- 58
- 0
মহুয়া
"জঙ্গলে এলে আজও তোর কথাই মনে পড়ে। আর অবধারিত ভাবে খোঁজ করি তোর নামের গাছকে।
এবারও বাঘ দেখার জন্য চলে এসেছি বনে।
একাই এসেছি। সঙ্গী সাথি জোটাতে পারি নি। চালাও পানসি! একলাই চলো।
থাকব কয়েকটা দিন। তুই কেমন আছিস জানি না। খোঁজ খবর তো রাখতে চাস না। আমি যোগাযোগ করলে তুই করিস।
আমার একারই দোষ ছিল বল!..
তুই তো এখন টাইম জোনের হেরফেরে ঘুমোচ্ছিস। তোর ওখানে মাইনাস ডিগ্রি। আমার এখানে সাইত্রিশ ডিগ্রি। আমি ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে বসে আছি তোর গাছের ছায়ায়। তুই কি সত্যিই ভুলে গেছিস আমাকে!.."
মেসেজটা টাইপ করে অনন্য পড়ল বার তিনেক। কিপ নোটস এর পাতায় লিখেছে। এবার কপি পেস্ট করবে মহুয়ার হোয়াটসঅ্যাপে।
আজ অনেকদিন পর মহুয়াকে মেসেজ করল।
হারিয়ে যাওয়া বন্ধু, ভুলতে না পারা বন্ধুর জন্য অনন্য আজও বেদনা অনুভব করে।
রিসর্টের মধ্যে অনেক গাছ। মহুয়া গাছ এই একটাই। অনন্য মহুয়া গাছের ছায়ায় বসে ক্যামেরার ছবিগুলো দেখছে। আজকের সাইটিং দুরন্ত হয়েছে। বাঘের জল খাওয়ার দৃশ্যটা বারবার দেখছে। জিভ উল্টিয়ে তৃষ্ণার্ত বাঘ কেমন ডোবার জল খাচ্ছিল।
পকেটে থাকা ঘুমন্ত মোবাইলটা আচমকা বেজে উঠল। মেসেজ এলো- "আমি তো এখন সেরেংগেটিতে। টাইমজোনের হিসেবে তোর খুব কাছাকাছি। মাত্র চার ঘন্টা। আমি দুরন্ত ছবি পেয়েছি সিংহের।" মহুয়ার মেসেজটা দেখে অনন্য বিহ্বল হয়ে পড়ে। এটা কি সত্যি!.. না অলৌকিক।
"তুই কবে গেলি সেরেংগেটি?"
"গত পরশু এসেছি।"
"ক'দিন থাকবি।"
"তানজানিয়ার বাকি জঙ্গলগুলোও দেখব। তাই একটু বেশি দিন থাকার প্ল্যান নিয়ে এসেছি।"
"ও!.."
ওপার থেকে আর মেসেজ ভেসে এলো না!.. অনন্য আবার কি লিখবে ভেবে উঠতে পারে না। খুব জানতে ইচ্ছে করছে, অথচ সাহস করে লিখতে পারছে না, "তোর পি এইচ ডি কতদূর? তুই কি একা এসেছিস? এখনো একা তুই?"
"মাসিমা কেমন আছে রে?" ভেসে এলো হঠাৎ মহুয়া।
"ভালো নেই।"
"তুই কেমন আছিস?"
উত্তর না দিয়ে অনন্য চুপ করে থাকল। বাতাসে শন শন শব্দ। পাতা ঝরছে হাওয়ায়। একটা দুটো মহুয়া পাতাও ঝরে এসে পড়ল ওর পাশে, ওর গায়ে।
অনন্য দুটো মহুয়া পাতা কুড়িয়ে নিয়ে গভীর ভাবে ভাবছে, এবার কি সব অভিমান ভুলে, রাগ দুঃখ ভুলে একবার বলবে, "আয় মহুয়া, সব ভুলে আমরা আবার নতুন করে শুরু করি।"
মহুয়া গাছের নিচে রৌদ্র-ছায়া খেলা করছে।
দুটো অভিমানি মন সাড়া দেওয়া না দেওয়ার দ্বন্দ্বে দুলছে। বনে এসেও মনে কত বেদনা!.
অথচ বনের বাঘ-সিংহ দুজনই দুজনের ক্যামেরায় বন্দী!
0 Comments.