- 4
- 0
অদ্ভুতুড়ে
অর্ক ঠিক করলো যে ও নিজে গিয়ে হাবিবপুরে ঘুরে আসবে... দেখে আসবে 'সে' যা বলেছে, সব সত্যি কিনা!
পরের ছুটির দিন দেখে ও বেরিয়ে পড়লো bike নিয়ে হাবিবপুরের উদ্দেশ্যে!
খোঁজ করতে করতে ও ঘন্টা তিনেক বাদে পৌঁছিয়ে গেলো হাবিবপুর গ্রামে!
ঘুরে ঘুরে গ্রামটা দেখতে লাগলো ও...।
পুরানো ভাঙাচোরা পাঠশালা, যেখানে নাকি সুবীর আর রুকসানা পড়তে যেতো,
পুকুরটা, যার পাড়ে বসে সুবীর রুকসানার ছবি আঁকতো,
খেলার মাঠটা, যেটাতে সুবীর বন্ধুদের সাথে খেলতো,
পুরানো মন্দির, ঠাকুরদালান,
সবই আছে জায়গা মত!
দু চার জনকে জিজ্ঞাসা করে ও বিশেষ সুবিধা করতে পারলোনা!
পন্ডিত বাচস্পতি চট্টোপাধ্যায়'র হদিশ কেউ দিতে পারলো না,
কেউ চিনতেই পারলো না!
শেষে অর্ক ঘুরতে ঘুরতে গোসাঁই পাড়াতে পৌঁছোলো।
সেখানের মন্দিরের বৃদ্ধ সেবায়েত বললেন,
উনি এই নামটা শুনেছিলেন ওনার বাবার কাছে , ছোটবেলায়!
অর্ক কে জানালেন যে চট্টোপাধ্যায় পরিবারের কিছু মানুষ এখনও গোসাঁই পাড়াতে থাকেন।
উনি আরো বললেন যে একজন বেশ বয়ষ্ক ভদ্রলোক আছেন ওদের মধ্যে যিনি হয়তো অর্ক কে সাহায্য করতে পারবেন!
অর্ক সেখানে ছুটলো...
ভাঙাচোরা, ইঁট বার করা বাড়ির দালানে বসে থাকা
বয়ষ্ক চট্টোপাধ্যায় মশাই অর্ক কে দেখে অবাক, আর ওর প্রশ্ন শুনে আরো অবাক!
হ্যাঁ, উনি শুনেছিলেন বটে এরকম একটা ঘটনা ওনার কাকার সম্বন্ধে,
কিন্তু এই নিয়ে আলোচনা করা বাড়িতে, পাড়ায় একদম নিষিদ্ধ ছিলো!
তবুও ফিস্ ফিসানি, কানাঘুশো তো বন্ধ করা যায়নি,
তাই হাওয়ায় হাওয়ায় ছড়ানো খবর ওনার কানেও এসে পৌছিয়েছিল!
অর্ক কিছু প্রশ্ন করে সুবীরের সম্বন্ধে কিছু কিছু তথ্য জেনে নিলো,
তবে রুকসানা সম্বন্ধে প্রশ্ন করতে বৃদ্ধ চট্টোপাধ্যায় মশাই কথাটা ভয় ভয় এড়িয়ে গেলেন,
বিশেষ উত্তরই দিলেন না!
ওদের প্রেম কাহিনীর সম্বন্ধে প্রশ্ন করতে উনি যেমন
চমকে উঠলেন,
তেমনি ভয় ভয় জিজ্ঞেস করলেন ও এতো কথা কি করে জানলো!
অর্ক সে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলো বটে,
কিন্তু ওই ভদ্রলোক কে সুবীরের সম্বন্ধে বিশদ জানতে চাইলে উনি প্রসঙ্গ টা এড়িয়ে গেলেন,
আর অর্ককেও বারণ করে দিলেন,
এই বিষয়টা নিয়ে এই গ্রামে বেশী আলোচনা না করতে!
খালি বললেন যে সুবীর অল্প বয়েসে মারা গিয়েছিলো,
তবে রুকসানার কি হলো সেটা জানা নেই!
অর্ক 'র যা জানার ছিলো, তা জানা হয়ে গেছে,
ও বুঝে নিয়েছে যে 'সে ' যা বলেছিলো, সবই সত্যি!
ও এবার ফেরার পথ ধরলো!
.
.
.
ফিরে এসে অর্ক 'তাকে ' জানালো তার হাবিবপুর এ যাওয়ার কথা,
সেই শুনে 'সে ' একটু করুন হাসি দিয়ে বললো... এবার বিশ্বাস হলো তো আমার কথা ?
নাও, এবার তো আমার শ্রাদ্ধ টা করো!
অর্ক তার বন্ধু মহলে খোঁজ খবর করে একজন পুরোহিতের ব্যবস্থা করলো, যিনি কাজটা করবেন!
ঠিক হলো আগামী অমাবস্যায় কালীঘাটে, আদি গঙ্গার ধারে, একটা মন্দিরে সেই কাজটা হবে!
নির্দিষ্ট দিনে অর্ক সময় মত উপস্থিত হয়ে দেখলো উনি মন্দিরের মধ্যে অপেক্ষা করছেন ওর জন্য..।
অর্ক 'র আঁকা ছবিটা ফুল মালা দিয়ে সাজিয়ে রাখা হলো,
সামনে ফল, ফুল, মিষ্টি, দান সামগ্রী সব থরে থরে সাজানো,
অর্ক আসনে বসলো পুরোহিত মশাইয়ের পাশে
আর উনি পূজো শুরু করলেন!
পুরোহিত মশাই মন্ত্র পড়ে চললেন শাস্ত্র মতে,
অর্ক কে যেমন যেমন করতে বললেন ও ও করে চললো, কিন্তু ওর খুব মন খারাপ!
সে ভাবছে, এর পরে আর 'তার ' সঙ্গে দেখা হবে না...!
গত কয়েক সপ্তাহে রাত গুলো কি সুন্দর কেটেছে,
ছবি আঁকতে আঁকতে ওর আগের জীবনের গল্প,
ওদের মিষ্টি প্রেমের গল্প,
আর শেষে প্রেমের নিষ্ঠুর পরিণতির গল্প,
সব শুনতে শুনতে সময়টা কেমন স্বপ্নের মত মনে হত!
সে সব তো আজ থেকে আর হবেনা,
কি ভাবে রাত গুলো কাটবে ওর?
পুরোহিত মশাই নিষ্ঠার সঙ্গে শ্রাদ্ধের সমস্ত আচার অনুষ্ঠান করে যাচ্ছেন,
অর্ক কে যেমন যেমন বলছেন, ও তেমন তেমনই করছে!
ঘন্টা দুয়েক বাদে কাজ শেষ হলো!
পিন্ডদান ও হয়ে গেলো!
এবার পুরোহিত মশাই অর্ক কে বললেন গঙ্গায় গিয়ে সব ভাসিয়ে দিতে!
পাশেই আদি গঙ্গা, অর্ক সেখানে গিয়ে সব ভাসিয়ে দিলো,
তারপর ধীর পায়ে মন্দিরে ফিরে এলো!
এসে দেখলো পুরোহিত মশাই সমস্ত দান সামগ্রী গুছিয়ে নিচ্ছেন,
ও ওর আঁকা ছবিটা তুলে নিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরলো!
বিদায় নেবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো,
এমন সময় গঙ্গার থেকে একটা দমকা হাওয়া দু হাত বাড়িয়ে ছুটে এলো ওর দিকে,
মন্দিরে ঢুকে সমস্ত ফল ,ফুল , দান সামগ্রী লন্ডভন্ড করে দিলো,
তারপর ঘূর্ণির মত অর্ক 'র চতুর্দিকে গোলগোল করে ঘুরতে ঘুরতে ওর কপালে, গালে, বুকে হাল্কা ছোঁয়া দিলো,
যেন আদর করে দিলো।
তারপর কানের কাছে যেন ফিসফিস করে বললো..
আমার মুক্তি হয়ে গেছে, আমি চললাম..!
বড্ড ভালোবাসি তোমায়!
আবার আমার পরের জন্মে তোমার সঙ্গে দেখা হবে,
অপেক্ষা করো আমার জন্য!
আ-মি চ - ল -লা -আ -আ - ম.....!!!!!
সমাপ্ত
0 Comments.