Thu 15 October 2026
Cluster Coding Blog

হৈচৈ ধারাবাহিক গল্পে অশোক কুমার ঘোষ

maro news
হৈচৈ ধারাবাহিক গল্পে অশোক কুমার ঘোষ

হামদো আর মামদোর গল্প: চতুর্থ পর্ব 

চককদমতলায় শেওড়া গাছে খুব গন্ডগোল চলছিল। কুচু আর মুচু‌ খুব কান্নাকাটি জুড়ে দিয়েছিল !তাদের বাপের জন্যে‌ !মুচু তো নাকি সুরে কাঁদছে আর বলছে,

'ওগো আমার সোনা বাবা 

আমি তোমার কাছে যাবা

মোন্ড আর মিঠাই খাবা '

শুনে শুনে কুচু ও চিৎকার করে বায়না ধরেছিল,

"আমার হামদো বাবা 

আমি তোমার কাছে যাবা

ইলিশ মাছ ভাজা। খাবা 

ওগো আমার হামদো বাবা"

     চিৎকার চেঁচামেচি শুনে হামদোর বৌ ধড়ফড় করে ছুটে এলো! সে ফোন করে হামদোর সঙ্গে কথা বলতে চাইলো। কিন্তু নেটওয়ার্ক না থাকায় সে কথা বলতে পারল না। তখন সে একটি যাদুলাঠি বার করে তিনজনে ঐলাঠির উপর বসে বলল ,ধুধুনিয়া পাহাড়,ধুধুনিয়া পাহাড় ধুধুনিয়া পাহাড়!‌তিনবার বলতেই যাদু লাঠিতে উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে ঠিক সন্ধ্যা র সময়ে পাহাড়ের চূড়ায় উপস্থিত হলো।যাদু লাঠি থেকে লাফিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় নামল !

একটু দূরেই দাঁড়িয়ে ছিল মামদো আর হামদো‌ ! ছুটে গিয়ে কুচু আর মুচু তাদের বাবাকে জড়িয়ে ধরলো।


তাদের তিনজনকে দেখে মামদো খুব খুশি হোলো।সে চিৎকার জুড়ে দিল, গুয়ে সোনা, গুয়ে সোনা,দেখ কারা এসছে! গুয়ে পেত্নী সেই সময় মেস আপে ব্যস্ত ছিলো। গুয়ে পেত্নী ছুটে এসে হামদোর বৌ কে জড়িয়ে ধরলো আর বললো ,দিদি, ওগো আমার দিদি,কেমন আছো গো।

চলো সবাই বিশ্রাম নেবে। হামদোও কুচু মুচূকে কাঁধে তুলে নিয়ে নাচতে নাচতে গুহায় গেলো ।


গুহার ঘরে ঢুকে শাকচুন্নি খুব খুশি হোলো।সে হামদোকে নাকি সুরে বলল,কিগো আমার আদরের ভুতো!আর কতদিন আমি কুচু মুচূকে নিয়ে গাছের ডালে বসে বসে দিন কাটাবো। আমাদের জন্য এই রকম গুহা ঘরের ব্যবস্থা করো।এ চককদমতলায় শেওড়া গাছে আর যাবো না।এই বলে দিনু‌ ! এই বলে গুয়ে পেত্নীর সুন্দর করে পাতা বিছানায় হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়ল!

‌‌তখন হামদো বললো ,তাই হবে গো তাই হবে। আমি এখনি চললাম, তোমার ঐ গুহা ঘরের খোঁজে।


এদিকে গুয়েপেত্নীকে রান্না ঘরের দিকে যেতে দেখা যায়। রান্না ঘরের থেকে চিৎকার করে মামদোকে ডাকতে শোনা গেল। ওগো শুনছো আমার মামসোনা, দিদি আর কুচু মুচুর জন্যে কিছু ভালো ভালো বনমুরগী ধরে নিয়ে এসো । মশলা মাখিয়ে রোস্ট করে দিদিকে আর আদরের কুতু মুচুকে খেতে দেবো।

মামদো উত্তর দিল, ঠিক আছে গো, আমার গুয়ে সোনা! মিনিট দশেক পরেই আট দশটা বনমুরগী নিয়ে এসে হাজির।

   মুরগী গুলোকে মেরে একটি কাঠের উনুনে ছুঁড়ে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। মিনিট কয়েক পরে সেগুলোকে পরিষ্কার করে ভালো করে মশলা মাখিয়ে রোস্ট করে,কুচু মুচুকে ছোট ছোট টুকরো টুকরো করে কলাপাতায় পরিবেশন করলো !

এরপর বড়ো বড়ো দুটি গোটা মুরগী শাকচুন্নিকে বড়ো কলাপাতায় সুন্দর করে সাজিয়ে দিলো। গুয়ে ডাকতে লাগল,দিদি এসো গো, খাবার দিয়েছি। ছুটে গিয়ে শাকচুন্নি খেতে বসতে গিয়ে তার লাল ঝরে পাথরে পড়লো!এই নিয়ে শাকচুন্নি একটু লজ্জায় পড়লো।

Admin

Admin

dsaf  

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register