- 5
- 0
বিচ্ছুর বিশ্বকাপ
বয়স তিন থেকে চার, হরিপদর ছেলে, বিচ্ছু। গ্রাম থেকে কয়েক দিন আগে এসেছে। এখন ফুটবল ওয়ার্ল্ড কাপের মৌসুম তাই একটা বল পেয়ে সারাদিন উঠোনে হই হই দাপাদাপি। জগদীশবাবুর বেশ লাগে ছেলেটাকে। উনি যেন নিজের ছেলে বেলাটা উপভোগ করেন বিচ্ছুর ভেতরে।
জগদীশ বাবু ফুটবল খেলা দেখতে খুব ভালোবাসেন। তাই বিশ্বকাপের প্রতিটি খেলা দেখা চাই ই চাই। রাত্তিরে হরিপদর হয়েছে এক নতুন জ্বালা। চা,কফি, চানাচুর, মুখরোচক যোগান দেওয়ার একটা ভীষণ দায়িত্ব। এই মাঝ রাতে কি ভালো লাগে এইসব। তারপর সারাদিন ছেলেটাকে পাহারা দাও। কি জ্বালাতন রে বাবা।
সেদিন হাটের মাথায় জগদীশবাবুর কয়েকজন বন্ধুর সাথে দেখা। শুরু হলো ফুটবল সমালোচনা, এ বলে আর্জেন্টিনা জিতবে ও বলে ফ্রান্স জিতবে, জগদীশবাবু বললেন তোমরা দেখে নিও এবার ব্রাজিল জিতবে। সমালোচনার শেষে বাজি পড়ল নৈশ ভোজ, মাংস ভাত।
ওদিকে হাটের থলি ও ছেলেকে কাঁধে তুলে হরি পদ বাড়ীর দিকে রওনা দিল। বিচ্ছু বাবাকে জিজ্ঞাসা করল , দাদু বলছিলেন আজ ব্রাজিলের খেলা আছে। ব্রাজিলে কে- কে খেলবে বাবা? হরিপদ একটু বিব্রত হয়ে বলল, এত ইংরেজি নাম আমি জানিনা বাবা। তবে হা একজনকে জানি ওর খেলা আমি দেখেছি। কি অসাধারণ খেলা ই না খেলত। বিচ্ছু জিজ্ঞাসা করল কে বাবা কে? হরিপদ, বাইচুং ভুটিয়া কি খেলা ই না খেলত। ও কি আজকের খেলায় খেলবে বাবা কৌতূহল পূর্ণ প্রশ্নের উত্তরে বাড়ি ফিরল হরিপদ এবং বিচ্ছু। হরিপদ, বাবুর যখন দল বাইচুং ভুটিয়া তো খেলবেই। আমি মুখ্য সুখ্য মানুষ আমি কি আর অত জানি।
তখন গভীর রাত বিশ্বকাপে ব্রাজিল আর নরওয়ের রোমাঞ্চকর খেলা প্রায় শেষ পর্যায়ে। ক্ষুন্ন মনে সোফায় পা ছড়িয়ে বসে আছেন জগদীশ বাবু। নিচে মেঝেতে মাদুর পেতে হরিপদ, চোখ প্রায় ঢুলুঢুলু। বাবার কোলে মাথা রেখে কখন ঘুমিয়ে পড়েছে বিচ্ছু ।
হঠাৎ শেষ মুহূর্তে একটা গোল, জগদীশবাবুর উত্তেজনায় ছেলেটার ঘুম ভেঙে যায়। বিচ্ছু লাফ দিয়ে চিৎকার করে কমেন্ট্রি আরম্ভ করল ঘুমের ঘোরে।
পাশ দিয়েছে নে মার গোলে বল,
বাইচুং ভুটিয়া....গোল দায় ছুটিয়া।
বাইচুং ভুটিয়া..... গোল দেয় ছুটিয়া।
সে উত্তেজনা দেখার মতন।
হো হো করে হেসে উঠলো জগদীশ বাবু। অনেকের মুখে শুনেছিলাম , সেই মজার ঘটনাটা এবং শুনেছিলাম ব্রাজিলের হারটা খুব সহজেই হজম করতে পেরেছিলেন নৈশ ভোজের সাথে জগদীশ বাবু।
0 Comments.