- 12
- 0
জনকল্যাণই আদি প্রাণের মানুষ হবার সাধনা
ছোটদের জন্য কিছু লেখার আগে সমস্যায় পড়তে হয়, কি লিখব এবং কিভাবে লিখব । যাদের জন্য লিখতে বসেছি, তাদের জ্ঞান ও বোধ তাদের বয়সের থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। Tech Touch এর অন্যান্য লেখার ওপর চোখ বুলিয়ে নিয়ে, কেমন যেন নিজের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ি - কেমন ধরনের লেখা যায় ? আজকাল শিশুরা ইংলিশ মিডিয়ামে যা কিছু নিচু ক্লাসে পড়ছে, আমাদের বয়েসিরা তা পাঁচ ছ ক্লাস ওপরে পড়েছিল। বাংলা মিডিয়ামেও দেখি ক্লাস থ্রি ফোরে প্যারাগ্রাফ, লেটার লিখতে দেওয়া হচ্ছে ! ভাবতে অবাক লাগে ওদের কথা ভাবলে - ওরা কত এগিয়ে। তাই ওদের জন্য বোধহয় সেই চিরাচরিত শিশু ভোলানো লেখা লিখলে আর চলবে না। এই সব ভাবছি , সেই সময় একটা বাচ্ছা এসে হঠাৎ জিজ্ঞেস করলো , জনকল্যাণ কিগো আঙ্কেল?
এই শব্দটার সঙ্গে সচেতন পরিচিতি ঘটেছিল বি.এ. ক্লাসে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়ার সময়। তার আগে যা ভাবতাম সেটাই বলে দিতে ইচ্ছে করলো। 'জনগণের মঙ্গল' বা 'সাধারণের মঙ্গল ' বলে দিলে হয়ে যায়। কি হবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের সংজ্ঞা আওড়িয়ে। ভয় হলো, যদি ওদের ওসবও পড়ার বিষয় হয় ! একটা ক্লাস এইটের ছাত্রীকে শেক্সপিয়ারের নাটক অনুবাদ করে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে প্রোজেক্টে ,তাও বাংলা মিডিয়ামে ! ভয় করে না? তবে লেখায় ভুরি ভুরি কোটেশন, আর কথায় কথায় সংজ্ঞা আর দশটা কথায় ছ'টা ইংরেজি বলা আমার একেবারেই পছন্দ নয় । যারা বুঝবে বা যাকে বলা যায় বা বললে তারও উপকার হয় , এমন ক্ষেত্রে বললে দোষ দেখি না। বাকিটায় ধান্দাবাজির গন্ধ পাই। যাইহোক আমার সামনে যিনি আছেন তাকে কিভাবে বোঝাই , যাতে সে বুঝতে পারে এবং আমিও একটা নতুন কোনো কৌশল খুঁজে পাই ।
তাকে জিজ্ঞেস করলাম, স্বার্থপর কাদের বলে জানিস ?
হ্যাঁ হ্যাঁ, এই তো সেদিন দাদু অমৃতি এনেছিল। মা সকলকে দিয়ে দুটো খাবার টেবিলে রেখে ছিল, বাবা আসলে খাবে ।ওমা, বাজার থেকে ফিরে বাবা সেই দুটোই খেয়ে নেবে না? তাই দেখে মা বাবাকে বললো, তোমার মতো স্বার্থপর মানুষ তো দুটো দেখিনি!
তাহলে স্বার্থপর বলতে কি বোঝানো হলো?
ওই তো, যারা কারো কথা না ভেবে খেয়ে নেয় ।
হ্যাঁ, শুধু খেয়ে নেয় না।সব কিছুতেই যে অন্যের কথা না ভেবে, কেবল নিজের কথাটাই ভাবে, নিজের জন্য জন্য করে,তারাই স্বার্থপর। এদিক থেকে আমরা সবাই একটু আধটু স্বার্থপর। তাই না ?
হ্যাঁ ,আমিও তো করি । বাবা আমার আর ভাইয়ের জন্যে খাবার আনলে, আমি আগে আমারটা তুলে নিই ।নইলে ভাই আমাকে দেবে না। আমি কিন্তু দিই ।
তাহলে কি দাঁড়ালো, আমরা সবাই স্বার্থপর। কেননা আমরা সবাই আগে নিজের জন্য ভাবি । সবাই ভাবি ? কেন ?
পরে যদি না পাই ।
দারুন বলেছিস। সবাই এটাই ভাবে বলে সবকিছুতেই আগে নিজের দিকটা ভাবে। এই নিজের বলতে ভালো কথায় কি বলে জানিস ?
না , তুমি বলো।
'স্ব ' ।স্ব মানে নিজের। তাই স্বার্থ মানে হলো কেবল নিজের কথা ভাবা। আরো বড় করে হয়তো বইতে পড়লি ব্যক্তিস্বার্থ।
আছে তো । দেখবে, নিয়ে আসব ?
সে বই আনতে যাচ্ছিল । আমি বাঁধা দিয়ে বললুম, থাক আর বই আনতে হবে না। তুই সব জানিস । বল না, 'ব্যক্তি মানে মানুষ ' তুই জানিস না?
হ্যাঁ।
তাহলে সব মানুষ যখন নিজের স্বার্থের কথা ভাবে , তখন তাকে কি বলবো?
কি ?
ব্যক্তিস্বার্থ। তাই না ?
বড্ড কঠিন।
সে তো অবশ্যই। তুমি লেখাপড়া শিখছো, তোমাকে তো সব জানতে হবে । আচ্ছা বলতো স্বার্থ শব্দের বিপরীত শব্দ কি হবে ?
অস্বার্থ!
ঠিক হলো না ।
নিঃস্বার্থ। আমি পড়েছি।
ঠিক পড়েছিস। কিন্তু এই ক্ষেত্রে ঠিক হলো না । স্বার্থ বলতে যা বোঝায়, ঠিক তার বিপরীত হতে হবে। নিঃস্বার্থ কিছুই হয় না। একটু স্বার্থ থাকে।
তাহলে?
তাই তো,কি বলা যায়? আমি কৃত্রিম ভাবতে থাকলাম।
সে হঠাৎ বলে উঠল - দাঁড়াও , আন্টির কাছ থেকে জেনে আসি। আমার উত্তরের অপেক্ষা না করে সে চলে গেল । আমার খুব মজা লাগছিল। বাচ্ছাদের কাছে বোধহয় সবজান্তা সাজতে নেই । তাতে খেলাটা জমে না ।
প্রায় সঙ্গে সঙ্গে সে ছুটে এসে আমার লেখার টেবিলে পাশে এসে দাঁড়াল । বলল , তুমি পারছিলে না তো ,আন্টি বলে দিল মঙ্গল বা কল্যাণ। মানে পরের উপকার !
তাই তো ! তার মানে ,সেখানে নিজের কোনো স্বার্থ থাকবে না । তাই না ? নিজের কিছু থাকলে তো স্বার্থ হয়ে যাবে।
হ্যাঁ, বাবা ,মা দেখেছি , নিজে না খেয়ে আমাদের পাতে তুলে দেয়। এখানে কোনো স্বার্থ আছে বল ?
ঠিকই। এই যে এতো টাকা খরচ করে আমাদের লেখাপড়া শেখাচ্ছে, বাপ মার কি লাভ হবে বল ? যখন আমরা চাকরি করবো, টাকা রোজগার করবো, বাবা মা কি নিতে আসবে?
সে মাথা নেড়ে বললো, না।
তাহলে এটা আমাদের ভালোর জন্যে , এখানে বাবা মারা কোনো স্বার্থ থাকে না। এটাকে কি বলবো?
কল্যাণ।
বাঃ দারুন বলেছিস। অপরের ভালোর জন্য, উপকারের জন্য ভালোবেসে আমরা যা করি , সেটাই মঙ্গল বা কল্যাণ। বাঃ,এইবার বলতো তোর বাবা কি বাজার থেকে যা কিনে আনে ,নিজে সব খেয়ে নেয় ?
সে মাথা নেড়ে বললো, না। সকলকে দিয়ে খায়।
মা তাহলে যা রান্না করে,নিজেই সব খেয়ে নেয় ।
ও মা , তুমি কিচ্ছু জানো না। মা তাই করে নাকি ?
ও ,তাই তো।
আচ্ছা ধর, যদি বাজারটা না থাকতো, যদি মা না রান্না করতো, কাজের বউ কাজ না করতে আসতো, আমরা কি বেঁচে থাকতে পারতুম?
তাই হয় নাকি ? সকলে আছে বলে আমরা বেঁচে আছি । আমি পড়েছি। তাই মানুষ সামাজিক জীব। সমাজের সকলের সাহায্য নিয়ে আমরা বেঁচে থাকি।
এই তো কিছুক্ষণ আগে বলছিলিস সবাই নিজের জন্য আগে ভাবে, স্বার্থপর ?
না, মা বাবা তো -
হ্যাঁ ,এই রকম আমরা সকলেই হয় মা , নয়তো বাবা । আর বাইরের সবাই আমাদের ছেলে মেয়ে।
এ মা , বিয়ে না হলে, ছেলে মেয়ে হয় নাকি ? তুমি দেখছি, কিছুই জানো না ।
ও মা , তাহলে বড়রা যে বলে - শিশুরা আমাদের ছেলে মেয়ে। কেউ কি হয় ?
না - তা - হয় না ।
তবু তো বলে ? কেন বলে ?
কেন ?
সবাইকে নিজের মতো করে না দেখলে তো তাদের ভালো করা যাবে না । তেমনি সকল ছেলেকে যদি আমার ছেলে ভাবি ,সব মেয়েকে যদি আমার মেয়ে ভাবতে পারি - তাহলেই তো তাদের ভালো করতে পারবো, ভালো নিয়ে চিন্তা করতে পারবো। এই ধর না , তোর বাবার মতো আমাকে ভালোবাসিস বলেই তো আমার সঙ্গে গল্প করিস ?
এটা তুমি ঠিক বলেছো। বাবার মতো তোমাকে দেখলে আমার ভয় করে না ।
তাহলে, অপরকে নিজের মতো করে না ভাবলে, ভালোবাসলে তো উপকার করা যায় না ।বাবা মা আমাদেরকে নিজের ভাবে বলেই তো উপকার করে বড় হয়ে উঠতে সাহায্য করছে । আমাদের বাড়ির মা বাবার মতো আমাদের দেশ আমাদের মা বাবা। ?
হ্যাঁ , তুমি ঠিক বলেছো। আমি পড়েছি, আমাদের দেশ আমাদের মা । সেই মা আমাদেরও মানুষ করে।
এই মানুষ মানে ব্যক্তি। আবার অনেক মানুষের মধ্যে একটা মানুষকে কি বলবো?
কি ?
জন ।
ও তাই ? অনেক মানুষকে তাই জনগণ বলে?
আরে ব্বাস ! তুই কি সুন্দর বললি । আমিই তো জানতুম না । তাহলে অনেক মানুষের জন্য কল্যাণকে কি বলা হবে?
জনকল্যাণ । এই তো, বুঝতে পেরেছি । নিজের জন্য না ভেবে অনেক মানুষের উপকার করা হলো জনকল্যাণ।
একেবারেই ঠিক । দাঁড়া, তোর জন্যে একটা চকলেট আনি ।
না না আঙ্কেল, আমি খাবো না।
সে বাধা দিল । আমি মুখে আঙুল দিয়ে বললাম - তুইও খাবি , আমিও খাবো । আন্টি শুনতে পেলে বকবে ।
তবে ছোট দেখে আনবে - তোমার জন্য একটা , আর আমার জন্যে একটা।
আমি পাশের ঘর থেকে দুটো চকলেট এনে তাকে একটা দিয়ে বললাম, তবে অন্যের উপকার করলে কি নিজেরও কিছু উপকার হয় না ?
কি করে হবে ? নিজের হলে তো স্বার্থ হয়ে যাবে?
আচ্ছা ,তুই যখন তোর ভাগ থেকে ভাই কিছু দিস , তখন কি কি হয় বলতো ?
ভাই আর কাঁদে না, কেড়ে নিতে আসে না।
আর একটা জিনিস হয়।
কি ?
তোর খুব ভালো লাগে, আনন্দ হয় । হয় না,বল ?
মেয়েটা একটু লাজুক হেসে বললো - হ্যাঁ গো আঙ্কেল। তাই আমি যা খাই , আগে ভাইকে দিই ।
হ্যাঁ, অপরের মঙ্গলের মধ্যেই তো নিজের মঙ্গল লুকিয়ে থাকে। তোর ভাইকে দিলি বলেই তো তুই খেতে পেলি ।নইলে ও তো সবটাই কেড়ে খেয়ে নিত ! সেই রকম, সবাই বাঁচলে তবে আমিও বাঁচবো। একা একা বেঁচে থাকা যায় না। দ্যাখ, বাবা মাও তাই করে ! কিন্তু আমাদের বেঁচে থাকার মধ্যে যে বাবা মারও বেঁচে থাকা রয়েছে, সেটা তাহলে কি করে হচ্ছে?
ওই তো , আমার দাদু বাবাকে খাইয়ে বাঁচিয়ে রেখেছিল বলেই তো বাবা দাদুকে দেখছে , আমাদের জন্যে যা নিয়ে আসে, দাদুকেও দেয় ।
হ্যাঁ,এটা মানুষ ছাড়া কিন্তু আর কোনো পশু পাখি করে না । তাই না ?
মেয়েটার মুখে চকলেট ছিল বলে, মাথাটা ওপর নিচ করে বোঝালো -হ্যাঁ ।
আমি এবার একটু কঠিন প্রশ্ন করলাম - আচ্ছা বাবা মা ,তাদের ছেলেমেয়েদের খাইয়ে দাইয়ে বড় করে কেন ? সব পশু পাখি দেখ ,তাই করে । বাচ্ছাদের খাওয়াছে, শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করছে,বড় করছে। বাচ্ছারা বড় হয়ে তো উড়ে যায়, চলে যায় । তাহলে করে কেন ?
ও আঙ্কেল,তা করতে হয় গো । নইলে ঠাকুর পাপ দেবে !
আমি হেসে বললাম, ঠিকই। কিন্তু আমরা লেখা পড়া শিখছি, ঠাকুর পাপ দেবে বললেই হবে ? আমরা যা পড়েছি, যা জেনেছি, সেখান থেকে তো বলতে হবে - কেন করে ।
তাহলে তুমিই বলো।
আচ্ছা , তোরা কি পড়েছিস পৃথিবীতে প্রথম এককোষী প্রাণীর আবির্ভাব হয়েছিল ?
হ্যাঁ, তা পড়বো না ! পৃথিবীতে প্রথম জল হয় , তারপর এককোষী প্রানী ও উদ্ভিদের জন্ম হয়।
জন্ম হয় , কথটা ঠিক নয় । কেউ জন্ম দেয়নি।পৃথিবীতে বিশেষ এক অবস্থায় অনেকদিন আগে এক কোষী প্রাণী ও সবুজ উদ্ভিদের আবির্ভাব ঘটেছিল আপনা আপনি। এই রকম অনেক কিছু সৃষ্টি হয়েছিল, অনেক কিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। আচ্ছা সেই এককোষী প্রাণীটা বা উদ্ভিদটা কি মরে গেছে ?
তা যাবে না ? তুমি কি গো ,সব কিছুই তো মরে যায়?
হ্যাঁ মরে তো যায়। কিন্তু সেই লক্ষ কোটি বছর আগে যে একটা মাত্র কোষের আবির্ভাব ঘটে ছিল, তাতেই তো প্রথম প্রাণ ছিল? সেই প্রাণীটা কি মরে গেছে ?
তা মরেনি ?
তাহলে আমরা এলাম কোত্থেকে?
ভগবান আমাদের সৃষ্টি করেছে? আমার দাদু বলেছে ।
তোর দাদু ঠিক বলেছে। সেই একটা মাত্র কোষের মধ্যে যে প্রাণ ছিল, সেটাই ভগবান। পড়িসনি? এককোষী প্রাণী থেকে এই সব বহুকোষী প্রাণীর সৃষ্টি হয়েছে ? দ্যাখ, আর একটু বড় হলে,মানে উঁচু ক্লাসে উঠলে তোরা পড়বি - বংশ বৃদ্ধি ও শত্রুর হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য সেই একটা মাত্র কোষের প্রাণীরা আপনা থেকে দুটো কোষে , দুটো কোষ থেকে চারটে, এইভাবে প্রয়োজনে অনেক ধরনের বহু কোষী প্রাণীর সৃষ্টি হয়েছে। সেই একটা মাত্র কোষ থেকে এক সময় যেমন কেঁচোর মতো উভয় লিঙ্গ জীব সৃষ্টি হয়েছে, তেমন ছেলে মেয়ে আলাদা লিঙ্গের জীব সৃষ্টি হয়েছে । তুই কোন লিঙ্গ বলতো ?
আমাদের ম্যাম বলেছে মেয়ে বোঝালে স্ত্রীলিঙ্গ,আর ছেলে বোঝালে পুংলিঙ্গ । কিন্তু আঙ্কেল তুমি যে বললে বংশ বৃদ্ধির জন্য, সেটা কি ?
এই যে তোর বাবা মা থেকে তুই আর তোর ভাই হলি । এটাকে বলে বংশ বৃদ্ধি । দেখিসনি, একটা কুকুর থেকে কত কুকুর হয় ? একটা গরু থেকে কত গরু ? একটা মুরগী থেকে কত মুরগির ছানা হয়? একটা গাছ থেকে তেমনি অনেক গাছ হয় । এটাকে বলে বংশ বৃদ্ধি । তোর বাবা মা থেকে তুই হয়েছিস, তোর ভাই হয়েছে ! তাহলে তোর বাবা মা তো তোদের মধ্যে বেঁচে থাকছে। একটা কোন থেকে দুটো কোষ হলে যা হয় । তোর বাবা মা কিন্তু তোকে, তোর ভাইকে আদর যত্ন করে বড় করছে, খাওয়াচ্ছে, পড়াচ্ছে মানেই তো নিজেকে পালন করছে,রক্ষা করছে। তোর বাবা মা তো তোদের মধ্যে বেঁচে আছে নতুন করে! তাই তারা যা হতে পারেনি, করতে পারেনি,তা তোদের মধ্যে দিয়ে হতে চাইছে , করতে চাইছে - বলেই তো এত যত্ন করে বড় করছে । সেই প্রথম প্রাণীটা তার শত্রুকে কি ধ্বংস করতে পেরেছে? পারেনি বলেই আজো লড়াই করে চলেছে।সব পশু পাখি মানুষ তার সন্তানের মধ্যে বেঁচে ওঠে লড়াই করার জন্য। এইভাবেই সেই প্রথম প্রাণ ভগবান আমাদের সৃষ্টি করে চলেছে ।
দুর , আমার বাবা মার থেকে আমি কিভাবে হলুম , সেটাই তো বুঝতে পারলুম না।
এই দ্যাখো,সেটা বলি কি করে? মনে মনে ভেবে বললাম, তাই তো, আমিও ঠিক জানি না। আরো একটু পড়াশুনা করতে হবে। ঠিক আছে তাহলে পড়ি , তারপর বলবো?
হ্যাঁ, বলবে কিন্তু - বলতে বলতে সে আমার ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
মানুষ তো মানুষের মধ্যেই বেঁচে থাকে, সকলের কল্যাণেই তার নিজের কল্যাণ। মুসকিলটা হলো, ওই সকলের মধ্যে বেশির ভাগ মানুষ নিজেও একজন তা ভাবতে পারে না। তাই 'আমার আমার ' - চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা, লুটতরাজ । আমি তো বলতে পারিনি ওই বাচ্ছাটাকে পৃথিবীতে সেই আদি প্রাণের সময়ও খাদ্য -খাদক সম্পর্ক ছিল। সেই কারণেই বংশ বিস্তারের তাগিদ। পৃথিবী থেকে যুদ্ধ মুছে যাবে না, চলবে হানাহানি, মারামারি, কাড়াকাড়ি, কাটাকাটি। সেই প্রতিকুলতা থাকবে জেনেই, চলে আসছে প্রেম প্রীতি ভালোবাসা, জীবন চর্চা, বংশ বিস্তার। আর যুগ যুগ ধরে জনকল্যাণের মাধ্যমে সামাজিক জীব ,মানুষ হয়ে উঠবে। এটা সভ্যতার সাধনা। সেই আদি প্রাণের মধ্যে জেগে ছিল বৃহৎ শত্রুর হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করার তাদিগ। সেই তাগিদের কারণেই অভিযোজন মূলক জীবন সাধনা। সেই আদি প্রাণের সাধনায় সিদ্ধি লাভ হয়নি বলেই এক কোষ থেকে দু'কোষ, বহুকোষ, উভলিঙ্গ,দ্বিলিঙ্গ । শত্রু জয়ের অভিযান চলছে বলেই অভিযোজনের প্রয়োজনে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর সৃষ্টি , তাদের মিলন।আবার এককোষে মিলিত হবার পর থেকে শুরু হয় যোগ্য সৈনিক হয়ে ওঠার সাধনা। সেই সৈনিকরা ক্ষেতে, খামারে, মাঠে,কল-কারখানা, ল্যাবরেটরিতে, রান্না ঘরে, কবিতায়, গল্পে, প্রবন্ধে ও দর্শনে সন্ধান করে চলেছে মানবসভ্যতা বিরোধী শক্তিকে দমন করার অস্ত্র। আমরা সকলেই চাই আদি প্রাণের সাধনাকে সফল করতে । এখানে প্রতিটি নব্য যুবক যুবতী হয় বাবা কিম্বা মা, তারা জনকল্যাণের মাধ্যমে নিজেকেই পালন করে চলেছে আদি প্রাণ - ভগবানের উদ্দেশ্যকে সফল করতে । হয়তো এই পথেই ভগবান একদিন মানুষ হবেই ।
0 Comments.