- 262
- 0
অদ্ভুতুড়ে
পর্ব - তিন
পরের দিনই অর্ক বেরিয়ে পড়লো, দোকানে গিয়ে রঙ, তুলি, Canvas সব কিনে আনলো। এবার অপেক্ষা, 'সে ' আসবে কি?
মধ্যরাত হতেই 'সে ' এসে হাজির! বললো... কি হলো ? এনেছো আঁকার সব সরঞ্জাম ?
... হ্যাঁ!
... তবে আর দেরী করছো কেন, নাও শুরু করে দাও!
অর্ক 'র মনে এখনও সন্দেহ , এ কি করছে ও ?
কে না কে এসে কি বললো, আর ও ও চললো 'তার ' কথা শুনতে !
তবুও ও না করতে পারলো না! রঙ তুলি নিয়ে গুছিয়ে বসলো, আর ' তাকে ' বললো ওর সামনে বসতে!
অর্ক 'তার' দিকে এবার মন দিয়ে তাকালো....
সেই সস্তা দামের লাল টুকটুকে বেনারসী, যার সারা জায়গায় মাটির ছোপ লাগা, মাথায় খোঁপার চতুর্দিকে ছেঁড়াখোড়া মালা জড়ানো, সিঁথির চতুর্দিকে টকটকে লাল সিঁদুর, যেটা ছোট্ট কপালেও লেপ্টে রয়েছে, আর কপালে ঘেঁটে যাওয়া চন্দনের আলপনার মাঝখানে একটা জ্বলজ্বলে লাল ঘেঁটে যাওয়া সিঁদুরের টিপ!
অর্ক ওর সামনে বসে অনেকক্ষণ 'তার ' মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো। আজ ওর ভয় কেটে গিয়ে অদ্ভুত অন্যরকমের অনুভূতি ওকে গ্রাস করে নিচ্ছে! আজ পর্যন্ত অনেক ছবি এঁকেছে ও, কিন্তু ভূতের ছবি? সেটা যে আঁকা যায়, এটাই তো ওর ধারণার বায়রে ছিলো! কিন্তু এই মেয়েটা ওর সামনে এসে ওর বোধ বুদ্ধি সব ঘেঁটে দিয়েছে!
মেয়েটাকে আজ প্রথমবার ভালো করে দেখলো ও! অপূর্ব দেখতে সে, বড় বড় ভাসা ভাসা কালো কালো টানা টানা চোখ, উজ্জ্বল গমবর্ণ ত্বক, টিকালো নাক, ফোলা ফোলা গোলাপী ঠোঁট জোড়া, ঠোঁটের নীচে একটা জ্বলজ্বলে কালো তিল। কুচকুচে কালো চুল, খোঁপায় জড়ানো, যার সিঁথিতে ঘেঁটে যাওয়া সিঁদুর জ্বলজ্বল করছে!
কি অসহ্য সুন্দর! কিছুক্ষণ চোখ বুজে ও 'তার 'ছবি মনের মধ্যে এঁকে নিলো! তারপর স্থির হয়ে বসে 'তাকে ' বললো মুখটা এদিক ওদিক ঘোরাতে, কোন দিক থেকে বেশী সুন্দর লাগছে দেখে নিয়ে ওই ভাবে বসে থাকতে বললো ও, আর Canvas এ প্রথম আঁচড় কাটলো!
ধীরে ধীরে একটা ঘোরের মধ্যে চলে গেলো অর্ক, ওকে যেন অদ্ভুত এক নেশায় পেয়েছে, রঙ, তুলি, হাত যেন ওর বশে নেই, মন বলছে, আজ জীবনের শ্রেষ্ঠ ছবি ও আঁকতে চলেছে! 'সে ' অপলক চোখে ওকে দেখে যাচ্ছে, কি গভীর ভালোবাসা ওই অপূর্ব দুটো চোখের মধ্যে!
মাঝে মাঝে দুএকটা কথা বলছে, ওদের গ্রামের কথা, ওর আব্বা আম্মির কথা, ওর ভাইয়া ভাবীদের কথা, ছোট্ট ভাইটার কথা, যে সারাদিন ওর দিদির কোল ঘেঁষে থাকতো, সুবীরের বাড়ির কথা, আরো কত কথা! ভোরের আলো ফোটার আগেই 'সে ' চলে গেলো, বলে গেলো আবার রাতে আসবে 'সে'! অর্ক 'র চটক ভাঙলো, দেখলো ছবিটার একটা রূপরেখা হয়েছে মাত্র! এখনও বেশ কয়েক দিন লাগবে ছবিটা শেষ হতে!
ও শুয়ে পড়লো, কিন্তু ঘুম আসতে বেশ দেরী হলো, বার বার ওর 'সেই 'মুখটা মনে পড়ছে, আর 'ওর ' ঠোঁটের নীচের কালো তিলটা ওকে কি ভীষণ টানছে! সারাদিন অর্ক 'র একটা ঘোরের মধ্যে কাটলো, যা ঘটলো সেটা সত্যি তো, না স্বপ্ন?
সত্যি, সত্যি 'সে' রাতে আবার আসবে?
রাত হতেই অর্ক শুয়ে পড়লো ঠিকই, কিন্তু সারাদিনের ক্লান্তিকর কাজের পরও ঘুম আসছে কই?
বারবার ঘড়ি দেখছে ও, কখন বারোটা বাজবে, সে আসবে কি আজ ?
ঠিক বারোটার সময় ঘরে একটা ঠান্ডা হাওয়ার ঝাপ্টা এসে লাগলো অর্ক 'র গায়ে, আর অর্ক দেখলো 'সে ' এসেছে !
অর্ক কে দেখে বললো.. কই ওঠো, আঁকাটা শেষ করতে হবে তো!
অর্ক ও উঠে পড়লো আর 'তাকে ' বসতে বলে তুলি হাতে তুলে নিলো!
ঘোরের মধ্যে এঁকে চললো, রাতের পর রাত!
ক্রমশঃ....
0 Comments.