- 6
- 0
কুম্ভকর্ণ
যাক বাবা গরমের ছুটি পড়ে গেছে। এবারে বেশ মজা করা যাবে। রিয়া ভাবলো মনে মনে।
কালকেই সে যাচ্ছে মামারবাড়িতে । মামারবাড়ি দুর্গাপুরে । ওখানে গেলে খুব আনন্দ হয়, খেলা হয় মামাতো ভাইবোনদের সঙ্গে। খোলা পরিবেশে মনটা নেচে ওঠে ।
আর রেলগাড়ি চড়াটাও একটা আলাদা আনন্দের ব্যাপার। জানলার ধারে তো বসা চাই ই।
মামারবাড়িতে যেতে তো সবার খুব আনন্দ । মামী ওদের ভেতরে নিয়ে গেল। সবাই যখন কথাবার্তায় ব্যস্ত, সেই সময় রিয়া চলে গেল দোতলায় ।
দোতলায় দুটো বড় বড় ঘর। সামনের ঘরে এখন কেউ নেই। পেছনের ঘরের সামনে গিয়ে সে দেখলো একজন বিশাল চেহারার লোক নাক ডাকিয়ে ঘুমোচ্ছে। তাকে দেখে রিয়ার মনে হল রামায়ণে পড়া কুম্ভকর্ণের কথা। কুম্ভকর্ণ অনেকদিন ধরে ঘুমোত আর ঘুম ভেঙে যাকে সামনে পেত তাকে নাকি খেয়ে ফেলতো। ভীষণ ভয় পেয়ে গেল রিয়া। যদি ঘুম ভেঙে উঠে তাকে খেয়ে নেয়। তাড়াতাড়ি করে নীচে নেমে এল সে।
কি রে, কি হয়েছে, ওরকম করছিস কেন ? মা বলল।
ওপরে.....
ওপরে কুম্ভকর্ণ ঘুমোচ্ছে !
সে আবার কি ?
যাও দেখে এসো।
বলতে না বলতেই দেখা গেল সেই লোকটা সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছে।
ঐ তো কুম্ভকর্ণ ! বলে উঠলো রিয়া।
মামী হেসে উঠে বলল ,আরে ও তো আমার পিসতুতো ভাই বাবলু। আজই এসেছে। ওপরে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল। হ্যাঁ রে বাবলু, তুই নাকি কুম্ভকর্ণ ।
সব শুনে বাবলুও হাসতে লাগল।
লজ্জা পেয়ে গেল রিয়া।
পরের দিন বাবলুমামা ওরফে কুম্ভকর্ণ তাদের আশপাশ থেকে ঘুরিয়ে আনল আর চকোলেট কিনে দিল।
রিয়া মামারবাড়িতে বেশ ভালোভাবেই দিন কাটাতে লাগল।
0 Comments.