- 75
- 0
পুপুর ডায়েরি: ৮৪
দেশলাই জ্বালানো বারন ছিলো একা ঘরে থাকি বলে।
মা অফিস থেকে ফিরতে ফিরতে হেমন্তের দিন এলেই অনেক অন্ধকার হয়ে যেত। কত লোডশেডিং হত তখন।
একা চুপ করে শুয়ে থাকতাম দেয়ালের দিকে মুখ করে। দেয়ালের সঙ্গে ভারি বন্ধুত্ব ছিল একটা। বেশ একটা অন্তরঙ্গ ভরসার আরাম।
যে হেতু আশেপাশের কোনো বাড়িতে যাওয়া আমার যাওয়া নিষেধ, তাই দরজা খুলতামও না, যতক্ষণ না মা এসে কড়া নাড়ছেন। অনেক সময় জ্বর থাকত। প্রায়ই। তা, মা কত আর ছুটি নেবেন।
বা, পিরিয়ড হয়ে ভীষণ পেটে ব্যথা।
বা, ইস্কুলে মারামারি করে হাত পা কেটে এসেছি।
ব্যথা খুব করতো যখন, একটা বলের মত শুয়ে থাকতাম। হাঁটুটা গুটিয়ে, যাকে বলে ফিটাল পজিশান। তখন, দেয়ালের সাথেই যত কথা।
তার মধ্যে কিছু গলা অ্যাড হয়েছিল যখন, সাদা আর কালো ছায়ার একলা ঘরের আলপনায় রঙের নকশা হয়েছিল দু এক ফোঁটা। বন্ধুদের ইয়ারদোস্তি জিন্দাবাদ।
আজ খুব মজা লাগলো হঠাৎ মনে পড়ে, একটা গলা, " এই রে আবার দেয়ালের দিকে ফিরে কেন। এই ত মুশকিল। "
তখন এদিক ওদিক থেকে কানে আসতো জনপ্রিয় ক্যাসেটে বাজা গান…
গজল, রনজিস হি সহি….
খুব অনেক শুনতে শুনতে মাথায় রেকর্ড হয়ে গেছিলো গানখানা।
কিন্তু আমার স্টকে ছিলো না এ গজল।
আমার ঘরে মেহেদি হাসানের অন্য গান ছিলো।
এখন, চার দশক পরে, ছানারা অন্য রকম, নতুন কিছু, শোনে, শোনায়, শুনতেও বলে নিজে নিজে।
আমি ওদের কথা শুনতে ভালো বাসি।
ওরা আমার ভালো লাগাদের শুনেছে তো।
ভাইসি ভার্সা ইজ ফেয়ার, মনে হয়।
তাই এত যুগ পরে মন দিয়ে শুনলাম, রনজিস হি সহি….
মন বলল, ছলাৎ ছলাৎ।
তারপর বুকের মধ্যে গানকে আত্মস্থ করার চেষ্টা করলাম।
ভালোবাসাকে বললাম, ভালবাসি ভালবাসি ।
আর মজা লাগলো ভেবে, যে এটা ২০২১ সাল। এপ্রিল মাস থেকে শুরু করে সেপ্টেম্বরের মাঝে এসেছি।
মন বলছে, রঞ্জিস হি সহি।
না হয় তাই…..
হিংসে ঝগড়া
বলবো না তো।
তাও..
চিন করে ঠিক কাঁটার মত বেঁধে
আচ্ছা তবু, সেই জন্যেই এসো
আবার,
ছেড়ে যাওয়ার জন্য হেসে।
আগের মত না হয় নেই সে চলন
সোহাগ, আদর, রাজহংসীর ঢেউ;
তবুও,না হয়
বাকি সবার মতই,
লৌকিকতার
খাতির করতে এলে
মানছি ভালবাসা মানেই আড়াল,
সোহাগ ভাঁজে লুকিয়ে গোপন হৃদয়
জ্বালাতনের ছুতোই চলুক ফের,
লুকিয়ে এসো দুষ্টুমিতেই না হয়
আমার ভালবাসার গভীর ক্ষতের
কিছু মূল্য কিছু ত মান দেবে ;
তার গুরুত্ব দাওনি কোনো দিন-ই
একদিন ত এসোই ভালবেসে।
প্রেমের মানই রইল না হয় এবার
মানিনী আজ এসো প্রদীপ জ্বেলে।
রাগ করি আজ অনেকখানি আমি
পেলব তুমি একবারটি রাগ ভাঙাতে এলে
তোমার যেমন আসে,
কেবল না - আসার বাহানা
একশ হাজার ছুতোয় কেবল
না আসারই ছল
একদিন ত এসো ; ফিরে না যাওয়ারই ছুতোয়
সেই একদিন চুপ হয়ে যাক ব্যস্ত পায়ের মল
আজ অবধি মনের ভরসা, তোমায় জানে সত্য,
হৃদয় আজও সুখের আশায় তোমার ভরসা করে
না হয় , সে শেষ প্রদীপটুকুই নিভিয়ে দিতে এসো,
তবু এসো,
শেষ আঘাতটি দিতেই এসো ঘরে
কত যুগ যে বঞ্চিত মন
শুষ্ক চোখের জল ও
কত দিন যে বন্ধ কান্না
গুমরে মরে বুকে ;
আরাম দেবার মালিক, এসো, এসো একটি পলে
আসমুদ্র কান্না নামুক, শান্তি আসুক সুখের
প্রাণের আরাম,
আজ না হয় কাঁদাবে বলেই এসো
অদর্শনের জ্বালার কাঁটা বিঁধলে বুকের মাঝে,
ছেড়ে যাবার কষ্ট দিতেই তবু ও একবার
বাহুর ডোরে এসো,
না হয় বিচ্ছেদেরই সাজে।
0 Comments.