- 1
- 0
কাল বৈশাখ।
সকাল থেকে "রক্ত করবী " ঘুরছে মাথায়। " ওগো দুঃখ জাগানিয়া তোমায় গান শোনাবো ...." কিন্তু কি গান শোনাই ! গুরুদেব ই জেগে উঠলো মনে, মনে হোলো গেয়ে উঠি উদাত্ত কণ্ঠে, "আমি কি গান গাবো যে ভেবে না পাই ....।" তোমার গানই শেষ ভরসা " কিন্তু কণ্ঠ যে রোধ করে, সুর তো নাহি সরে...."
" ভালো যদি বাসো সখি কি দেবো গো আর
কবির কবিতা খানি দেবো উপহার।"
গাইতে গিয়ে কিন্তু থমকে গেলাম, কণ্ঠে এলোনা। রবি ঠাকুর কে দিয়ে মিথ্যে বলাই কি ক'রে! কতোদিন তো কবিতাই লিখিনি, মন আমার কতোদিন হংস পাখায় উধাও হয়নি তাল তমাল অরণ্যে। এলো মেলো চৈতালি হাওয়া ব'লে গেলো, চৈত্র পবণে তার চিত্ত বনে বাণী মঞ্জরি সঙ্কলিতা কৃষ্ণচূড়ার বড় অভিমান, এবার সে নীলদিগন্তে আগুন লাগায়নি। ন'ড়ে গেলো নিবেদন নৈবেদ্যের থালা। বিদ্যুৎ রেখার মতো কোন এক না দেখা মুখ উঁকি দিয়ে গেলো মনের জানালা ধ'রে, বুকে গান এলো,"হৃদয় আমার যায় যায় যায় যে ভেসে যার পাইনি দেখা তার উদ্দেশে..." তাকে মনে হোলো, "তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা, তুমি আমার সাধের সাধনা ..." তার উদ্দেশ্যে গাইলাম ,"মোর হৃদয়ের গোপন বিজন ঘরে, একেলা রয়েছ নিভৃত শয়ন পরে, প্রিয়তম হে জাগো জাগো জাগো।"
হঠাৎই চমক ভাঙলো, মনে পরে গেলো যার জন্য গান নির্বাচনে গীতবিতান সফর সেরে ফেললাম সে তো নেই, তাকে বিদায় করেছি সে এক চৈত্র রাতে, "তুমি সুখ যদি নাহি পাও যাও সুখের সন্ধানে যাও..." সে তো সুখের সন্ধানে চলে গেছে মরীচিকা উপত্যকায়। সে রাতে মন কেঁদেছিলো একবার,
" যেওনা যেওনা, যেওনা চ'লে
দাঁড়াও চরণ দুটি বাড়াও হৃদয় আসনে,
তুমি রঙিন মেঘমালা যেন গঠিত স্বপনে। "
সেদিন সে চরণ থামেনি। আমি ব'সে আছি "পথ চেয়ে আর কাল গুনে।" এখন সব পূর্ণিমা রাতে কোথাও যেন কারা গায়,
"মধুনিশি পূর্ণিমার ই আসে যায় নিরবধি
সে জন আসেনা ফিরে যে গেছে চ'লে।
ছিলো তিথি অনুকূল, শুধু নিমেষের ভুল
তবু যদি মালাখানি পড়াতে গলে।"
এখন বিরহ যাপন ভ'রে থাকে স্মৃতি সুধায়। স্মৃতির হাত ধ'রে সে আসে, "আমি হৃদয়েতে পথ কেটেছি সেথায় চরণ পরে তোমার সেথায় চরণ পরে।"
এমনি করেই থাকো আমার মনের ঘরে,
"আঁধার থাকুক দিকে দিকে আকাশ অন্ধ করা, তোমার পরশ থাকুক আমার হৃদয় ভরা।"
সেজন আসেনা ফিরে কিন্তু পূর্ণিমা আসে, আসে বৈশাখ ও। এইমাত্র বিদায়ী চৈতালি ব'লে গেলো, কাল বৈশাখ। গেয় উঠলো আবাহনীর সুরে, "এসো হে বৈশাখ, এসো হে এসো।"
0 Comments.