- 173
- 0
বাঁচা বড় দায়!
বাইরে গরম। ভেতরে বাতাস নরম। কয়েক টুকরো ঠাণ্ডা বুকে চেপে রেখে রেলগাড়ি চলে গমগম।
যাত্রায় দেড় দিন। বসে শুয়ে শরীর ভার, কাজহীন। তাই হাঁটি কামরা বেয়ে, চামড়ার বৈচিত্র দেখি, শুনি গল্প রঙিন।
গল্পের ক্ষতি করে কাশি, যতি টানে ওপর থেকে নিচের আসনে। কোভিড যায়, তার খুসখুসে ভাব যায় না কোন কারণে! ভেজা, শুকনো, চকিত ও দমকের কাশি বাজে বিলম্বিত নানা ক্ষণে।
অতীত অতিমারির অতি মারামারির গল্প ঘুরে ফিরে আসে। সে-ই যে ট্রাফিকে দাঁড়ানো এক বাইকওলা পাশে দাঁড়ানো আরেক বাইকওলাকে প্রশ্ন করে, কোন সাহসে সে কাশে! সে নেমে মারতে থাকে, শেষ হয় প্রাণের সর্বনাশে!
অনেক কিস্যার মাঝে এইটি যায় জিতে। হাঁচি কাশির অন্যান্য অভিজ্ঞতার মাঝে খুন ছোঁয় উঁচু ফিতে। কেউ বলে, ইস্, আমরাই জানি না, আমরা পারি কত হিংস্র রূপ নিতে!
কামরা ধরে ফেরার সময় দেখি বড় চ্যাপ্টা থালা হাতে নিয়ে চলেছে রেলের চুক্তির খাদ্যকর্মী এক ছেলে। দুই কামরার ফাঁকে এসে সে মাথা পেছিয়ে মুখ ওপরে তুলে দু'তিন বার কেশে নিলে। কৌতূহলী হয়ে তার পিছু নিতে দেখি পরের কামরার ফাঁকেও তেমনি কয়েক বার গলা-খাঁকারি দিলে।
হয়ত শব্দ শুনে পেছন ফিরে আমায় দেখতে পেয়ে লজ্জায়, নাকি ভয়ে সে থমকে মাঝপথের নির্জনে দাঁড়ায়। কুণ্ঠায় বলে, 'আর বলবেন না, কামরায় রুমাল চেপে কাশি দিলেও সব খদ্দের আমাকে তাড়ায়! তাই তো মাল বেচা বাঁচাতে আমার ভরসা এমন লুকিয়ে কাশায়।'
0 Comments.