- 4
- 0
সম্পাদকীয়
দুপুর একটার ইশকুলের আর্টরুম, মধ্যবয়সী দিদিমনির ইংরেজির ক্লাস হয় এখানে। এই আর্ট রুমের দুই দেয়ালের অর্ধেকটা জুড়ে বিশাল জানলা।এই জানলার একদম উপরের দিকে একটা বুলবুলি বাসা করেছে। প্রতিবছরই করে। গতবছরের বাসাটাও খালি পড়ে রয়েছে। মা বুলবুলি প্রায় সবসময় ছানাদের খাওয়াতে আসে। এ বছরের বাসাতেও দু তিনটে ছানা রয়েছে। সারাক্ষন হাঁ করে খেতে চায় ছানাগুলো। মা বুলবুলি ক্লান্ত হয়ে খাইয়ে দাইয়ে একটু জিরোয়, ঠোঁট দিয়ে পালক গুছিয়ে আবার উড়তে যায়। ঠিক যেন ওয়ার্কিং মাদার। বাচ্চাদের খাইয়ে নিজে পরিপাটি শাড়িটি পড়ে, কোমরে রুমালটি গুঁজে চার্টার্ড বাস ধরতে যাবে।
দিদিমণি দেখলেন সোনালী, উজ্জ্বল রোদ্দুরটা আস্তে আস্তে রুপোলী হল । কালো রাগী মেঘেরা জানলার ওপারে এসে হাজির হল। ভীষণ গম্ভীর মেঘেরা। তর্জন, গর্জন নেই। সঙ্গে সঙ্গে তীরের ফলার মত বৃষ্টিরা ধেয়ে এল, সমস্ত চরাচর ঢেকে। মা বুলবুলি কোথা থেকে উড়ে এসে ডানা মেলে বাসা আগলে বসল। কখন যে ঘণ্টা পড়ল, কখন যে বৃষ্টি থামল, কারুর খেয়াল নেই। দিদিমণি বিভোর হয়ে দেখে যাচ্ছিলেন, দিদিমনির ছানারাও।
দিদিমনির মনটা মা বুলবুলির ডানা জোড়ায়, আর তাঁর বাচ্চাদের বৃষ্টি ধোঁয়া আকাশে সাদা মেঘের সিঁড়িতে।
মা বুলবুলি ডেকে ওঠে তখনই। কালো গলার নীচে লাল ফোঁটা দেয়া সিঁদুর রঙা পালক গুছিয়ে নিয়ে দিদিমণি কে বলে " মেলা কাজ বাকি, উড়ান বহুদুর, আকাশের খবর নিয়ে আসি গে, তুমিও যাও'।
হেসে ফেলে দিদিমণি। দিদিমনির মনে শুধু একের পর এক জলছবির ভিড় তখন।
ছানাদের উড়ান সব সময় সুন্দর।
শুভেচ্ছা নিরন্তর।
ইন্দ্রাণী ঘোষ।
0 Comments.