- 70
- 0
বৈশাখ
প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, এর আগের গল্পতে জগদীশবাবু ও তার কাজের লোক হরিপদকে হয়তো সকলের মনে আছে। আজ তাদেরই আরেকটা মজার গল্প নিয়ে হাজির হয়েছি।
তখন চৈত্রের মাঝামাঝি তোড়জোড় চলছে বৈশাখী সংখ্যার প্রকাশকদের। চৈতালি দি জগদীশ বাবুর কাছে এসে নিবেদন করল, এবার তার কবিতা এই সংখ্যায় দিতেই হবে। তাই জগদীশ বাবু স্থির করলেন আজ একটা কবিতা লিখেই উঠবেন। কিন্তু কি বিষয়ে কবিতা লিখবেন অনেকক্ষণ চিন্তা করেও ঠিক করতে পারলেন না । তাই মোবাইলে গান লাগালেন এসো হে বৈশাখ .. ওদিকে হরিপদ র মুখে বেশ বিরক্তির ভাব ভেসে উঠেছে। বৈশাখ মাসকে নিয়ে বাবুর এত আদিখ্যেতা, ঠিক সহ্য করে উঠতে পারছিল না হরিপদ।
লেখা সবে আরম্ভ করেছেন,আর ঠিক সেই সময় হঠাৎ লোডশেডিং, দদ্দর করে ঘামতে লাগলেন কবি জগদীশ বাবু । এই তার খানিকটা কবিত।
চ্যাট্ চেটে্ গরমেতে
চুপ্ চুপ্ ঘেমেরে।
সারাদিন জল খাই
কিউবিক মিটারে।
হিটারে তে বসে যেন
প্রাণ বলে গুড বাই,
রং চটা মন ক্ষ্যাপা
রেগে কয় দুধ ছাই।
ভালো লাগে সারাদিন
দদ্দর ঘামতে,
ঘ্যান্ ঘ্যান্ ফ্যানটাও
হলো ছাই থামতে।
মন বলে জল খাব
হরিপদ জলদে,
পাইপ লাগিয়ে কলে
হাতে এনে নলদে।
হরিপদ, হরিপদ
মিলছে না ছন্দ,
হরি কয় বাবু শোনো
লেখা রাখো বন্ধ।
বৈশাখে ছড়া মেলে,
মিল খোঁজ কবিতায়
দদ্দর ঘামে কবি
লু লাগে শেষ্টায়।
সানস্ট্রোক, ইকলাই,
কত রোগ গরমে,
দুঃখেতে বুক ভরা
ফাটে চিত মরমে।
চটে শেষে হরিপদ
তুলে নিল খাতাটায়,
ছাপা তাই হলো নাকো
বৈশাখী সংখ্যায়।
ফিরে গেল চৈতালি
মনে ভারী কষ্ট,
"এসো হে বৈশাখ... "
তাই তিনি বলেনি স-পষ্ট।
0 Comments.