- 22
- 0
অঙ্ক ক্লাসে গল্প লেখা
আমি ছোট থেকেই কল্পনা করতে ভালোবাসি। ছোটবেলায় তো অতো গল্প লিখতে পারতাম না, তখন ছবি আঁকতাম। ছবি আঁকার মাধ্যমে গল্প বানাতাম। তারপর একটু একটু করে বড় হতে লাগলাম। তখন মনে মনে অনেকরকম গল্প তৈরি হতো। তবে সেগুলো খাতায় সঠিক ভাষায় ব্যক্ত করতে পারতাম না।
তারপর কৈশোরে এক – দুবার গল্প লেখার চেষ্টা করেছি। একবার গল্প লেখা প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় স্থানও অধিকার করেছিলাম। তারপর যা হয়, ধীরে ধীরে পড়াশোনার চাপে আর গল্প লেখা হল না। তবে মনে মনে গল্পের কল্পনা চলতে লাগল।
তখন কলেজে পড়ছি। প্রথম বছর, দ্বিতীয় সেমিস্টার। একদিন সকালে কল্পনায় একটা মজার ভাবনা এলো। দুটো ভূত, তারা দেখতে কিম্ভূত, কিন্তু ভীষণ ভালো ভূত। তাদের সেই কিম্ভূতকিমাকার চেহারা মনে মনে কল্পনা করতে লাগলাম। তারপর ভাবলাম, এই চেহারার বিবরণটা কোথাও না লিখে রাখলেই নয়। এসব ভাবতে ভাবতে কলেজে চলে গেলাম।
কলেজে প্রথম ঘণ্টাতেই ছিল অঙ্ক ক্লাস। অঙ্ক আমার প্রিয় বিষয়। অধ্যাপিকা দিদি একটা করে অঙ্ক করতে দিচ্ছিলেন। আমি চটপট অঙ্কটা করে নিচ্ছিলাম। কিছুসময় পরে দিদিমণি সেই অঙ্কটা বোর্ডে করছিলেন আর সবাইকে বোঝাচ্ছিলেন। আমি সেই ফাঁকে গল্পটা লিখতে শুরু করলাম। এরকম দুষ্টুমি আমি আগে কখনো কোন ক্লাসে করিনি। কিন্তু অঙ্ক নিয়ে আমার আত্মবিশ্বাস ছিল। আর গল্পটার প্রতিও আগ্রহ ছিল। তাই অঙ্ক ক্লাসেই অঙ্ক করার ফাঁকে ফাঁকে লিখে ফেললাম আমার প্রথম গল্প ‘ভু – তু’।
তাই এখন পিছন ফিরে তাকালে মনে হয়, আমার প্রিয় বিষয় অঙ্কই আমাকে আমার গল্প লেখার পথে প্রথম পা ফেলতে সাহায্য করেছিল।
0 Comments.