি আর ধরে না। সোহাগ করে নাতবৌয়ের গাল টিপে যেই আদর করতে গেল,অমনি মেকআপের মেয়ে টি ঠাকুরমার হাতটি খপ করে ধরে ফেলল ।আর বল্লো,ও ঠাকুরমা এখন গাল টিপতে হবে নি গো! মেকআপ উঠে যাবে! ঠাকুরমা খানিক গজগজ করে, এই হয়েছে জ্বালা, একটু আদর করতে ও পারবো না। বুড়ি ঠাকুরমা, হরেকৃষ্ণ হরেকৃষ্ণ বলতে বলতে হাসি মুখে চলে গেল।

     এদিকে গাড়ি এসে গেল। নাড়ুর মা, বাবা ,ঠাকুরমা দুটো বড়ো বড়ো রসগোল্লা ও দ ইয়ের হাঁড়ি; শশুর ও শাশুড়ির ও বৌমার বোনের নতুন পোশাক সবকিছু যত্ন করে গাড়িতে তুলে দিলো। সবাই দুগ্গা দুগ্গা বলে তাদের বিদায় জানালো তখন বেলা সাড়ে দশটা হবে।


সুকন্যার বাড়ি বাউরিয়া স্টেশন সংলগ্ন বুড়িখালি গ্রামে । দোতলা বাড়ি নুতন হলুদ লাল রঙ করা একেবারেই বড়ো রাস্তার পাশে ই । নুতন জামাই ও মেয়ে আসছে জেনে সনাতন বাবুর স্ত্রী অঞ্জলী ও ছোট মেয়ে সুপর্ণা বাড়ির বড়ো গেটে অপেক্ষা করছিল। এগারো টার ঠিক পরেই মেয়ে জামাই এসে হাজির হলো। সুপর্ণা জোরে জোরে শাখ বাজাতে লাগলো আর অঞ্জলী মেয়ে জামাই কে বরণ করে বাড়ীতে নিয়ে এলেন। এই ঘটনা জামাইষষ্ঠীর ঠিক আগের দিন কারণ নুতন জামাই কে আগের দিন আসতে হয়।

       সুকন্যাদের বাড়ির নিচে বড়ো মুদিখানা দোকান। সুকন্যার মা অঞ্জলী রান্না ঘর থেকে দোকানে টুক টুক করে ঢোকে আর প্রয়োজনীয় রান্নার জিনিস পত্র সংগ্রহ করে। দোকান থেকে একমাত্র তাঁর ই জিনিস পত্র নেবার লাইসেন্স আছে। তিনি তাঁর স্বামীকে স্পষ্ট করে বলেছেন,দেখো বাপু, আমি বারবার তোমার অনুমতি নিতে পারবুনি ,যখন যা লাগবে নিয়ে যাবো 

। সনাতন তখন হিসেব কষতে কষতে বলেন, ঠিক আছে গো, রোজ রোজ বলার দরকার নেই।

 যাই হোক জামাইষষ্ঠীর দিন ভোর চারটার সময় অঞ্জলী উঠে পড়ে। সুপর্ণাকেও জোর করে ঘুম ভাঙিয়ে তোলে। বাড়ি, দোকান, উপর নিচ দালান,উঠোন ধুয়ে মুছে সাফ করে। দুজনে তাড়াতাড়ি স্নান করে নেয়।

আজ যে হরেক রকম পদ রান্না করে খাওয়াতে হবে নুতন জামাই কে!


       সনাতন বাবু মিতব্যয়ী লোক কিন্তু জামাইয়ের জন্য আদর যত্নে কোনো কৃপণতা করেন নি।এক কেজি সাইজের একটি ইলিশ মাছ এনেছেন।

এছাড়াও পমফ্রেট,পাবদা, গলদা চিংড়ি ও পুকুরের জ্যান্ত কাতলা কেজি দুই হবে এনেছেন আগের দিন। খাসির মাংস ও দেশি মোরগ ও গোটা আনিয়েছেন! মিষ্টি ও এনেছেন দশ বারো রকম জামাইষষ্ঠী স্পেশাল।

তিন চার প্রকার আম এনেছেন। এছাড়াও জাম লিচু কলা কাঁঠাল আপেল বেদানা আঙুর ফল ও এনেছেন নানা ধরনের। জামাইষষ্ঠীর আগের দিন ভোর থেকে উঠে বাজার সেরে ফেলেছেন।

      

    জামাই ষষ্ঠীর দিন সকালে উঠে সুকন্যা ও নাড়ু গোপাল স্নান সেরে নেয়। নাড়ুগোপালের আবার চা খাওয়ার অভ্যাস নেই সকালে উঠে হরলিক্স খেতেন বিয়ের আগে পর্যন্ত।

সুকন্যার পাল্লায় পড়ে ব্ল্যাক কফি খাওয়ার অভ্যাস করেছেন।


শুক্রবার রাত্রিরে খুব জোরদার খাওয়া দাওয়া করেন ।রাধাবল্লভী , কাবলি ছোলা মটন কীমার কারী,ফ্রায়েড রাইস ও দিশি মোরগের কারী, তারপর জিরা রাইস ও মটন কারী এবং শেষ পাতে পাঁচ ছয় রকমের মিষ্টি। ভোর থেকেই নাড়ুগোপালের পেট বিদ্রোহ করে। স্নান করার সময় আবার তাকে 

ওয়াশরুমে যেতে হলো। সুকন্যা কে ডেকে বললো,জানো সুকন্যা আমার পেটটা ভালো নেই। ভোর থেকে ই গুড় গুড় করছে ! কি হবে গো?

কিচ্ছু হবে না,বলে খালি পেটে একটা ওমেজ খাইয়ে দিলো। ভয়ে আর ব্ল্যাক কফি খেলো না।

    আটটা না বাজতে বাজতে ই নাড়ুর শাশুড়ি ফলাহার মেখে মেয়ে জামাইকে ডাকলো। ফলাহার আর তার সঙ্গে জলখাবারের আয়োজন দেখে নাড়ুর চোখ কপালে উঠলো, এমনিতে নাড়ু খেতে ভালোবাসে।অঞ্জলি প্রদীপ জ্বালিয়ে শাঁখ বাজিয়ে শুভ কাজ শুরু করার জন্য বলল। একটুখানি চিড়ে, মুড়কি, দই,ফল ইত্যাদি দিয়ে মাখা অংশ মুখে দিতেই পেটের কামড় শুধু হল। মাঝপথেই সে সুকন্যা কে বলে সোজা দোতলায় ওয়াশরুমে গেল। মিনিট পাঁচেক পরে এসে আবার জলখাবারে মন দিল। একটি মুগবাহার ছিড়ে কাশ্মীরি আলুর দম দিয়ে মুখে দিল। ফলমূল ও মিষ্টি একটু একটু করে খেয়ে উঠে পড়ল।


 খাওয়ার পর সুকন্যা একটা অটু খাইয়ে দিল। আবার ভরসা দিল কিচ্ছু হবে না ভয় পেয়ো না দুপুরে খাওয়ার আগে আবার একবার ওয়াশরুমে গিয়েছিল । ফিরে এসে বলল সামান্য পাতলা মতন হয়েছে।শুনে সুকন্যা বলল,আর অসুবিধা হবে না। শুনে নাড়ু মজা করে বলল,কেন জানিনা মনে হচ্ছে,আমার জামাইষষ্ঠী কেমন যেন পাতলা হয়ে গেল!দুপুরেও আমি ভালো করে খেতে পারব না!

Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register