- 5
- 0
ষষ্ঠীর দিনের কথা।
দিকনগরে ষষ্ঠী ঠাকরুণের কাঠামোর মগডালে চড়ে বসেছে এক গুরুমশাই।
গাঁয়ের বৌ, ঝি ষষ্ঠী ঠাকরুণের পুজো দিতে এসেছে। রাজার পাহারা হাকিয়ে দিল। রাজপুত্তুর বিশ্রাম নিচ্ছেন। বিয়ে করতে যাচ্ছেন।
বটতলায় আজ ষষ্ঠী ঠাকরুণের পুজো হল না। ষষ্ঠী ঠাকরুণ ক্ষীদের জ্বালায় অস্থির হলেন, তেষ্টায় গলা কাঠ হল। ষষ্ঠী ঠাকরুণের মুখে জলবিন্দু পড়ল না। ঠাকরুণ কাঠামোর ভিতরে ছটফট করছেন।
বানর এক ফন্দী এঁটেছে দেখছি, দরজা খুলে রেখে আড়ালে গেছে।
ওই মা ঠাকরুণ বেড়িয়েছেন, ভেবেছেন আপদ গেছে। নৈবেদ্যর ছোলাটা, কলাটা সন্ধান করছেন.
ওই যে মা ঠাকরুণের চোখ ক্ষীরের ছেলের উপর পড়েছে । ঠাকরুণ আর লোভ সামলাতে পারছেন না। ঘুম পাড়ানি মাসি, পিসিকে ডেকে ফেলেছেন। দুই বোন ঘুমের দেশ ছেড়ে দিকনগরে এলেন।
ঠাকরুণ বলছেন 'বাছারা এতখানি বেলা হল, এখনোও ভোগ পাই নি। তোরা এক কাজ কর, দেশের যে যেখানে আছে ঘুম পাড়িয়ে দে। আমি ডুলির ভিতরে ঢুকে ক্ষীরের ছেলেটি খেয়ে আসি'।
ষষ্ঠী ঠাকরুণের কথায় মাসি, পিসি মায়া করলেন,দেশের লোক ঘুমিয়ে পড়ল। মাঠের মাঝে রাখাল, ঘরের মাঝে খোকা, খোকার পাশে খোকার মা, খেলাঘরে খোকার দিদি ঘুমিয়ে পড়লে। ষষ্ঠী তলায় রাজার লোকজন, পাঠশালে গাঁয়ের ছেলেপুলে ঘুমিয়ে পড়লে,গাঁয়ের গুরু বেত হাতে ঢুলে পড়লেন। দিগনগরে দিনে দুপুরে রাত এলো।
শুধু জেগে রইল দুয়োরানীর বাদর আর কাঠামোর উপর চড়ে বসা গুরুমশাই।
ষষ্ঠী ঠাকরুণ ক্ষীরের ছেলের বুক, পিঠ, মাথা খেলেন, দশটি আঙুল তাঁর বাহনদের দিলেন। ক্ষীরের দুটি কান মাসি, পিসির হাতে দিয়ে বিদায় করার আগে বললেন 'দেখিস বাছারা মন্ত্রীমশাই, রাজামশাই, কারুর ঘুম যেন না ভাঙে, আর গুরুমশাইরা যেন চাইলেও চোখ খুলতে না পারেন, চেপে বসে থাকবি চোখের পাতায় জাকিয়ে।'
ঘুমপাড়ানি মাসি, পিসি সব শুনে বিদায় নিয়েছে। ষষ্ঠী ঠাকরুণ মুখ মুছে কাঠামোতে ঢুকতে যাবেন, এমন সময় বানর লাফ দিয়ে সামনে পড়েছে,বলছে 'ঠাকুরুণ পালাও কোথা, আগে ক্ষীরের ছেলে খেলে ফিরত দিয়ে যাও। চুরি করে ক্ষীর খাওয়া ধরা পড়েছ,দেশে বিদেশে কলঙ্ক রটাবো। আর ঘুম পাড়ানি মাসি পিসিকে কি মন্ত্রণা দেওয়া হল শুনি, সকলকে বলে দেব'।
'আর মর এ মুখপোড়া বলে কি,সর সর আমি পালাই, লোকে আমায় দেখতে পাবে'.
বানর বললে 'তা হবে না আগে ছেলে দাও,
নয়তো কাঠামোশুদ্ধু আজ তোমায় দিঘীর জলে ডুবিয়ে যাব, দেবতা হয়ে ক্ষীর চুরি আর পাঠশালা বন্ধ করার শাস্তি পাবে' ।
'ইয়েসসসসস' বলে কাঠামো থেকে বাদরকে সাপোর্ট দিতে এক লাফ দিলেন গুরুমশাই, ষষ্ঠী ঠাকরুণের ছেলেমেয়েদের বাজে আহ্লাদ দেওয়ার প্রতিবাদে। ওমা, কোথায় গেল দুয়োরানীর বাদর, কোথায় দিকনগর, কোথায় ষষ্ঠী ঠাকরুণ, চোখের নিমেষে সব ভ্যানিশ, গায়ে কেমন জাল জড়িয়ে গেল গুরুমশাইয়ের।
ও হরি কাঠামো থেকে লাফ দিতে গিয়ে মশারিতে জড়িয়ে গেছিলেন গুরুমশাই।
সকাল ছটার মোবাইল এলার্ম বলছে 'ইয়েসসসসসসস, ইয়েসসসসসসসসস, ইয়েসসসসসসসস'।
গল্পটি একজন গুরুমশাইয়ের যিনি আজও স্বপ্ন দেখেন ষষ্ঠীর ষেঠের বাছাদের মানুষ করে তোলার। এমন সত্যি কথা বলা বাঁদর আর গুরুমশাইরা স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকুন। এদের আজ বড্ড দরকার। স্বপ্নটা যেন ভ্যানিশ না হয় ।
শুভেচ্ছা নিরন্তর।
ইন্দ্রাণী ঘোষ
0 Comments.