- 6
- 0
৩
সুন্দরী বয়স্ক মানুষটিও এসে বসেন পাশে।
-- পিঠে ব্যথা না ? রনি হবার সময় আমারও এত ব্যথা থাকত পিঠে ছ মাসের পরে থেকেই।
আলাপ করি ভাল করে।
আমি কলাবতী রায়।
এই হোটেলটা এখন আমার ছেলে রণদেবের।
আপনি ?
সুটকেস নিয়ে যাবার লোক আর লেবুর জল নিয়ে আরেকজন একসাথেই এসে দাঁড়িয়েছিল।
হৈম ব্যস্ত হয়ে উঠে দাঁড়াতে যাচ্ছে দেখে কলাবতী ওর হাতে আলতো হাত রাখেন।
শরবতটা খেয়ে নিন না। ওরা সুটকেস ওপরে রাখুক নিয়ে ততক্ষণে। তারপর লিফটে দোতলায় উঠে যাবেন।
লম্বা বাস জার্নি, একা এই বাচ্চাটাকে নিয়ে চলাফেরা করার দুশ্চিন্তা, শরীরের নানাধরনের অস্বস্তি ; সব মিলিয়ে খুব কষ্ট হচ্ছিল ভিতরে ভিতরে।
এই মমতার ছোঁয়াটুকুতে চোখে এবারে জল এসে গেল হৈমবতীর।
মাথা নীচু করে নিজেকে সামলে নিচ্ছিল সে।
কলাবতী দেবী তাকিয়েছিলেন তার দিকে।
সে মুখ তুলতে, হাল্কা হেসে বললেন, আপনি একা?
হৈম ফ্যাকাসে মুখে জোরের সাথে বলল, হ্যাঁ আমি সিঙ্গল মাদার।
স্মিত মুখে বয়স্ক মানুষটি বললেন, বেশ ত। কিছু দরকার হলে জানাবেন। ঘরে ফোন ত আছেই।
কোন কৌতূহল নয়, কোন উঁকিঝুঁকি মারার চেষ্টা নয়, এমনকি প্রশ্নও নয়।
হৈমবতী লম্বা একটা শ্বাস ছেড়ে বাঁচল। তারপর লিফটের সামনে গিয়ে বোতাম টিপল আস্তে।
0 Comments.