Thu 17 September 2026
Cluster Coding Blog

সাপ্তাহিক রম্য সাহিত্যে ইন্দ্রাণী ঘোষ (পর্ব - ১০)

maro news
সাপ্তাহিক রম্য সাহিত্যে ইন্দ্রাণী ঘোষ (পর্ব - ১০)

আলো
১.

চড়া রোদ্দুর রঙ। সিপিয়া রঙের সাথে চড়া হলুদের আঁকিবুঁকি শহর জুড়ে ছড়িয়ে
ছিটিয়ে।

সিপিয়া রঙের ফাঁকে ফিরোজা রঙের উঁকিঝুঁকি। তামাটে হলুদ,সিপিয়া,হালকা ছাই রঙের আলো মোটা ভেনেসিয়ান গ্লাস ভেদ করে সোনালি পানীয়র বুদবুদের উপর ভেসে বেড়ায় অভিজাত বহুতল বাড়ীর ড্রয়িং রুমে.
হলদে ফুলের গাছটার নীচে আখের রসওয়ালা ঝিমোয় আর এক মা ফেরে আনাজের ঝুড়ি নিয়ে, চোখে মুখে ক্লান্তির সাথে পূর্ণতার মিশেল. বাড়ী ফিরে দুটি ভাত চাপাবে. ফেনিয়ে ওঠা আখের রস আর ওই আনাজের ঝুড়ি হাতে মায়ের চিরন্তন ছবি মনে করায় হেমন্ত আসন্ন. পৃথিবীর ভাড়ার পরিপূর্ণ.

রাস্তাতাতে হালকা ফিরোজা আর রূপোলীর মায়াময় ছায়া।

পাড়ার কাশবনে রূপোলী ঢেউ। শিউলিদের কমলা পেড়ে ঢাকাই পড়া নির্ভেজাল রূপটান। আগুনরঙা আলোয় ধোঁয়ার পর্দার ওপারে উমার মাখন গলা সোনালী আলো রঙ।

গোধূলির মোছা মোছা রোদ্দুর রঙ পরম মমতায় বলে গেল " আসছে বছর আবার হবে"।

কমলা রঙের মেঘ ফুড়ে নেমে আসে রামধনু সিঁড়ি। বিদায় ব্যাথার ভৈরবী র রঙ মিলে যায় ওই রামধনু রঙে। এবার বিষাদের রঙ শহর জুড়ে। সেই বিষাদ কাটাতে মাটির প্রদীপের আলোরঙ ভরসা।

বিসর্জন আছে বলেই আবাহন আছে। তাই বিদায়ের আলো উজ্জল ছাই রঙা।

2.

আমার জানলার পাশে এক বিশাল শিউলি গাছ আছে. কাল রাতে শিউলির তীব্র গন্ধ ঘুমের আমেজের সাথে দিব্যি মিশে গিয়েছিল. আজ ভোরে ঘুম ভাঙার সাথে সাথে, শিউলির খোঁজে বারান্দায় দাঁড়িয়েছিলাম. এক ধূসর আলো আবৃত করে রেখেছে চরাচরকে. কয়েকটা শিউলি ঝরেছিল শিউলিতলায় আলগোছে. শিউলিকে বলে হরশৃঙ্গার. আর এই মা দুগগা আসার আগেই তাদের সাজ. এই শৃঙ্গারে হরের ভূমিকা কি বুঝতে অনেকবার চেষ্টা করেছি. পারি নি. হয়তো কোন বেদজ্ঞ জানবেন. আমি তো দেখলাম ধূসর দেহে ছাই মেখে মহাদেব এসে দাঁড়িয়েছন যেন আর তাঁর বিশাল কায়া থেকে নির্গত হচ্ছে ছোট ছোট আলোর কণা. আর সেই আলোর পায়ে লুটিয়ে আছে শিউলিরা. ভস্মমাখা মহাদেবের পায়ে অঞ্জলি দিচ্ছে শিউলিরা. মা দুগগা মর্ত্যে আসার আগে মহাদেবকে বুঝি শিউলিরাই বলে, কয়েকটা দিন বুঝে শুনে থাকতে? হবেও বা. আলোর কণারা তখন একে একে জড়ো হয়ে ভাসতে ভাসতে ছড়িয়ে যায়. বুঝি মহাদেবের প্রেমের আলোর কণা ছড়িয়ে যায় মর্ত্যে. মা দুগগা আসেন. শিউলিরা নতজানু হয় প্রেমের সামনে. মহাদেবের প্রেমসুধা মর্ত্যে ধারন করে শিউলিরা. এই বুঝি হরশৃঙ্গার. মহাদেবের প্রেম মা দুগগা মর্ত্যে আসেন শিউলির পথ বেয়ে.

Admin

Admin

dsaf  

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register