- 4
- 0
খেলার মাঠ
বড় হবার পেছনে খেলাধুলার একটা ভূমিকা আছে। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে বাচ্চাদের খেলতে দিতে হয়। আমার মতে এই সময় যদি টিউসন ক্লাস থাকে তবে দিদিমনিকে বলা উচিত বিকালে আমার মেয়ে খেলবে। আপনি অন্য সময় পড়াতে আসবেন। এর মানে হল পড়াশোনার আগে খেলাধুলা করা প্রয়োজন। খেলাধুলা মানে ইনডোর গেম নয়। খেলাধুলা মানে আউটডোর গেম। এই যেমন মাঠে গিয়ে খেলা। ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, দৌড়ানো ইত্যাদি। এই খেলাতে এক রকম শরীরের ব্যায়াম হয়। যাতে করে ছেলেমেয়েদের শারীরিক গঠন সুন্দর হয়। মন ভালো থাকে। প্রকৃতির সান্নিধ্যে মানুষ সুস্থ হয়ে ওঠে। আমার মতে পরীক্ষায় কম নম্বর পেলে ক্ষতি হবে না। কিন্তু সঠিক জীবন গঠন না হলে সভ্যতার বিনাশ অনিবার্য। তাই প্রতিদিন মাঠে গিয়ে খেলাধুলা করা উচিত। সেই স্বামী বিবেকানন্দের কথা - গীতা পাঠের চেয়ে ফুটবল খেলা অনেক ভালো। সত্যিই তিনি এইজন্য বিবেকানন্দ। এই সমস্ত কথা একনাগাড়ে গড় গড় করে বলতে থাকে কেয়া। তার এত রাগ দেখে অনিন্দিতা বলে ওঠে ;তোর কি হয়েছে এতো রেগে আছিস কেন?
রাগ কি সাধে হয় ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা যেভাবে মোবাইল ফোনে আকৃষ্ট হচ্ছে তাদের ভবিষ্যৎ আগামী দিনে একেবারে অন্ধকার। এই অন্ধকার থেকে আশার আলো একমাত্র খেলার মাঠ। মাঠে গিয়ে খেলাধুলা প্রয়োজন। তাহলে তাদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি এবং বিকাশ সঠিকভাবে সম্পন্ন হবে। তাই খেলাধুলা নিয়মিত করা উচিত।এখনকার এই ইঁদুর দৌড়ে মানুষের দম নেবার সময় নেই সেখানে মাঠ! এই বলে মুচকি হাসে অনিন্দিতা।
তার এই হাসি দেখে কেয়া যেন আরও রেগে যায়। সে সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠে হাসির কি আছে! এই হাসি আমাদের কাল হয়ে যাচ্ছে। দেখনা দিনে দিনে কত ভাইরাস গঠিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। এর থেকে বাঁচতে গেলে আমাদের শরীরকে শক্তিশালী করতে হবে। ইমিউনিটি বাড়াতে হবে। এই ছোট বয়স থেকে অভ্যাস না করলে আগামী দিনে সমূহ বিপদ। তাইতো এত মাঠ মাঠ বলছি।
ঠিক আছে, তোর কথা সব ঠিক। আজকে থেকে আমিও তোর সাথে সহমত হলাম। আমি আর এই ইঁদুর দৌড়ে দৌড়াতে যাব না। আগে খেলা তারপর পড়াশোনা। এবার থেকে তুই আর আমি দুজনে মিলে আমাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে রোজ বিকেলবেলা মাঠে খেলতে নিয়ে যাব। তারপর বাড়িতে এসে হাতমুখ ধুয়ে সন্ধায় পড়তে বসাব। সুস্থ শরীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।
0 Comments.