Fri 12 June 2026
Cluster Coding Blog

হৈচৈ গল্পে চন্দ্রমা মুখার্জী

maro news
হৈচৈ গল্পে চন্দ্রমা মুখার্জী

মিনি উদ্ধার পর্ব

          স্বাধীনতা দিবসের দিন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ছাদে গিয়েছিলাম। হঠাৎ শুনি আশেপাশেই কোথায় যেন একটা বিড়ালছানা মিউমিউ করে ডাকছে। এদিকওদিক তাকাতেই চোখে পড়ল আমাদের পাশের বাড়ির পরের বাড়ির একটা জানলার কার্নিশে একটা ছোট্ট বিড়ালছানা বসে মিউমিউ করছে।


          আসলে ওপরের ছাদ থেকে বিড়ালছানাটা উঁকি মারছিল। অতি উৎসাহে ঝুঁকতে গিয়ে সেখান থেকে কার্নিশে পড়ে গেছে। এখন আর উঠতেও পারছে না। চারতলা বাড়ির কার্নিশ, খুব উঁচু। তাই নীচেও নামতে পারছে না। আর ওপরের ছাদ থেকে উঁকি মেরে চিৎকার করছে ওর মা। কিন্তু সে-ও সাহস করে নামতে পারছে না।


          আমরা ভাবতে লাগলাম, কি করে ওই মিনিটাকে উদ্ধার করা যায়। স্বাধীনতা দিবসের সকাল হওয়ায় ফোন করে কোন উদ্ধারকারী দলকেও পাওয়া গেল না। সবাই ব্যস্ত পতাকা উত্তোলনে। তখন পাশের বাড়ির লোকেদের ডেকে তাদের নিয়ে আমার বাবা পাশের বাড়ির ছাদে গেলেন।


          ওদের ছাদ থেকে ওই কার্নিশ অবধি বড় পাটাতন পেতে দেওয়া হল। কিন্তু মিনি এতই ছোট্ট যে, সাহস করে ওই পাটায় উঠতে পারল না। এককোণায় বসে মিউমিউ করতেই লাগল।


          আমরা সকলে ওখান থেকে সরে এলাম, যদি তাতে ও সাহস করে পাটাতনে উঠে আসে। কিন্তু আধঘণ্টা পরে গিয়েও দেখা গেল যে কে সেই। তাই তখন পাটাতনটা সরিয়ে আনা হল, কারণ ওটা বিপজ্জনকভাবে রাখা ছিল।


          সেদিন আর কিছু করা গেল না। আমরাও অন্য কাজে বেরিয়েছিলাম। সারাদিন সারারাত মিউমিউ করে কেঁদে গেল মিনি।


          পরেরদিন সকাল হতেই আমরা চেষ্টা করতে লাগলাম অন্য কোন উপায়ে ওকে যাতে উদ্ধার করা যায়। প্রথমেই যাদের কার্নিশে পড়েছে, তাদেরকে বলা হল। তারা ছাদে উঠে গিয়ে দড়িতে করে একটা বাক্স বেঁধে নামালো। বাক্সে একটা বাটিতে করে একটু দুধও দিল। কিন্তু মিনি ফিরেও তাকালো না। ও এককোণায় বসেই রইল। নিচে তখন ওর মা মিউমিউ করে কেঁদেই যাচ্ছে।


          তারপর জানা গেল, পাশের গলিতে একজন আছেন, যাঁর সঙ্গে এরকম অনেক ছেলের জানাশোনা আছে, যারা এইরকম আটকে যাওয়া পশুপাখি বাড়ির আনাচে-কানাচে থেকে উদ্ধার করে। তারপর তাদের ডাকা হল। একটা বড় দড়ির দোলনা নিয়ে তারা ছাদে উঠল।


          একজন দড়িটা ধরে রইল। অন্যজন দড়ি ধরে দোলনা চড়ে কার্নিশে নামল। নিচে কয়েকজন চাদর বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ছেলেটাকে নামতে দেখেই মিনি দৌড়ে কার্নিশের আরেকদিকে পালিয়ে গেল। কিন্তু ছেলেটাও ছাড়বে না।


          ও – ও কার্নিশ ধরে এগিয়ে গিয়ে মিনিকে পিছন থেকে চেপে ধরলো। মিনি মিউমিউ করে তারস্বরে চেঁচাতে লাগল। তারপর ছেলেটা ওপরে ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা ওই বাড়ির একজনকে মিনিকে বাড়িয়ে দিল।


          তারপর আর কি? মিনিকে উদ্ধার করে নিচে আনা হল। আর ওর মা, ওকে দেখেই কোথা থেকে যেন ঝাঁপিয়ে পড়ল। মিনিও মিউমিউ করে মায়ের কোলে চলে গেল। এইভাবেই শেষ হল মিনি উদ্ধারপর্ব। স্বাধীনতা দিবসের দিন যে কাজটা সম্পূর্ণ হয়নি তা পূরণ হল পরেরদিন জন্মাষ্টমীতে। কেষ্টর জীব, কৃষ্ণের জন্মদিবসেই আরেকবার নতুন করে প্রাণ ফিরে পেল। সন্তানের বাঁচার আশা ছেড়ে দেওয়া মা – ও সন্তানকে ফিরে পেল।

Admin

Admin

 

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register