- 145
- 0
শহরতলির ইতিকথা
অঞ্চলের জনবিন্যাস পাল্টে গেছে;
সরকারি কলোনীর সংঙ্গে, সংঙ্গে অনেক কলোনী গড়ে উঠেছে;কোথাও স্থানীয় লোকের জমি কিনে,আবার কোথাও দলবদ্ধভাবে জমি দখল করে
বসবাস;স্থানীয়দের সংগে বিবাদে,সব এককাট্টা;হায় রে!এ রকম একতা থাকলে তো,পুব বাংলা থেকে আর আসতে হতো না।সবটাই বিদ্বেষজাত;ওরা কেন,সুখে আছে,ওদেরও আমাদের মত বাস্তুচ্যুত করতে পারলেই সুখ,বাঙালির এটা মজ্জাগত সংস্কৃতি;তাই তো লেখা হয়েছে আত্মঘাতী বাঙালি। এ ধারা রুধিবে কে!
সরকারি কলোনীর রাস্তার দক্ষিন দিকে, রাস্তার ওপারে রয়েছে স্থানীয় ঘোষেদের জমি,না,সরকার এ জমি অধিগ্রহণ করেনি;তা হোক, হয়ে গেল দখল,হলো খেলার মাঠ,হলো ক্লাব;আর কোর্ট! হায় রে,এদেশে আইন তো চলে ভোটের হিসেব কষে; যদিও বা কোর্ট, দখলি উচ্ছেদ করতে বললো,কিন্ত লাও বলে তো হবে না,'লাও' করবেটা কে,চলুক ভোট-পানসি তরতরিয়ে;বোন-মিলের জায়গায় এখনও দু একটা গরু চরছে বটে,না,আর দু-একবছর পর শুধুই থাকবে প্রথম প্রথম টিনের চাল:তারপর হবে দোতলা,তে-তোলা,টাকা! না, সে প্রশ্ন, এদেশে করা যাবে না।
অঞ্চলের কারখানাগুলোয় নামকরা কনট্রাকটার হচ্ছে দু'জন,তারা জ্ঞাতি ভাই,তাই সম্পর্কও আদায়-কাঁচকলায়;দু'জনেই আবার একই রাজনৈতিক দলের সাচ্চা সমর্থক;আবার ঐ দলই শাসনে আছে,তো ওদের পোয়াবারো।ওরা টেন্ডার জমা দিয়ে,কারখানার স্ক্রাপ বা বর্জিত জিনিস সরাবার কাজ পায়;দু'জনের কাছেই, কাজে বহাল আছে,কলোনীর বা ঐ সব দখলিকৃত ঘরের স্কুল-ছুট ছেলের দল ও অন্যেরা; সহজেই কাজ পাওয়া যায়;কেউ ঠেলা ঠেলে ঐ সব বর্জিত জিনিস কারখানার বাইরে,অদূরে থাকা গো-ডাউনে নিয়ে যায়,আবার অন্যেরা,গো-ডাউনে বসে,সে সব জিনিস ঝাড়াই-বাছাই করে; সেগুলো, কোলকাতার বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়;ঐ সব জিনিস,বিভিন্ন কুটীর শিল্পের কাঁচামাল,সুতরাং চাহিদা পর্যাপ্ত।না,শুধু বর্জিত বস্তু নয়,সংগে ঠেলা করে কারখানার পিতল-জাত সামগ্রীও অন্যান্য দামী জিনিসও বাইরে যায়,কোলকাতার মাড়োয়ারী ব্যবসায়ীরা, তা কেনার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে;আর, কারখানার দারোয়ানরা তো মাসের শেষে দক্ষিনা পায়।দু'দলেরই এটা অলিখিত ব্যবসা;অন্ধকারের ব্যবসা,ঘটে স্বার্থের সংঘাত। দু'দলের ছেলেদের মধ্যে চলে বোমাবাজি,পুলিশের ভ্যান খোঁজে আসামী,ধরে নিয়ে যায়,আবার ছেড়ে দেয়।ওদের বসেরা তো শাসন ব্যবস্থায় থাকা মন্ত্রী-হোমরা-চোমরার বশংবদ,তবে!এলাম আর গেলাম,মাঝে কেবল পুলিশ খায় ধমকানি।অঞ্চলের মানুষের হয় শান্তি বিঘ্নিত।
স্থানীয় একটা ক্লাবের নিয়ন্ত্রন নিয়ে,দু'পক্ষের মধ্যে বিবাদ চরমে উঠলে, এক পক্ষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ক্লাবের বেশ কিছু ছেলে/ লোক নিয়ে ঐ অঞ্চলের একটু দূরে,একটা বাড়ি সমেত বিশাল জায়গায় একটা অন্য ক্লাব ও ট্রাস্ট গঠন করে,তার তত্ত্বাবধানে একটা স্কুল গড়ে তুললো ;আর,ট্রাস্টের সর্বেসর্বা হয়ে থাকলো ঐ বিক্ষুব্ধ। কুমারদের কাছ থেকে জলের দামে জায়গাটা কিনেছে;কিনেছে না বলে , জবর-দখলকারিকে উচ্ছেদ করার পুরস্কার বলাই ভালো। কুমারদের জায়গা;তাঁরা কোলকাতায় থাকতেন;দেশ-ভাগের পর এক বর্ধিষ্ঞু উদ্বাস্তু-পরিবারের বিপদে, থাকতে দিয়েছিলেন;অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে,খুব অন্যায় করেছিলেন তাঁরা;পরে,নিজেরা কোলকাতার বাস উঠিয়ে নিজেদের বাড়ি আসতে চাইলে,সাহায্য প্রাপ্ত পরিবার, কুমারদের কোর্ট ঘর দেখায়।এ দেশে,দেওয়ানি মামলার হাল ,কেবল ভূক্তভোগীরাই জানে;কুমারেরা,ঐ বাড়ি সমেত জমি, ঐ পক্ষকে বিক্রয়-কোবলা করে দেয়:আর,উনি তো মন্ত্রীর বশংবদ,স্কুলের মত সামাজিক কল্যাণে
র নাম করে, আর স্কুল-ছুটি বাহিনীর দাপটে, সেই অকৃতজ্ঞ পরিবার বাপ বাপ করে বাড়ি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এখন সেখানে,সরকারি আমলাদের সক্রিয় সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে কিণ্ডারগার্টেন,হয়েছে ব্যঙ্ক;এ ভাবেই,ঐ পক্ষের ব্যবসার প্রসার ঘটলো,ঘটলো প্রতিপত্তি। স্কুলের নিজস্ব বাস,আর রয়েছে,বাঙালী বাবুদের,নিজের ছেলেমেয়ের মুখে,ম্যামি,ড্যাডি শোনার আকাঙ্খা ,অতএব স্কুল ব্যবসা জমে উঠতে দেরী হয়না।কলোনীর দিদিমনি,সুলভে পাওয়া যায়,চালাও পানসি,রয়েছে দুর্বৃত্ত সরকারি অফিসার।
চলবে
0 Comments.