Fri 22 May 2026
Cluster Coding Blog

হৈচৈ সম্পাদকীয়

maro news
হৈচৈ সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয় 

আজ ২৫শে বৈশাখ... কবিগুরুর জন্মদিনে টেক-টাচ-Talk-এর হৈ চৈ এর তরফ থেকে সকলকে আন্তরিক শুভকামনা জানাই... খুব স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে, ছোটদের নিয়ে কবিগুরুর ভাবনা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ছোটদের জন্য অসংখ্য জনপ্রিয় ছড়া ও কবিতাগুলো বাংলার শিশুসাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। ‘শিশু’ কাব্যগ্রন্থ ও ‘সহজপাঠ’ বইয়ে তাঁর সেরা ছড়াগুলো পাওয়া যায়। উল্লেখযোগ্য ছড়া হলো ‘আমাদের ছোট নদী’, ‘বীরপুরুষ’, ‘কাঠবেড়ালী’, ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’, এবং ‘খোকা’। 

আজকের সম্পাদকীয় শুধুমাত্র বিশ্বকবির ছড়াতেই পরিপূর্ণ থাক। হৈ চৈ এর সকল লেখক, কবি এবং পাঠকের তরফ থেকে কবিগুরুর প্রতি শতকোটি প্রণাম ও শ্রদ্ধাঞ্জলী জানাই... 


আমাদের ছোট নদী

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে, 

বৈশাখ মাসে তার হাঁটুজল থাকে। 

পার হয়ে যায় গরু, পার হয় গাড়ি, 

দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি।


চিকচিক করে বালি, কোথা নাই কাদা, 

এক ধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা। 

কিচিমিচি করে সেথা শালিকের ঝাঁক, 

রাতে ওঠে থেকে থেকে শিয়ালের হাঁক।


তীরে তীরে ছেলেমেয়ে নাহিবার কালে 

গামছায় জল ভরি গায়ে তারা ঢালে।

সকালে বিকালে কভু নাওয়া হলে পরে 

আঁচলে ছাঁকিয়া তারা ছোট মাছ ধরে।


আষাঢ়ে বাদল নামে, নদী ভরো ভরো, 

মাতিয়া ছুটিয়া চলে ধারা খরতর। 

দুই কূলে বনে বনে পড়ে যায় সাড়া, 

বরষার উৎসবে জেগে ওঠে পাড়া।



ছোটো বড়ো

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এখনো তো বড়ো হই নি আমি, 

ছোটো আছি ছেলেমানুষ ব'লে। 

দাদার চেয়ে অনেক মস্ত হব 

বড়ো হয়ে বাবার মতো হলে। 

দাদা তখন পড়তে যদি না চায়, 

পাখির ছানা পোষে কেবল খাঁচায়, 

তখন তারে এমনি বকে দেব! 

বলব, "তুমি চুপটি ক'রে পড়ো।' 

বলব, "তুমি ভারি দুষ্টু ছেলে' -

যখন হব বাবার মতো বড়ো। 

তখন নিয়ে দাদার খাঁচাখানা 

ভালো ভালো পুষব পাখির ছানা। 

সাড়ে দশটা যখন যাবে বেজে 

নাবার জন্যে করব না তো তাড়া। 

ছাতা একটা ঘাড়ে ক'রে নিয়ে 

চটি পায়ে বেড়িয়ে আসব পাড়া। 

গুরুমশায় দাওয়ায় এলে পরে 

চৌকি এনে দিতে বলব ঘরে, 

তিনি যদি বলেন "সেলেট কোথা? 

দেরি হচ্ছে, বসে পড়া করো' 

আমি বলব, "খোকা তো আর নেই, 

হয়েছি যে বাবার মতো বড়ো।' 

গুরুমশায় শুনে তখন কবে, 

"বাবুমশায়, আসি এখন তবে।' 

খেলা করতে নিয়ে যেতে মাঠে 

ভুলু যখন আসবে বিকেল বেলা, 

আমি তাকে ধমক দিয়ে কব, 

"কাজ করছি, গোল কোরো না মেলা।' 

রথের দিনে খুব যদি ভিড় হয় 

একলা যাব, করব না তো ভয়-

মামা যদি বলেন ছুটে এসে 

"হারিয়ে যাবে, আমার কোলে চড়ো'

বলব আমি, "দেখছ না কি মামা, 

হয়েছি যে বাবার মতো বড়ো।' 

দেখে দেখে মামা বলবে, "তাই তো, 

খোকা আমার সে খোকা আর নাই তো।

আমি যেদিন প্রথম বড়ো হব 

মা সেদিনে গঙ্গাস্নানের পরে 

আসবে যখন খিড়কি-দুয়োর দিয়ে 

ভাববে "কেন গোল শুনি নে ঘরে।' 

তখন আমি চাবি খুলতে শিখে 

যত ইচ্ছে টাকা দিচ্ছি ঝিকে, 

মা দেখে তাই বলবে তাড়াতাড়ি, 

"খোকা, তোমার খেলা কেমনতরো।' 

আমি বলব, "মাইনে দিচ্ছি আমি, 

হয়েছি যে বাবার মতো বড়ো। 

ফুরোয় যদি টাকা, ফুরোয় খাবার, 

যত চাই মা, এনে দেব আবার।' 

আশ্বিনেতে পুজোর ছুটি হবে, 

মেলা বসবে গাজনতলার হাটে, 

বাবার নৌকো কত দূরের থেকে 

লাগবে এসে বাবুগঞ্জের ঘাটে। 

বাবা মনে ভাববে সোজাসুজি,

খোকা তেমনি খোকাই আছে বুঝি, 

ছোটো ছোটো রঙিন জামা জুতো 

কিনে এনে বলবে আমায় "পরো'। 

আমি বলব, "দাদা পরুক এসে, 

আমি এখন তোমার মতো বড়ো। 

দেখছ না কি যে ছোটো মাপ জামার-

পরতে গেলে আঁট হবে যে আমার

Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register