Wed 01 April 2026
Cluster Coding Blog

সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব - ৩৯)

maro news
সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব - ৩৯)

শহরতলির ইতিকথা

 রমা, এবার কমপার্টমেল্টাল পরীক্ষায় বসে স্কুল ফাইন্যাল পরীক্ষার গণ্ডী পেরিয়েছে;বোর্ড হয়তো,রমার ধৈর্য দেখেছে,অথবা তার অধীনে স্কুল ফাইন্যাল পরীক্ষার শেষ সময়ে আর কোনো পরীক্ষার্থীকে টেনে না নিয়ে যাবার চিন্তা ভাবনায়,রমার ভাগ্যে শিকে ছিঁড়েছে;যাই হোক,রমা,রবার্ট ব্রুসকে ধৈর্যের পরীক্ষায় হারিয়ে যে কৃতিত্বের নিদর্শন রাখলো,তা তো প্রশংসার যোগ্য বটেই।

      রাজীব,যে স্কুলের সহকারী শিক্ষক হিসেবে জয়েন করেছে,তার সংলগ্ন এলাকায়,একটা স্পনসর্ড কলেজ আছে;ঐ কলেজেই ইউনিভার্সিটি এন্ট্রান্স(ইউ ই)কোর্সে রমা ভর্তি হয়েছে।এটা এক বছর সময়ের কোর্স। ইউ- ই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে , তবেই গ্রাজুয়েশন কোর্সে ভর্তির সুযোগ মিলবে। এখন তো হায়ার সেকেন্ডারী পরীক্ষায়(এইচ এস) পাস করে তিন বছরের কোর্সে হচ্ছে গ্রাজুয়েশন(পাস কোর্স ও অনার্স)।সব স্কুলে এখনও হায়ার সেকেণ্ডারী কোর্স চালু হয়নি,তাই,ঐ সব স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এই ইউ-ই কোর্স; রমা ,এ কোর্সে ভর্তি হয়েছে;ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার গৌরব শেষ; লোকের মুখে প্রচারিত,গ্রাজুয়েশন এখন ম্যাট্রিক পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণের সমান,অর্থাৎ শিক্ষার অবনতির কথাই প্রকাশ পায়। যাই হোক,প্রাইমারি সেকসনে পড়াতে হলেও গ্রাজুয়েশনের প্রয়োজন পড়ছে,হয়তো রমার তাই এ প্রচেষ্টা; সাধুবাদ তো করতেই হবে।

      রাজীব, কলেজে যোগ দেওয়ার জন্য একমাসের সময় নিয়ে এসেছে;

স্কুলে মাইনে বেশি,আবার ঘরের খেয়ে

মাস্টারি চলবে;কোলকাতারও কাছে থাকা যাবে।পয়সার অভাবে চাটার্ড অ্যাকাউন্টান্সি পড়তে পারেনি;কোনো ফার্মই,তিন হাজার টাকা আগাম না নিয়ে,ফার্মের ইনটার্নসিপ করাতে রাজী হয়নি।

     রাজীব ভাবে,এবার সে গবেষণার দিকে মন দেবে; তা করতে গেলে,কোলকাতা বা কোলকাতার কাছাকাছি কলেজ হলে ভালো হয়। কোলকাতার কলেজগুলো,আবার আরও কম টাকা দেয়;অবশ্য ওখানকার কলেজগুলো ডিএ একটু বেশি দেয়। রাজীব ভাবে,কলেজের মাস্টার মশাইদের সাদা-পাঞ্জাবীর আড়ালে লুকিয়ে থাকে কত আর্থিক দূরাবস্থা! জুটমিলের শ্রমিকও অনেক সময় তাঁদের চেয়ে বেশি উপার্জন করে থাকে।

     রাজীব ভাবে,স্কুলের শিক্ষকতা করলে তো গবেষণার সুযোগ হবে দুষ্কর,আবার ঐ মুর্শিদাবাদের কলেজে যোগ দিলে,কোলকাতার মাস্টার মশাইদের থেকে অনেক দূরে চলে যাবে,খুবই দ্বিধাগ্রস্থ;হঠাৎই একদিন রমাদের কলেজের নৈশ বিভাগের বিজ্ঞাপন বেরোল;রাজীব দরখাস্ত পাঠিয়েছে,ইন্টারভিউও দিল;দু/তিন দিনের মধ্যেই কলেজ থেকে নিয়োগপত্র পেল।মুর্শিদাবাদের কলেজে, এ খবর জানিয়ে দিয়েছে।

    এবার,স্কুল থেকে বিদায়ের পালা;রেজিগনেশন লেটার জমা দিতেই,সেক্রেটারিও হেড-মাস্টার মশাই বললেন,''ঐ কলেজের টাকায় তোমার চলবে?কলেজ তো রাতে,তুমি,দিনে স্কুলে কর,আর রাতে কলেজে পড়াবে",

বলে দরখাস্ত কুচিয়ে ফেলে দিলেন।

রাজীব, বাড়িতে দুশো টাকা করে দিতে পারছে,তো বাড়িতে,তার অবস্থানের পরিবর্তন ঘটেছে;টাকায় গোপাল নাচে,এ কথা তো সবাই বোঝে;অনুজদের আব্দার মেটছে,আর জন্মদাতা-জন্মদাত্রীর মুখে এনেছে হাসি, এইটাই স্বস্তি। রাজীব দিনে স্কুলে মাস্টারি,আর রাতে ঐ নিকটবর্তী কলেজে অধ্যাপনা করছে;খুবই ব্যস্ত। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে গবেষণার ইচ্ছা প্রকাশ করতেই খেল প্রচণ্ড ধমক,"কমার্সে গবেষণা কেউ করেছে,যাও কস্ট-ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়ে,কস্ট-অ্যাকাউন্টান্ট হও।" রাজীব,কস্ট ইনস্টিটিউটে ভর্তি হলো।

     তখনকার দিনে,কস্টিং'র উপর কোনো ভালো বই ছিল না,উপরন্তু ছিল একশো নম্বরের ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ের উপর একটা পেপার,মোট আঠারোশো নম্বর; ইনটারমিডিয়েটে ন'শো,তার মধ্যে রয়েছে ঐ পেপার,সংগে আছে অঙ্কের পেপার,একশোর মধ্যে চল্লিশ নম্বর ত্রিকোনমিতিক অঙ্ক;কমার্সের ছাত্রদের অঙ্কের জ্ঞান তো পাটিগনিতে সীমাবদ্ধ,ফলে ঐ পথে প্রায় কেউই যেতে সাহস করতো না। রাজীব, স্যারেদের উপদেশে,কোলকাতার সদর ষ্ট্রিটে,কস্ট ইনস্টিটিউটের হেড অফিসে,নিজের নাম রেজিষ্ট্রেশন করিয়েছে,ইচ্ছা একজন কস্ট অ্যাকাউন্টটান্ট হয়ে,কোম্পানীর নিয়ন্ত্রক হবে।ঐ সময় নিকটবর্তী কোম্পানিগুলোতে একজন করে কস্ট অ্যাকাউন্টান্ট থাকলেও,ওদের অঞ্চলে বা ওদের স্কুল থেকে কেউই কস্ট অ্যাকাউন্টটান্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি।

(চলবে)

Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register