Fri 16 January 2026
Cluster Coding Blog

সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব - ৩৫)

maro news
সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব - ৩৫)

 শহরতলির ইতিকথা

         স্কুল ফাইন্যাল পরীক্ষার ফল বেড়িয়েছে;রমা, এবার কমপার্টমেল্টাল পেয়েছে;এটা নিয়ে তার আটবার পরীক্ষায় বসা হয়েছে,ধৈর্যেরপরীক্ষায়

সে রবার্ট ব্রুসকে অতিক্রম করেছে;তার পড়াশোনার সম্বন্ধে আর কেউ আগ্রহ প্রকাশ করে না।

        রমার মামাতো বড় বোন,মানে বিরূপাক্ষের বড় বোনের দুটো পুত্র সন্তানই হয়েছে অন্ধ;শুনে সকলেরই মন খারাপ,ছেলে দুটো কী ফুটফুটে! সকলেই ভাবে,ঈশ্বর এত নিষ্ঠুর কী করে হলেন!,ছেলে দুটো তো এখনো বুঝতেই পারছে না,আমাদের এই নিষ্ঠুর সমাজ তাদের কীভাবে আপ্যায়ন করবে। অন্ধদের স্কুলে তাদের ভর্তি করা হয়েছে;কোলকাতা থেকে মামার বাড়ি বেড়াতে এসে,রাজীবদের পাড়ায়,রমাদের বাড়িতে এসেছে।এ খবর পাড়ায় দাবানলের মত ছড়িয়েছ; রাজীবদের কানেও এ খবর পৌঁছে গেছে। রাজীব,শৈলদির ভাগ্যের কথা শুনে শিহরে উঠলো;হায়! ঈশ্বর ওনাকে ধৈর্য ও শক্তি দিন।

   রমার বাবা,মেয়েকে একটু দূরে, নিজের জায়গায়,একটা বাড়ি করে দিচ্ছেন; জোয়ান ছেলের মৃত্যু,মেয়ের জীবনে এক রাশ অনিশ্চিত কালো মেঘের আবির্ভাবে ,নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ করতে করতেই, হয়তো তিনি শয্যাশায়ী হয়েছেন,আর বিছানা থেকে উঠলেন না।

   রমার পাশের বাড়ির আত্মীয়রা যে এতদিন ওদেরই শরিকের বাড়ি, জমি দখল করে ভোগ করছিলো,তা পরিষ্কার হল,যখন ঐ শরিকরা কোলকাতা থেকে এসে, ওদের সব সম্পত্তি বিক্রি করার কথা চাউর করলো;রজত,ওদের নিয়ে ঘুরে ঘুরে সব দেখাল;ওরা পুকুর সমেত বাগান বাড়ি, প্লট করে করে বিক্রি করবে;সব জায়গার বায়না হয়ে গেল,একটা তিন কাঠার মত প্লট,রজতকে দানপত্র করে দিয়ে ,সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে তারা কোলকাতা ফিরে গেছে;রমাদের এই আত্মীয়রাই,এককালে,রাজীবদের বাস তুলে দেবো,ভাড়াটিয়াদের এত সাহস বলে,এক কালে শাসাতো;ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস!নিজেরা আজ বাস্তুহীন; রজতের দয়ায় দুটো প্লট,ওরা পেয়েছে,মানে কিনতে হয়েছে,আর রজতকে,ওদেরই আত্মীয়রা দানপত্র করে দিয়ে গেল;ঈর্ষান্বিত হলেও কিছু করার নেই।এ পাড়ায়,হাজরা পরিবারের শিকড় বৃদ্ধি পেল।

      বিধানবাবুর মৃত্যুর পর,রাজ্যের হাল ধরেছেন, কংগ্রেসের প্রফুল্লচন্দ্র সেন মশাই;দেশের রাজনৈতিক আবহাওয়া উত্তপ্ত হয়ে উঠছে; অঞ্চলের কারখানাগুলো চলছে বটে,বাম রাজনীতির প্রভাব বেড়ে চলেছে,অর্থাৎ বিরোধী শ্রমিক-ইউনিয়নের প্রভাবে শিল্পে অশান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যদিও পৃথিবী বিখ্যাত ডানলপ কারখানায়,শ্রমিক নেতা নির্মলচন্দ্র সেন মশাই'র সভাপতিত্বে ইউনিয়নের প্রভাব অবিসংবাদিত,তাই কারখানার দৈনন্দিন কাজ কোনোভাবেই বন্ধ হয়না, শ্রমিক-মালিক ,উভয়েই খুশি;শ্রমিক,রবিবার,ছুটির দিন কাজ করে,মজুরি,দু'গুণ/তিন গুণ পায়,খুশি মনে কাজ করে; আর,মালিক,উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন পিছু ওভার-হেড খরচ কমায়

মজুরি বৃদ্ধি করতে পিছপা হয় না। কারখানাও অফিসে শ্রমিক সংক্রান্ত কোনও বিষয়ে,সেন মশাই-ই শেষ কথা।আর সরকারও বিরোধীদের প্রতি কঠোর হস্তক্ষেপ করতে তৎপর।

      এ অঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের অর্থনৈতিক ক্রিয়া-কর্ম, মূলতঃ এই ডানলপ কারখানার শ্রমিকদের আয়ের উপর নির্ভর করেই গড়ে উঠেছে,তিন শিপ্টে প্রায় আট -ন'হাজার লোক কাজ করে;শ্রমিকদের মজুরি অন্য কারখানার শ্রমিকদের কাছে ঈর্ষনীয়। অন্যান্য কারখানাগুলোয় অশান্তি লেগেই আছে,অর্থাৎ সেখানে বাম রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ছে।

চলবে

Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register