- 22
- 0
১)
অসাংবিধানিক সুখ দু: খ
একখণ্ড মাটির নাম জন্মভূমি
একটি খণ্ডের উৎসজুড়ে প্রলয়।
একটি আলোর মতো ঝুলে আছে প্রেম আকাশের ছাদ বাড়ি
একটি মাটির নাম
হানাহানি অসংবিধান
তোমার হাতের পাপ আজানুলম্বিত
হাত থেকে ডাইনামাইটের বিস্ফোড়ন
তুমি পুজোর আগে আহ্নিক করো
আহ্নিকের আগে উজু
তোমার বুকের উপর ঝলকের উথালি পাথালি
একখণ্ড মাটির নাম ভিক্টোরিয়া,আউট্রাম ঘাট
বুকের স্মৃতি জুড়ে ক্লান্তির শয্যা।
নরম বুকের ওম
ব্যস্ত সঙ্গম শেষে মিশে যাচ্ছে পরিযায়ী হাঁস
বিবাদের সন্ধ্যায় পোয়াতি পুকুরের জলে প্রদীপ
উজু শেষে শুরু হয় ফজরের নমাজ
অথচ একটি মাটির নাম ভারতবর্ষ।
২)
নামহীন খেয়ার তরণী
কে যেন আকাশের নীচে ছড়িয়ে রেখেছে মুক্তাঞ্চল।
কেউ মাঝ বরাবর বিভাজন টেনে বিবাদমগ্ন
এটা আমাদের আর বেড়ার ওপারটা তোমার
এপারের ব্রহ্ম কমল ওপারের পদ্ম
এপারের মওলানা ওপারের বামুন
পরস্পর আচরণ স্পৃহায়
দোল খায় বিবাদের পাখি
ভেবে ভেবে ভাঙা নৌকায় চড়ে বসেছি
আজ আকাশের রঙে ছিন্ন বাঁশি নীরব
ওপারে চৌকাঠে নবাব নন্দিনী শ্মশানে শ্মশানে পা রেখেছেন শবের গায়ে
শন শন বাতাসের কোমল হৃদয়
বাইরে জুড়ে জুড়িগাড়ির বিধান
ভোজনের উচ্ছিষ্টের মদ পড়ে আছে সাধকের গলায়
ভস্ম উড়ে গেলে দূরে
কুড়িয়ে নেব শেষ আঁচলের গিঁট
শরবনে একাকী বাতাসে একা রমনী আমি
ভাটফুলের গন্ধে ভরে উঠছে দেহের বিজন
আমি তাই বিভাজন ভুলে গোত্রহীন বাস্তুহীন খেয়ার তরণী।
৩)
ব্যথার হাপড়
ব্যথার আরশি বেয়ে মুখ আর মুখোশে ফারাক শিখলাম
অথচ জল আর কাচে অমিল কত
আরশিতে রোজ ভিতর পড়ে ফেলি
হাওয়ারা কথা বলে কথার সঙ্গে সুগন্ধ মিশে মিশে আত্মীয়তা বাড়ায়
এভাবে গরমকালের মতোই উড়ে আসছে শীতকাল
রাত ক্রমশ ঘন হয়ে কমে আসছে অফুরন্ত সময়
অবাধ্য হাওয়ার কলার ধরে আমি পুব থেকে পশ্চিমে নদীটির গতিপথ মেপেছি
অথচ চিরকাল খুঁজে চলেছি সেই মুখ সেই শীতল স্পর্শের উত্তপ্ত আদর
এসব খুঁজে পাইনা খুব একটা
অথবা খুঁজে পেলেও তা কমবেশি স্থায়ী হয়
একটা পূর্বজন্মের নদীতে একটা নবজন্মের সকাল কীভাবে বিছিয়ে দিচ্ছিল রোদ
আর আমি খুঁজে পাচ্ছিলামনা কতটা বিদ্যুৎ গতিতে টেনে যাচ্ছিলাম বিস্ময়ের হাওয়াভরা হাপড়।
0 Comments.