Mon 21 September 2026
Cluster Coding Blog

হৈচৈ গল্পে গৌতম সমাজদার

maro news
হৈচৈ গল্পে গৌতম সমাজদার

বয়স! ফুৎকারে উড়িয়ে দিন

বয়স একটা সংখ্যামাত্র। তাই হয়ত কবি বলেছেন, "হয়তো আমার যাচ্ছে বয়স বেড়ে/ তাই বলে কি দেব সব ছেড়ে?/ না হয় কিছু চুল পেকেছে, দূরেও নয় কেউ রেখেছে,/ তাই বলে কি ওমনি যাবো হেরে!/ বাড়ছে বয়স! গেলই না হয় বেড়ে!" বয়স বাড়লে প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী কিছু পরিবর্তন শরীর মনে আসে। ভুলে যাওয়া, আলসেমি, দুর্বলতা, কখনো কখনো বিষণ্ণতার সাথে বিভিন্ন শারীরিক অসুখ শরীরে দেখা দিতেই পারে।হয়ত গায়ের চামড়া আগের মতো টানটান থাকবে না, কুঁচকে যাবে, সবসময় হয়ত মেজাজও ধরে রাখতে পারবেন না। সারাদিনে হাত গুনে গুনে অনেকগুলো ওষুধ খেতে হবে, মন খারাপ হয়ে যাবে তাতে। মনে রাখতে হবে, কিছু মানুষ 18 বছর বয়সেও বৃদ্ধ হয়। আবার কিছু মানুষ 90 বছর বয়সেও যুবকের মতো থাকে। কালের নিয়মে বয়স তো হবেই। এটা আমাদের হাতে নেই। তাই এটা নিয়ে বেশী না ভেবে ভাবতে হবে যে জীবন কি সুন্দর এক উপহার, যা উপভোগ্য এবং তা পূর্ণাঙ্গভাবে বেঁচে থাকার জন্যই। আবার এটাও ঠিক, যুবক হওয়া একটি অনুভূতি, যা আমাদের স্বাস্থ্যকে প্রতিফলিত করে, চালনা করে আমাদের আবেগ, আকাঙ্খা।

তাই সামনের দিকে তাকাতে হবে, ধীরগতির হয়ে গেলে চলবে না। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত বিভিন্ন কাজে নিজেকে নিয়োজিত ও ব্যস্ত রাখতে হবে। আপনার মন যদি মনে করে যে এটা আপনি পারবেন, তাহলে সেটা সম্ভব। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হয়ত দেখবেন, মাথার চুল কমছে, চোখের কোণে ক্লান্তি, হাসলে লাফিং লাইন, গলায় ভাঁজ, কানে কম শোনা, চোখে চশমা লাগতে পারে, রাতে ঘুম না আসা। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে বিভিন্ন ব্যথা, কিছুটা যেন কুঁজো হয়ে হাঁটতে হচ্ছে। এছাড়া সামাজিকভাবে বাজারে গেলে হয়ত কেউ চাচা, দাদু বলবে। মন খারাপ করবেন না। বেশী সাজগোজ করলে আড়ালে হাসি, টিটকারি করবে। বয়স হলে খাদ্য গ্রহণের বিষয়ে সাবধান হতে হবে।

মহিলাদের ক্ষেত্রে বয়সভীতি আরো বেশী। মহিলাদের ক্ষেত্রে বয়স নিয়ে কথা শোনানো ঘর থেকেই শুরু হয়। তাই মধ্য বয়সের পর জমকালো শাড়ি পরলে স্বামী হয়ত বলে বসবে, "কি পরছ এই বয়সে?" শাশুড়ি হয়ত বলবে, "মনে রেখ বৌমা, ছেলের বিয়ে দিয়েছ।" আসলে যুগ বদলালেও মানসিকতা বদলায়নি। তাই নিজেকেই নিজে ঠিক রাখতে হবে। হালকা নিয়মিত ব্যায়াম করুন। সম্ভব হলে ৩০-৪০ মিনিট হাঁটুন। আজ তো সরকারী সংজ্ঞায় বৃদ্ধ বলতে পারেন ৭০ এর বেশী বয়স হলে। তাই বয়সকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে বাঁচতে থাকুন, যা অনেকেই করেছেন, পৃথিবীর সবচেয়ে মর্যাদাকর পুরস্কার হিসাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। এই পুরস্কার ৯০ বছর বয়সে পেয়েছিলেন রুশ বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক লিও নিদ হুর উইজ। কয়েক মাস পরেই তিনি মারা যান। ভাবা যায়! সবচেয়ে বেশী বয়সে নারী হিসাবে ব্রিটিশ লেখিকা ডোরিস লেসিং ৮৭ বছর বয়সে নোবেল পান। ভাবা যায়! যে বয়সে অনেকেই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকেন। এরকম সফলতার আরো অনেক উদাহরণ দেওয়া যায়। তাই বন্ধু হাল ছেড়ে দিও না। জীবনটা এ প্লাস, বি প্লাসের না। ড্রপ আউট বলে কিছু হয় না। হলে বিল গেটস বিশ্বের সবচেয়ে ধনী হতেন না বা মৃত্যুর পর ভ্যান গঘ পৃথিবীর সবচেয়ে এক্সশেন্সিভ শিল্পী হতেন না। মনে রাখতে হবে, জীবনটা রেস নয়, এটা একটা জার্নি। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত লেগে থাকার মজাটা নিতে হবে। পৃথিবীর বহু মানুষ বেশী বয়সে সফল হয়েছেন। নিজেকেই প্রশ্ন করুন, মন কি বলে, আমরা কি চাই বুড়ো শরীরে আটকে থাকতে? আমরা বুড়ো নই। মন ছুটে চলতে চায়। বয়স সুন্দর শোভন। সহজভাবে বয়সের সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে। জীবন একটাই। সুস্থভাবে বেঁচে থাকাটাই আসল।যত্ন নিতে হবে নিজের। নিজের ইচ্ছেগুলো আনন্দের সাথে পূরণ করুন। তবেই জীবনের পূর্ণতা আসবে।

Admin

Admin

dsaf  

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register