- 7
- 0
হৈমবতীর হৃদয় বৃত্তান্ত
১
হৈমবতী নিজের নামের বানানটা লিখতে লিখতে ভুরু কোঁচকায়।
কি কুক্ষণেই দিদিমা হিমালয়কন্যাকে দেখে এসে ভক্তি গদগদ হয়েছিলেন। হিমালয় ভ্রমণের সবটা পুণ্য মেয়ের সন্তানকেই দান করে যেতে হয়েছিল কেন যে !
ছোটবেলা থেকে এই সেকেলে নাম আর তার এতবড় ইংরেজি বানান নিয়ে নাজেহাল হৈম।
আজকেও হোটেলের রেজিস্টারে লিখতে লিখতে বিরক্ত হল।
সঙ্গের সুটকেসটা পায়ের কাছে রাখা আছে। টেবিলের ওদিকে দাঁড়ানো মহিলা একটু ঝুঁকে দেখছিলেন ওকে। তাতে আরও বিরক্ত লাগছিলো।
কি অভদ্র রে বাবা। কোন দিন প্রেগন্যান্ট মহিলা দেখেনি নাকি?
সিল্কের শাড়ির আঁচলটা আরেকটু ভালো করে টেনে নেয় পেটের ওপরে হৈমবতী।
খাতায় নামধাম বয়েস ইত্যাদি লিখে আধার কার্ড বের করে ফেলল হৈমবতী, ফোটো আইডি হিসেবে।
রিসেপশনিস্ট মহিলা কার্ডটা এদিক ওদিক করে দেখে বলল, হাজব্যান্ডের নাম কই?
কানটা গরম হয়ে ঝাঁঝাঁ করতে শুরু করছিল হৈমর।
--কিসের হাজব্যান্ড ?
--মানে, আপনার ত দেখছি বেবি হবে, তা হাজব্যান্ডের নাম নেই আধারে ? লেট বলে শুধু বাবার নাম দেখছি।
-- বেবি হলেই হাজব্যান্ড থাকতে হবে ?
--অ। ডিভোর্সী ?
-- না।
-- আহা আহা, উইডো? সরি। বুঝতে পারিনি। কিছু মনে করবেন না।
সমবেদনায় কাঁচুমাচু হয়ে ওঠা মহিলাকে এবার খেপে গিয়ে ধমক লাগায় হৈমবতী।
-- না উইডো নই। কিন্তু তাও বেবি কেন, তার কৈফিয়ত আপনাকে দিতে হবে ? আপনাদের হোটেলে চেক ইন করতে হলে স্বামী থাকা কম্পালসারি? কই ওয়েবসাইটে কোথাও লেখা নেই ত?
-- না মানে।
একটু থতমত খান মহিলা।
এইবারে হৈমবতী ফুল ফর্মে নেমে পড়েছে।
-- কি মানে ? ফর্মালিটি কম্পলিট না করে, দাঁড় করিয়ে রেখে পুলিশি জেরা করে হ্যারাস করছেন!
আমি কাষ্টমার কেয়ারে কমপ্লেন করব। ইয়ারকি ?
কি ধরনের অসভ্যতা এগুলো!!
0 Comments.