Mon 25 May 2026
Cluster Coding Blog

গল্পের জোনাকিতে অমিতাভ সরকার

maro news
গল্পের জোনাকিতে অমিতাভ সরকার

মাটির প্রভু 

জগন্নাথ আমার ছোট্টবেলার বন্ধু। ছোটোর থেকেই দুজনে এক পাড়াতে মানুষ। তখন থেকেই দেখে আসছি, ওর জীবনে হাজারো সমস্যা। এক মুহূর্তের জন্যেও ছেলেটা কোনোদিন একটু স্বাচ্ছন্দ্যের মুখ দেখল না। সবাই এতকিছু পায়, ওর বেলায় সবই না পাওয়া। এত ভালো ছেলে, কিন্তু সবার কাছে যেন করুণার পাত্রই রয়ে গেল। স্ত্রী- সন্তান তাকে ছেড়ে চলে গেছে, বাবা-মা থেকেও নেই, আত্মীয়-স্বজন কেউ সেভাবে খোঁজ-খবর নেয় না, এমনকি প্রাসাদসম বাড়িতে সে চিরকালের মতো একা। এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। লেখাপড়া জানা, নম্র ভদ্র সভ্য ছেলে, কারোর সাতেপাঁচে থাকে না, কারোর কোনো ক্ষতি করেনি -তবু কেন এমন হয়!


যে সময়ের কথা বলছি, তখন জগন্নাথেরা শহরের এদিকটায় থাকতো না। পূর্বস্থলীতেই ছিল ওদের বাস। সেসময় গ্রামের অনেকেই ঠাকুরের নামে ছেলেমেয়েদের নাম রাখার একটা চল ছিল। জগন্নাথের বেলাতেও তাই হয়েছে। শুনেছি, ও কাকু-কাকিমার বয়সকালের সন্তান। পুরীতে পুজো দেওয়ার পর প্রভু জগন্নাথের কৃপায় জন্ম বলে কাকু ওর নাম রাখেন জগন্নাথ। সুখের সংসার, অবস্থাপন্ন বাড়ি,

সব ঠিকঠাকই চলছিল, হয়তো চলতোও, কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসই বলুন, বা নিজেদের দোষেই হোক না কেন, একবার পুরীতে গিয়ে একটা অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে যায়। জগন্নাথ হওয়ার পর থেকে প্রত্যেকবার পুরীতে গেলে কাকু কিছু দরিদ্র মানুষকে নিজের অর্থব্যয়ে অন্নভোজন করাতেন। কোনোবারই এর অন্যথা হয়নি।

কিন্তু সেবার, ক্ষুধার্ত কোনো ব্যক্তি মধ্যাহ্নভোজনের পরে কাকুর কাছে তাঁর বাড়ির অসুস্থ স্ত্রী, আর বেকার অভুক্ত ছেলেমেয়েদুটির জন্য যৎসামান্য কিছু খাবারের আবদার করেছিলেন। কাকু দেবেন জানিয়েও ভুলে যান। এদিকে নির্দিষ্ট সময়ে ওই ব্যক্তি খাবার পাওয়ার আশায় পুনরায় আসলে কাকুরই কোনো কর্মচারী বিশ্রী ব্যবহার করে ওঁকে বিতাড়িত করে। অসহায় বিমর্ষ মানুষটি চরম অসম্মানে মনের বেখেয়ালে রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। কাকতালীয়ভাবে তারপর থেকে ওদের আর পুরী যাওয়া হয়ে ওঠেনি, যতবারই সুযোগ এসেছে, প্রতিবারই সেটা নানা কারণে ভেস্তে গেছে। ছোটোবেলা থেকেই দেখেছি, জগন্নাথের জীবনে কোনোকিছুই খুব একটা মসৃণ নয়।

অন্যদের যেটা সহজে হবে, ওকে সেটা লেগে থেকে থেকে অনেক সংগ্রাম করেই পেতে হয়, আর পেলেও সেটা বেশিদিন ওর থাকে না। তবে এসব নিয়ে ওকে কোনোদিন বিমর্ষ হতে দেখেনি। ও বলে মানুষের চাওয়া-পাওয়ার উপরে আমাদের নিজেদের কোনোই হাত নেই। কর্মফল সবাইকে ভোগ করতেই হয়। এরমধ্যে যেমন পূর্বজন্মেরও ফলাফলও আছে, তেমনি মা-বাবার, এমনকি বংশের পূর্বপুরুষদের কৃতকর্মের হিসাবও নাকি থাকে। জগন্নাথ অত কিছু ভাবে না, এখন সবকিছুই নিজের ভাগ্য বলেই মেনে নিয়েছে। এখন সে আর কোনোদিকে কোনো পিছুটান রাখতে চায় না, নিজের 

কাজগুলোও করতে হয় তাই করে, কোনোরকম মানসিক দ্বন্দ্বে সে আর এখন ভোগে না,

যতটা পারা যায় মনটা ভালো রাখার চেষ্টা করে, নিজে ভালো নেই, অন্যকে কী করে ভালো রাখবে!


ওর খুব কাছের বন্ধু হলেও 

ছোটোর থেকেই আমি ভাগ্যের থেকে কর্মকেই বেশি প্রাধান্য দিই। আমার কাছে ঈশ্বর মানে আলাদা বিশেষ কেউ না। এটাই ভাবি- মানুষের মধ্যেই তিনি আছেন, মানুষকে কষ্ট দেওয়া মানে তাঁরও কষ্ট। এখন দোষ করার সময় মানুষ তো আর ভাবে না, যে পরে কী হতে পারে। শুধু প্রত্যক্ষ ঘটনাই নয়, অনেকক্ষেত্রে অজান্তে অনিচ্ছাকৃত পরোক্ষভাবে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রভাবও খুব মারাত্মক এবং বেদনাদায়ক হয়। কিছু করারও থাকে না।   

জগন্নাথের জন্য তাই আমারও খুব কষ্ট লাগে। যার নাম জগন্নাথ -তাকেও এরজন্য সারাজীবন এই অভিশাপ নিয়ে চলতে হবে?  

মানছি, ভুলটা মারাত্মক, কিন্তু ওই ঘটনায় তার তো কোনো দোষ ছিল না। অনেকে তো এর থেকেও আরও বেশি কিছু কাণ্ডকীর্তি করেও দিব্যি বহাল তবিয়তে ভালো আছে। ঈশ্বরের কাছে দোষগুণের বিচারটা কখনো কখনো কীরকম একচোখামি লাগে না? 


যারা সত্যিই দোষী, যথার্থ প্রাপ্য থেকে নিরীহ মানুষগুলোকে বঞ্চিত করে নানারকম প্রতারণা করে, এমনকি নানাবিধ জিনিস আত্মসাৎ করে পৈশাচিক আনন্দ পায়, কই, এসব লোকগুলোর তো কিছু হয় না? বরং ভালো 

মানুষগুলোই সারাজীবন ধরে কষ্ট পেয়ে যায়। আর যে দেশে ভক্তির নামে ভণ্ডামি, পুজোর নামে অনাচার, কিংবা সেবার কথা বলে মানুষের থেকে মানুষকে ভেদাভেদ করে রাখা হয়, ধর্মের পতাকা উড়িয়ে মানবতার অবমাননা করে মানুষ, তারাই আবার ঈশ্বরের জয়গান করে গাল ফুলিয়ে সদর্পে অনর্থ করে বেড়ায়, সেখানে মন্দির-মসজিদ-গির্জায় আদৌ ভগবান বা আল্লাহ বা গড -যেই হোন, তিনি আছেন বলে আমি অন্তত মনে করি না। আর যারা মুখে এক, মনে আরেক- সামনে কিছু না বললেও সেইসব মুখোশধারী অভিনেতাদের আমি মনে মনে খুবই অপছন্দ করি। বুঝতে পারি না, এরা কেন এরকম করে, কিসের লোভ এত? যেখানে লক্ষ্মী নামের মেয়েদের পথে পথে ভিক্ষা করতে হয়, জগন্নাথ নামের এত ভালো ছেলেটার সব থেকেও আপন বলে কেউ থাকে না, দুর্গা নামের মেয়েদেরও সবার অলক্ষ্যে ঘরেবাইরে চোখের জল ফেলতে হয় -সেখানে গালভরা এইসব ঠাকুরের নামে রাখা নামগুলোর আসল অর্থটা ঠিক আসলে কোথায়? ঈশ্বর মানেই কি মনের দুর্বলতা, ভ্রম, না স্বার্থসিদ্ধির চরম অনুঘটক? প্রশ্ন ছিল, প্রশ্ন আজও আছে, বা হয়তো থাকবেও, তবে পুরীতে না গেলে আমার জীবনের অনেক জানা-বোঝা দূরে থেকে যেতো।



সেই প্রথম পুরী যাওয়া। এরপরেও অবশ্য আরও অনেকবারই গিয়েছি। কিন্তু সেবারের যাওয়াটা হঠাৎ-য়ের যোগাযোগেই। আমার যাওয়ার কথাই না, বিশেষ আগ্রহীও যে ছিলাম তাও নয়, দাদাই যেতো, কিন্তু শেষমেশ ও না যেতে পারায় মা-বাবাকে নিয়ে আমাকেই যেতে হলো। এমনিতে তখন টিকিট পাওয়াটাও খুব কঠিন, কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে সেটারও কোনো অসুবিধা হয়নি - সমস্ত কাজ সামলেও সব ব্যবস্থাও ঠিকঠাক মতো হয়ে গেল, ঠিক সময়ে পৌঁছানোও হলো, এবং সেইসঙ্গে প্রভু জগন্নাথের দর্শনের অনুপম সৌভাগ্যলাভ।


তবে জগন্নাথদেবকে ছবিতে যেমন দেখেছি, তাতে ওঁর অবয়ব সেভাবে কোনোদিনই আমায় টানেনি, কিন্তু সামনে থেকে প্রথম দেখার পর থেকে আমি যেন একটা ঘোরের মধ্যে পড়ে গেলাম। তবে মন্দিরের বাইরে সেবায়ত পাণ্ডা, হোমরাচোমরা-এদের অহেতুক হামবড়াই, পুজোর নামে দর্শনার্থীদের ওপর অভ্যাসমতো রোজকার জোরাজোরি, এটা-ওটা-সেটা দক্ষিণা নেওয়া-

চাঁদা- এসব আমার একদমই ভালো লাগেনি। ভাবতাম, এসবের পরে এতকিছু সহ্য করেও কেন সবাই এখানে আসে? নিজেরা সব দোষ করবে, দায়ভার চাপাবে অন্যের ওপর, ঠাকুরকে বলবে পাপক্ষয় করো। সেটা কি কখনো হয়? হয় না। মানুষ নিজেই নিজের নিয়ন্তা। রিপুই যখন বশে নেই, রিপুকারের কী আর করার থাকতে পারে? তবে মন্দিরে ঢুকে জগন্নাথদেবকে দেখে মনটা সত্যিই ভরে গেছিল। হাত-পা দেহ বাদ দিয়েও শুধু মুখমণ্ডল দিয়েই যেন এক অনুপম জ্যোতি বিচ্ছুরিত হচ্ছে।   

বিশাল দুটো চোখের সামনে দাঁড়িয়ে যে তাকিয়েই থাকা যায় না। গোটা পৃথিবীর মানুষের দোষ-গুণ উনি যেন এভাবেই দেখছেন। ওঁর কাছে নিজের জন্য কিছু চাইতে নেই। শুধুই ভক্তি নিষ্ঠাভরে তাঁকে ডেকে যেতে হয়।

আর অনেকখানি ধৈর্যও ধরতে হয়, দেহমন এক করে তাঁর কাছে নিজেকে নিঃস্বার্থ সমর্পণ করতে হয়, আমাদের মধ্যে যেটার নিতান্তই বেশ অভাব।


পুরী মন্দির সম্বন্ধেও এতকিছু জানতাম না। এই আজব জগৎ এই মনুষ্য সমাজ। সত্যিই মানুষের জীবনে কিছু কিছু এমন ঘটনা, রহস্য থেকে যায়, যার কোনো প্রকৃত বাস্তব সদুত্তর পাওয়া যায় না।  


সেবার গিয়েই প্রথম জানলাম, পৃথিবীর বিভিন্ন আশ্চর্যের মধ্যে পুরীর মন্দিরকে ঘিরেও আজও কিছু রহস্য আছে। মন্দিরের উপরে কোনো পাখি, বিমান চলাচল করতে পারে না, মন্দিরের ধ্বজা বাতাসের বিপরীত দিকে ওড়ে, মন্দিরে প্রবেশ করলেই ঢেউয়ের শব্দ আর শোনা যায় না -এগুলো যেমন ঠিক, তেমন এটাও ঠিক -প্রভু জগন্নাথ -অর্থাৎ জগতের নাথ -তিনি সকল শ্রেণির মানুষের দেবতা- অত্যন্ত অল্পতেই তুষ্ট হন, অন্যান্য দেবতাদের মতো জগন্নাথদেবের কোনো ভারিক্কি ব্যাপার নেই, সবাই তাঁর পুজো করতে, প্রসাদ পেতে পারে,

ওঁর কাছে উঁচুনিচুর কোনো ভেদাভেদ নেই। তাছাড়া পুরীর প্রসাদ কখনো নষ্ট হয় না, কমও পড়ে না, এঁটো হলেও সবসময়ই সবাই খেতে পারে। জগতের কোনো প্রাণীই ওঁর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয় না। প্রভু সবাইকেই কৃপা করেন। আমিও কৃপা পেয়েছি। এখানে কোনো কিছু প্রার্থনা করলে সেটা পূরণ হয় বলে বিশ্বাস আছে। 


অন্য সবকিছুর সঙ্গে আমি প্রার্থনা করেছিলাম, জগন্নাথের এত কষ্ট কেন? এর কি কোনো শেষ নেই? উত্তরও পেয়েছিলাম। একটা ঘটনা মনে পড়ছে। চোখের সামনে দেখা, আমাদের ঠিক পাশের ঘরটায় এক দম্পতি তাঁদের ছেলেকে প্রচণ্ড খারাপ সব কথা বলছিলেন। ছেলেটাকে মনে হয় কিছু বলা হয়েছিল, কী নাকি শোনে নি, বারংবার ঝামেলা করছিল, রাগের মাথায় ওঁরা মেজাজটা আর ঠিক রাখতে পারেননি। অমনি সেই রাতেই তার ধুম জ্বর। কিছুতেই কমলো না। কাছেপিঠে ডাক্তারও পাওয়া সে মুহূর্তে খুবই মুস্কিল। বাইরে তুমুল বৃষ্টি। ছেলেটার এ অবস্থা দেখে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। এদিকে জ্বরের তাপমাত্রা কমারও নাম নেই। এরকম বাড়তে থাকলে যে…। কলহবিবাদ ভুলে ওর মা-বাবাও বেশ চিন্তায়। নিরূপায় হয়ে আমি এক মনে প্রভু জগন্নাথকে স্মরণ করতে বললাম, নিজেও মনেপ্রাণে প্রার্থনা করতে থাকলাম। কিছুক্ষণ পরে জনৈক এক ব্যক্তি(পাণ্ডা-ই হবে হয়তো) এসে পুরীর মহাপ্রসাদ আর একটু মাটি দিয়ে গেলেন। বিষয়টা বলতেই উনি একটু মহাপ্রসাদ ছেলেটার মুখে তুলে খাইয়ে আর কপালে মাটি ছুঁইয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। একটা ফোন নম্বর দিয়ে গেছিলেন, আর বলেছিলেন অসুবিধা হলে এই নাম্বারে ফোন করতে। অসুবিধা হয়নি। ছেলেটা কিছুক্ষণ বাদেই সুস্থ হয়ে ওঠে, জ্বরটাও কমে যায়। দম্পতিটিও ভুল বুঝতে পেরে নিজেদের ত্রুটি স্বীকার করেন। 

পরে ধন্যবাদজ্ঞাপন করতে গিয়ে ওই নম্বরে ফোন করে জানতে পারি, ওখান থেকে ওরা কিন্তু কাউকেই পাঠাননি। তবে দরকার হলে…। আমরা সবাই তো থ। এমনও হয়!


সেদিন রাতে ঘুমের মধ্যে দেখি, একজন জ্যোতির্ময় পুরুষ আমায় কোথায় যেন নিয়ে যাচ্ছেন, মন্ত্রমুগ্ধের মতো আমিও তার পিছন পিছন-সরু রাস্তা -কিন্তু আলোয় আলোকময়- এমন কোনোদিনও দেখিনি। যেতে যেতে দেখছি- অদ্ভুত চেহারার কারা যেন- এদের কোনোদিনও দেখিনি-সবাই চলেছে এই জ্যোতির্ময় পুরুষের এক অমোঘ আকর্ষণে-উনি যেন বলছেন, মন থেকে সমস্ত কলুষতা দূরে রেখে শুধু নিজেকে নিয়ে চিন্তা না করে সবাইকে নিয়ে ভাবতে - সবার মধ্যেই যে আনন্দ। যিনি দুঃখ দিয়েছেন, আনন্দও তিনিই দেন,

যেখানে পার্থিব সব ভালোমন্দের শেষ সীমানা -জগন্নাথেরও পথ সেখানেই। তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় আরও দেখতে পাচ্ছি, ভোর হয়ে গেছে, পুরীধাম ঘুরে মা-বাবাকে ঠাকুর দেখিয়ে নিয়ে আমিও বাড়ি ফিরে এসেছি, কোর্ট নাকি অর্ডার দিয়েছে স্ত্রী-ছেলে ওর সঙ্গেই থাকবে। এমনকি আত্মীয়-স্বজনরা, এমনকি যারা ভুল বুঝে জগন্নাথের থেকে দূরে সরে গিয়েছিল, সেসব মানুষগুলোও আবার আগের মতোই আপন ভেবে ওকে কাছে পেতে চাইছে। জগন্নাথের মনোকষ্ট অনেকটাই লাঘব হয়েছে। এখন সে কাজের পরেও কিছু দুঃস্থ ছেলেমেয়েদের নিঃশুল্ক পড়ায়,  

ওদের ভালোমন্দ নিয়েও ভাবে,

এমনকি ঘরের মধ্যে ওদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা রেখেছে, যাতে দারিদ্রের কারণে কাউকে অন্তত পড়াশোনাটা ছাড়তে না হয়। 



তাছাড়া কিছুদিন বাদেই পুজো, এবার সবাই মিলে পুরীর টিকিট কাটছি। জগন্নাথেরাও সঙ্গে আসবে, এবার নিশ্চয়ই একে একে বাকি সমস্যাগুলোও দূর হবে- জগন্নাথদেব নিশ্চয়ই জগন্নাথকে কৃপা করবেন…। সমস্ত কাজের ব্যস্ততার দিনের শেষে একটু শান্তি ছাড়া জগন্নাথদের আর কীই বা চাওয়ার? 



যদিও জগন্নাথ আর প্রভু জগন্নাথ একই কথা -তবু সবই তাঁরই ইচ্ছে। আমরা যাকে বলি…ইষ্ট। মানুষের মধ্যেই তিনি। 


এখন তো, দীঘায় পুরীর আদলে মন্দির গড়ার জন্য সরকার থেকে অর্থও বরাদ্দ হয়েছে। দেশে ধর্মস্থানের জন্য কোনো অর্থপ্রদান এই প্রথম। মানুষের মন এতে আরও দূরে সরে না যায়। কারণ, আমাদের এই প্রভু কি সত্যিই এসব চান? -তার চেয়ে গরীব-দুঃখীদের জন্য বিভিন্ন সুব্যবস্থা, নারীদের সুরক্ষা, তাছাড়া, সকল স্তুরের, সকল সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি যদি আমাদের যথোচিত শ্রদ্ধা বজায় থাকে, তাহলেই মোক্ষ। তাছাড়া, এমনকি অবহেলিত, সংখ্যালঘুরাও যাতে পৃথিবীর সর্বত্র একটু সম্মান, স্বস্তি নিয়ে বাঁচতে পারে, এসব কথা - চিরকালের কথা, মানুষের -তাই সবার কথাগুলোই অন্তর থেকে বলতে ইচ্ছে করে।


এখন, জগন্নাথদের কষ্ট যদি প্রভু জগন্নাথই না বোঝেন…।

Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register