Sat 31 January 2026
Cluster Coding Blog

সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব - ৩৪)

maro news
সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব - ৩৪)

 শহরতলির ইতিকথা

        অঞ্চলের জনবিন্যাস পাল্টে গেছে;

সরকারি কলোনীর সংঙ্গে, সংঙ্গে অনেক কলোনী গড়ে উঠেছে;কোথাও স্থানীয় লোকের জমি কিনে,আবার কোথাও দলবদ্ধভাবে জমি দখল করে

বসবাস;স্থানীয়দের সংগে বিবাদে,সব এককাট্টা;হায় রে!এ রকম একতা থাকলে তো,পুব বাংলা থেকে আর আসতে হতো না।সবটাই বিদ্বেষজাত;ওরা কেন,সুখে আছে,ওদেরও আমাদের মত বাস্তুচ্যুত করতে পারলেই সুখ,বাঙালির এটা মজ্জাগত সংস্কৃতি;তাই তো লেখা হয়েছে আত্মঘাতী বাঙালি। এ ধারা রুধিবে কে!

  সরকারি কলোনীর রাস্তার দক্ষিন দিকে, রাস্তার ওপারে রয়েছে স্থানীয় ঘোষেদের জমি,না,সরকার এ জমি অধিগ্রহণ করেনি;তা হোক, হয়ে গেল দখল,হলো খেলার মাঠ,হলো ক্লাব;আর কোর্ট! হায় রে,এদেশে আইন তো চলে ভোটের হিসেব কষে; যদিও বা কোর্ট, দখলি উচ্ছেদ করতে বললো,কিন্ত লাও বলে তো হবে না,'লাও' করবেটা কে,চলুক ভোট-পানসি তরতরিয়ে;বোন-মিলের জায়গায় এখনও দু একটা গরু চরছে বটে,না,আর দু-একবছর পর শুধুই থাকবে প্রথম প্রথম টিনের চাল:তারপর হবে দোতলা,তে-তোলা,টাকা! না, সে প্রশ্ন, এদেশে করা যাবে না।

       অঞ্চলের কারখানাগুলোয় নামকরা কনট্রাকটার হচ্ছে দু'জন,তারা জ্ঞাতি ভাই,তাই সম্পর্কও আদায়-কাঁচকলায়;দু'জনেই আবার একই রাজনৈতিক দলের সাচ্চা সমর্থক;আবার ঐ দলই শাসনে আছে,তো ওদের পোয়াবারো।ওরা টেন্ডার জমা দিয়ে,কারখানার স্ক্রাপ বা বর্জিত জিনিস সরাবার কাজ পায়;দু'জনের কাছেই, কাজে বহাল আছে,কলোনীর বা ঐ সব দখলিকৃত ঘরের স্কুল-ছুট ছেলের দল ও অন্যেরা; সহজেই কাজ পাওয়া যায়;কেউ ঠেলা ঠেলে ঐ সব বর্জিত জিনিস কারখানার বাইরে,অদূরে থাকা গো-ডাউনে নিয়ে যায়,আবার অন্যেরা,গো-ডাউনে বসে,সে সব জিনিস ঝাড়াই-বাছাই করে; সেগুলো, কোলকাতার বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়;ঐ সব জিনিস,বিভিন্ন কুটীর শিল্পের কাঁচামাল,সুতরাং চাহিদা পর্যাপ্ত।না,শুধু বর্জিত বস্তু নয়,সংগে ঠেলা করে কারখানার পিতল-জাত সামগ্রীও অন্যান্য দামী জিনিসও বাইরে যায়,কোলকাতার মাড়োয়ারী ব্যবসায়ীরা, তা কেনার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে;আর, কারখানার দারোয়ানরা তো মাসের শেষে দক্ষিনা পায়।দু'দলেরই এটা অলিখিত ব্যবসা;অন্ধকারের ব্যবসা,ঘটে স্বার্থের সংঘাত। দু'দলের ছেলেদের মধ্যে চলে বোমাবাজি,পুলিশের ভ্যান খোঁজে আসামী,ধরে নিয়ে যায়,আবার ছেড়ে দেয়।ওদের বসেরা তো শাসন ব্যবস্থায় থাকা মন্ত্রী-হোমরা-চোমরার বশংবদ,তবে!এলাম আর গেলাম,মাঝে কেবল পুলিশ খায় ধমকানি।অঞ্চলের মানুষের হয় শান্তি বিঘ্নিত।

    স্থানীয় একটা ক্লাবের নিয়ন্ত্রন নিয়ে,দু'পক্ষের মধ্যে বিবাদ চরমে উঠলে, এক পক্ষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ক্লাবের বেশ কিছু ছেলে/ লোক নিয়ে ঐ অঞ্চলের একটু দূরে,একটা বাড়ি সমেত বিশাল জায়গায় একটা অন্য ক্লাব ও ট্রাস্ট গঠন করে,তার তত্ত্বাবধানে একটা স্কুল গড়ে তুললো ;আর,ট্রাস্টের সর্বেসর্বা হয়ে থাকলো ঐ বিক্ষুব্ধ। কুমারদের কাছ থেকে জলের দামে জায়গাটা কিনেছে;কিনেছে না বলে , জবর-দখলকারিকে উচ্ছেদ করার পুরস্কার বলাই ভালো। কুমারদের জায়গা;তাঁরা কোলকাতায় থাকতেন;দেশ-ভাগের পর এক বর্ধিষ্ঞু উদ্বাস্তু-পরিবারের বিপদে, থাকতে দিয়েছিলেন;অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে,খুব অন্যায় করেছিলেন তাঁরা;পরে,নিজেরা কোলকাতার বাস উঠিয়ে নিজেদের বাড়ি আসতে চাইলে,সাহায্য প্রাপ্ত পরিবার, কুমারদের কোর্ট ঘর দেখায়।এ দেশে,দেওয়ানি মামলার হাল ,কেবল ভূক্তভোগীরাই জানে;কুমারেরা,ঐ বাড়ি সমেত জমি, ঐ পক্ষকে বিক্রয়-কোবলা করে দেয়:আর,উনি তো মন্ত্রীর বশংবদ,স্কুলের মত সামাজিক কল্যাণে

র নাম করে, আর স্কুল-ছুটি বাহিনীর দাপটে, সেই অকৃতজ্ঞ পরিবার বাপ বাপ করে বাড়ি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এখন সেখানে,সরকারি আমলাদের সক্রিয় সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে কিণ্ডারগার্টেন,হয়েছে ব্যঙ্ক;এ ভাবেই,ঐ পক্ষের ব্যবসার প্রসার ঘটলো,ঘটলো প্রতিপত্তি। স্কুলের নিজস্ব বাস,আর রয়েছে,বাঙালী বাবুদের,নিজের ছেলেমেয়ের মুখে,ম্যামি,ড্যাডি শোনার আকাঙ্খা ,অতএব স্কুল ব্যবসা জমে উঠতে দেরী হয়না।কলোনীর দিদিমনি,সুলভে পাওয়া যায়,চালাও পানসি,রয়েছে দুর্বৃত্ত সরকারি অফিসার।

চলবে

Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register