Wed 30 September 2026
Cluster Coding Blog

সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি পর্ব - ৯

maro news
সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি পর্ব - ৯

৯

রাতে মনোলীনা গোটা দুই ড্রিংকের পর দিল্লির অন্যতম দামী ডিস্কে নাচতে গিয়ে পা মচকালো। 

সে আশায় ছিলো রনদেব হিন্দি ফিলিমের হিরোর মত তাকে কোলে করে নিয়ে যাবে। 

কাটখোট্টা লোকটা সেটা না করায়, তাকে যে লেংচে লেংচে হাঁটতে হচ্ছে, তাই নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে ইস্তক কম্পলেন চলল একেবারে হোটেলের রিসেপশান অব্ধি। 


রিসেপশনিস্ট ডেস্কে, মায়া একটু হাসি মুছে নিয়ে, রনিকে জিগেস করল, কি হল স্যার? 


রনি বলল, স্টাফেদের কাউকে ডাকো, ম্যাডামের পায়ে চোট লেগেছে। আর ডাক্তার মজুমদারকে একটা ফোন করে দাও। এসে ওনাকে দেখে যান জেনো। 


—- সেকি!! 

আর্তনাদ করে ওঠে মনোলীনা, আপনি আমায় রুমে পৌঁছে দেবেন না ? 


—- না, সরি, আমায় একটা করপোরেট পার্টির দেখাশোনা করতে হবে। 


ভদ্রমহিলার দেওয়া নানা রঙের ইংরেজি গালি পিছনে রেখে কিচেনের দিকে পা বাড়ায় রনি। 

খানিক গিয়ে আর শুনতে পাওয়া যায় না গলাটা। 


–---আহ, শান্তি। 


কিচেনে নানা লোকের গলার আওয়াজ। 

খুচরো হাসি। 

রনি বড় দরজাটা ঠেলে ঢুকে চমকে গেল। 


গোল ফ্রেমের পিছনে চকচকে চোখ, গর্জন তেল মাখানোর মত ঘামে ভেজা মুখখানা, ভীষণ গোল কিন্তু হাসিখুশী একটা ন্যাতানো শাড়ি জড়িত, ছোট মানুষ স্পিডে এদিক ওদিক ঘুরে সবার হাতের জিনিসপত্র চেক করছে। 

আর ইয়ারকি মারছে স্টাফের সাথে হ্যা হ্যা করে। 

রনিকে দেখেই এক গাল হেসে বলল, আপনি এখানে কেন? এভরি থিং আন্ডার কন্ট্রোল। 


আপনার মিস ইন্ডিয়া হবু পার্টনারকে ফেলে চলে এলেন কি করে ? 

কি সুন্দর দেখতে, উফ, দারুন। 

বিয়ে করে ফেলুন রনিবাবু। 

কি ভাল মানাবে আপনাদের। 



রনি, গালে হলুদের ছোপ লাগা, আগুনের তাতে লালচে গোলাপি মুখখানা দেখে, কি রকম যেন হয়ে যায়। 

সবচেয়ে সিনিয়র স্টাফ সুলেমানকে এক ধারে ডেকে, কী অবস্থা, জিজ্ঞেস করতেই, সে এক গাল হেসে বলল, স্যার, এই ভদ্রমহিলা জাস্ট এক ঘর। 

এ জানে সব কিছু ঠিকঠাক। আপনি চিন্তা করবেন না। 

আজ পার্টি দুর্দান্ত উতরে যাবে। 



বার কাউন্টার সামলানোর ছেলেটাকে দুটো ভার্জিন মোহিতো বানাতে বলে, হৈমবতীর কনুইয়ের কাছটা ধরে ফেলে রনি। 


–একটু এদিকে আসুন দেখি।


–কি? কেন? 


–আসুনই না। 


প্রায় টেনেই নিয়ে আসে প্ লিফটের কাছে মহিলাকে রনি। 


–আররে, কোথায় যাচ্ছি? 

 

–চলুন। জরুরি দরকার। 


চোখ বড় বড় হয়ে যায় হৈমর। 


–এই রে, কিছু এমারজেন্সি ? 


–হুঁ।


লিফটের দরজা খুলে যেতেই, একটু ছোট করে ঠেলে হৈমবতীকে ঢুকিয়ে দিয়ে, নিজেও উঠে পড়ে রনি। 


—- রুমের চাবি কই। 


—- কি রুম? 


— আপনার রুম। 


–ওহ, আঁচলের গিঁটে ।


  থেকে চাবি বের করে দেখায় হৈম। 


কেন বলুন না! আরে কি হয়েছে.. 


সসস..

আলতো করে পাতলা গোলাপি ঠোঁটের ওপর হাত রেখে কথার স্রোত থামিয়ে দেয় রনি। 


খুব চমকে উঠে হৈম ভাবে হাতের চেটোটা কি গরম। 

হাতের দারচিনির গন্ধ। 


হৈমর হাত থেকে চাবিটা নিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়ে রনি। 


আসুন আসুন। 


কি ব্যাপার? 


বেল বাজে রুমের। 

হৈমকে ঘরের বড় চেয়ারটায় চেপে বসিয়ে দিয়ে দরজা খুলে দেয় রনি। 

 গৌতম হাতে ট্রে নিয়ে দাঁড়িয়ে। 


স্যার মোহিতো। 


হ্যাঁ, তুই যা। আমি এই রুমে আছি সুলেমানকে বলে দে। কিছু দরকার হলে ইন্টারকমে ডাকে যেন। 


ট্রে হাতে হৈমবতীর দিকে ফিরে, রনদেব বলে ধরুন। 


একটা গ্লাস হাতে নিয়ে হৈম আবার কথা বলতে যেতেই, থামিয়ে দেয় রনি। 


না না, সিপ করুন আগে। 

লম্বা চুমুক দিয়ে, শরীরটা ঢিলে হয়ে যায় হৈমবতীর। 

চেয়ারে পিঠ ঠেকিয়ে বলে, আআহ। 

এই বারে খাটের পাশে বসে রনদেব ও চুমুক দেয় নিজের গ্লাসে। 


আরাম হল ত? 

হ্যাঁ, সে ত হল। 

কিন্তু কি এমারজেন্সি?  


আবার উঠে পড়ার চেষ্টা করতেই রনি বেডসাইড টেবিলে নিজের গ্লাসটা রেখে সোজা সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। 

চোখ থেকে সাবধানে চশমাটা খুলে আয়নার সামনে রাখার পর অসাধারণ সুন্দর দুটো চোখে চোখ রেখে, দু হাতের মধ্যে যত্নে মুখখানা তুলে ঠোঁটে ঠোঁট রাখতেই, চোখ দুটো বুজে গেল হৈমবতীর। 


খুব ফিসফিস করে বলল, আমি কিন্তু কাউকে কখনো চুমু খাইনি।

Admin

Admin

dsaf  

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register