Sat 13 June 2026
Cluster Coding Blog

হৈচৈ গল্পে প্রভাত ভট্টাচার্য

maro news
হৈচৈ গল্পে প্রভাত ভট্টাচার্য

বাঘ দেখা 

        রাজার খুব শখ সামনে থেকে বাঘ দেখার। যাতে পরিস্কার দেখা যায় । কিন্ত সে আর হয়ে ওঠে নি। 

     বাঘ দেখার ইচ্ছে অনেকেরই থাকে। এটার মধ্যে একটা রোমাঞ্চকর ব্যাপার আছে। বাঘের ছবি দেখে গল্প পড়ে আর শুনে রাজার মনেও বাঘ সম্পর্কে একটা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। 

     সুন্দরবনে গিয়ে তারা বাঘ দেখতে পায় নি । আর আলিপুর চিড়িয়াখানায় গিয়ে বাঘ দেখেছে বটে, কিন্ত সে মুখ ঘুরিয়ে এক কোণে শুয়ে ছিল। তাকে ঠিক বাঘ দেখা বলে না। 

    এবারে গরমের ছুটিতে মা বাবা মাসী মেসো সবাই মিলে চলল পুরীতে। 

    এই গরমে পুরীতে ? মা বলেছিল বাবাকে। 

    বেশিদিন যাওয়া যাবে না, তাই এটারই ব্যবস্থা করলাম। 

     রাজার অবশ্য বেড়াতে গেলেই হল। আর ছোটোরা তো আরও ঘুরতে ভালোবাসে। 

    পুরীতে গিয়ে বেশ ভালো করে খেয়েদেয়ে তারপরে হোটেলের ঘরে ঢুকল তারা। বেশ বড় আর সুন্দর ঘর। সবথেকে বড় কথা জানলা দিয়ে সমুদ্র দেখা যায় খুব ভালোভাবে। ব্যালকনিতে চেয়ার দেওয়া রয়েছে । 

       বিকেলবেলায় সমুদ্রের ধারে যাওয়া হল। বেশ ভালো লাগে সমুদ্রের ঢেউ দেখতে। একটার পর একটা ঢেউ পাড়ে এসে ভেঙে যাচ্ছে। প্রচুর লোকজন চারদিকে। অনেকেই জিনিসপত্র বিক্রি করছে। বেশ জমজমাট পরিবেশ। অনেক ছাউনি দেওয়া দোকান রয়েছে । সবাই কিছু কিছু জিনিস কিনল। মাসতুতো ভাই নীল রাজারই সমবয়সী। দুজনের খুব ভাব। দুজনের কথার আর শেষ নেই। 

     পরদিন সকালে একটা বড় গাড়িতে করে ওরা বেরিয়ে পড়ল ভুবনেশ্বরের উদ্দেশ্যে । যেতে যেতে ব্রেকফাস্ট করে নেওয়া হল। দেখা হল কোনারকের সূর্যমন্দির , উদয়গিরি খন্ডগিরির গুহা, এইসব। খুব ভালো লাগলো এইসব জায়গা। 

    এবারে দেখা হবে বিখ্যাত নন্দনকানন অভয়ারণ্য। 

   টিকিট কেটে ভেতরে ঢোকা হল। গাইড নেওয়া হল একজন। সে ওদের সব ঘুরিয়ে দেখাতে লাগল। প্রাকৃতিক পরিবেশে রয়েছে পশুপাখিরা। হরিণ, বাঁদর, পাখি, শেয়াল, হায়না, বনবেড়াল এইসব দেখার পর যাওয়া হল বাঘ দেখতে। 

    ওরা দাঁড়িয়েছিল একটা প্রাচীরের সামনে যার পরে রয়েছে একটা পরিখা। 

    ওই বাঘ আসছে। বলে উঠল গাইড। 

    দেখা গেল দুদিক থেকে দুটো রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার রাজকীয় চালে এগিয়ে চলে এলো একদম সামনে। 

    সবাই ছবি তুলছে, রাজাও। ভীষণ ভালো লাগছে তার সামনে থেকে বাঘ দেখে। তাও একটা নয়, দুটো। তারপর দুজনে উল্টোদিকে হাঁটা দিল। আবার চলে এল সামনে। খানিকক্ষণ মুখোমুখি দাঁড়িয়ে চলে গেল। 

    দারুণ দারুণ ! বাবা বলে উঠলো। 

     আজ বাঘ দেখে মন ভরে গেল রাজার ।বাঘ দেখা 


প্রভাত ভট্টাচার্য 


        রাজার খুব শখ সামনে থেকে বাঘ দেখার। যাতে পরিস্কার দেখা যায় । কিন্ত সে আর হয়ে ওঠে নি। 

     বাঘ দেখার ইচ্ছে অনেকেরই থাকে। এটার মধ্যে একটা রোমাঞ্চকর ব্যাপার আছে। বাঘের ছবি দেখে গল্প পড়ে আর শুনে রাজার মনেও বাঘ সম্পর্কে একটা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। 

     সুন্দরবনে গিয়ে তারা বাঘ দেখতে পায় নি । আর আলিপুর চিড়িয়াখানায় গিয়ে বাঘ দেখেছে বটে, কিন্ত সে মুখ ঘুরিয়ে এক কোণে শুয়ে ছিল। তাকে ঠিক বাঘ দেখা বলে না। 

    এবারে গরমের ছুটিতে মা বাবা মাসী মেসো সবাই মিলে চলল পুরীতে। 

    এই গরমে পুরীতে ? মা বলেছিল বাবাকে। 

    বেশিদিন যাওয়া যাবে না, তাই এটারই ব্যবস্থা করলাম। 

     রাজার অবশ্য বেড়াতে গেলেই হল। আর ছোটোরা তো আরও ঘুরতে ভালোবাসে। 

    পুরীতে গিয়ে বেশ ভালো করে খেয়েদেয়ে তারপরে হোটেলের ঘরে ঢুকল তারা। বেশ বড় আর সুন্দর ঘর। সবথেকে বড় কথা জানলা দিয়ে সমুদ্র দেখা যায় খুব ভালোভাবে। ব্যালকনিতে চেয়ার দেওয়া রয়েছে । 

       বিকেলবেলায় সমুদ্রের ধারে যাওয়া হল। বেশ ভালো লাগে সমুদ্রের ঢেউ দেখতে। একটার পর একটা ঢেউ পাড়ে এসে ভেঙে যাচ্ছে। প্রচুর লোকজন চারদিকে। অনেকেই জিনিসপত্র বিক্রি করছে। বেশ জমজমাট পরিবেশ। অনেক ছাউনি দেওয়া দোকান রয়েছে । সবাই কিছু কিছু জিনিস কিনল। মাসতুতো ভাই নীল রাজারই সমবয়সী। দুজনের খুব ভাব। দুজনের কথার আর শেষ নেই। 

     পরদিন সকালে একটা বড় গাড়িতে করে ওরা বেরিয়ে পড়ল ভুবনেশ্বরের উদ্দেশ্যে । যেতে যেতে ব্রেকফাস্ট করে নেওয়া হল। দেখা হল কোনারকের সূর্যমন্দির , উদয়গিরি খন্ডগিরির গুহা, এইসব। খুব ভালো লাগলো এইসব জায়গা। 

    এবারে দেখা হবে বিখ্যাত নন্দনকানন অভয়ারণ্য। 

   টিকিট কেটে ভেতরে ঢোকা হল। গাইড নেওয়া হল একজন। সে ওদের সব ঘুরিয়ে দেখাতে লাগল। প্রাকৃতিক পরিবেশে রয়েছে পশুপাখিরা। হরিণ, বাঁদর, পাখি, শেয়াল, হায়না, বনবেড়াল এইসব দেখার পর যাওয়া হল বাঘ দেখতে। 

    ওরা দাঁড়িয়েছিল একটা প্রাচীরের সামনে যার পরে রয়েছে একটা পরিখা। 

    ওই বাঘ আসছে। বলে উঠল গাইড। 

    দেখা গেল দুদিক থেকে দুটো রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার রাজকীয় চালে এগিয়ে চলে এলো একদম সামনে। 

    সবাই ছবি তুলছে, রাজাও। ভীষণ ভালো লাগছে তার সামনে থেকে বাঘ দেখে। তাও একটা নয়, দুটো। তারপর দুজনে উল্টোদিকে হাঁটা দিল। আবার চলে এল সামনে। খানিকক্ষণ মুখোমুখি দাঁড়িয়ে চলে গেল। 

    দারুণ দারুণ ! বাবা বলে উঠলো। 

     আজ বাঘ দেখে মন ভরে গেল রাজার ।

Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register