Tue 23 June 2026
Cluster Coding Blog

সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি পর্ব - ৪

maro news
সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি পর্ব - ৪


দুশোএক নম্বর ঘরে থাকতে শুরু করেছে হৈমবতী।

 তার ইস্কুলে এখন ক্রিসমাসের ছুটি চলছে । আই ভি এফ সেন্টারের সঙ্গে এই রকমই প্ল্যান করেছিল হৈম। 

একজন টেস্ট টিউব বেবিকে সে নিজের ভিতরে নিয়েছে সময় টময় হিসেব করেই। 

পাহাড়ের ইস্কুলে পড়ায় সে। মাস দুয়েক এমনিতেই ছুটি। আরও মাস চারেক ম্যাটারনিটি লিভ পাবে। বাচ্চার ছ মাস বয়স হলে ইস্কুলের সঙ্গে লাগোয়া ক্রেশে তাকে রাখা যাবে । তখন সেও জয়েন করবে ক্লাশ নিতে । টেস্ট টিউব বেবির মা হবে ভেবে প্ল্যান করে থেকেই অনেক কিছু ভেবেচিন্তে এগিয়েছিল হৈমবতী । আর তখন মনে হয়েছিল নিখুঁত প্ল্যানিং । খুব যুক্তিশীল , বাস্তবজ্ঞান সম্পন্ন । 


কিন্তু স্পার্ম ব্যাঙ্ক থেকে ডোনার স্পার্ম দিয়ে ডাক্তার আর্টিফিশিয়াল ইন্সেমিনেশান করে দেবার পর, প্রসেস সাকসেসফুল হয়েছে বললেন যে মাসে, তারপর থেকেই শরীরে নানান রকম নতুন ধরনের অনুভূতি আর মনের ও এত রকম তোলপাড় হতে থাকবে , সেটা কোন প্ল্যানে ছিল না । 

কেমন যেন অসহায় লাগে হৈমর মাঝে মাঝে । 

এক নতুন প্রাণ সাড়া দেয়ার সাথে সাথেই যে এত রকম কাণ্ড ঘটে, কে জানত। 


হৈম নিজে একমাত্র সন্তান। বাবাকে ছোট বেলাতেই হারিয়েছে। ও দার্জিলিঙের ইস্কুলে পড়ানোর রেসিডেন্সিয়াল চাকরিটা নেবার পরে মা হৃষীকেশের কাছে একটা আশ্রমে থাকতে শুরু করেছেন । 

 ওদের মফস্বলের দোতলা বাড়িটা ভাড়া দিয়ে রেখেছেন মা ।


হৈমবতী তার ইস্কুলেরই এক মাষ্টার মশাইয়ের প্রেমে পড়েছিল জয়েন করার পরে পরে। 

এক দিন স্টাফ রুমের ঘরটায় ঢোকার আগেই শুনতে পেল আরেক স্যারকে ওর হবু বর জানাচ্ছে, নেহাত বাড়ি আছে , আর ইস্কুলের পার্মানেন্ট চাকরি তাই অমন রোগা চশমাওয়ালা মেয়ের সাথে ঘোরাঘুরি করি । নইলে ভদ্রস্থ মেয়ের কি দেশে অভাব আছে ভাই? 


ডাঙায় তোলা মাছের মত খাবি খেতে খেতে বাথরুমে গিয়ে কেঁদেছিল হৈমবতী ।

 

আর সে দিনই বিকেলে চায়ের দোকানে চা খেতে খেতে খুব নিভাঁজ মুখে সেই মাষ্টারমশাইকে মেয়ে জানিয়ে দিয়েছিল, মা এই বিয়েতে মত দেননি , তাই আর আপনার সাথে ঘোরাঘুরি করতে পারব না ।


হোটেলের সুন্দর আয়না দেয়া বাথরুমে দাঁড়িয়ে সেই লোকটির দেয়া নানান রকম গালিগুলো মনে পড়তে হেসে ফেলল হৈম , আর তার পরেই চোখ থেকে জল পড়তে থাকল ঝর ঝর করে । 

কি যে হয় আজকাল ।

বাচ্চাটা পেটে এসে থেকেই সব কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে । 

মাকে এখনো সাহস করে বলতে পারেনি হৈম যে, সে একা একাই মা হবার ডিসিশান নিয়েছে ।

Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register