- 12
- 0
বাপ্পাদার বাড়ি
আমাদের মামাবাড়ির পিছনে একটা ভাঙা বাড়ি আছে। জায়গাটা নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক কৌতূহল। সোনাদা বলে -' ওটা বাপ্পাদের বাড়ি ছিল। এখন ওরা কোথায় চলে গিয়েছে কে জানে ! এখানে থাকে না।'
বাপ্পাদা সোনাদাদের বয়সী।
আগে ওখানে আমরা খেলতে যেতাম। মামাবাড়িতে আসতাম তো হত্যার শেষে। লুকোচুরি, ছোঁয়াছুঁয়ি খেলতাম। আরো অনেকেই যেতো। এখন কেউ যায় না।
শুনলাম, গত সাত দিন ধরে বাড়িটাতে একটা ঘরে আলো জ্বলছে। মাঝরাতে কিছু শব্দও শোনা যাচ্ছে। বেশ কিছুদিন ধরে এটা হচ্ছে। এই নিয়ে খুব শোরগোল পাড়ায় ।
সোনাদা বলে -' চল আজ গিয়ে দেখি ব্যাপারটা।'
সন্ধ্যাবেলা। বাড়িতে বলেছি যে বাশির,দোকানে চা খেতে যাচ্ছি। এদিকে টর্চ নিয়ে ঢুকেছি আমরা বাপ্পাদের বাড়ির নীচের ঘরটাতে । হঠাৎই দরজাটা বন্ধ হয়ে গেল নিজের থেকেই । সঙ্গে পৈশাচিক এক নারীকন্ঠের অট্টহাস্য ভেসে আসে অন্ধকার থেকে ।
আমাদের সাথে নাড়ুও ছিল। হঠাৎই সে একটা ঢিল উঠিয়ে মারে সেই অন্ধকার লক্ষ্য করে। ' ঢক' করে একটা আওয়াজ হয় আর কিছু একটা পড়ে যায় । অট্টহাস্যও বন্ধ হয় ।
টর্চ জ্বেলে দেখি, একটা টেপ রেকর্ডার ভেঙে পড়ে আছে। আর একটা লোক বলে ওঠে -' এই হাত ওঠাও সব। বন্দুক তাক করা আছে ।' বেশ বিকট দেখতে লোকটাকে।
তপনের হাতের গুলতি ঠিক তখনই চলে। দুর্বৃত্তের হাত থেকে রিভলভার পড়ে যায়। সেটা চট করে কুড়িয়ে নিই আমি।
ক্রমে জানা গেল, একটা দল এখানে অনেক দিন ধরেই বাজে কাজ-কারবার চালাচ্ছিল। যেমন ড্রাগস্ , নোট জাল করা ইত্যাদি। আর লোকেদের ভয় দেখাতে আলো জ্বালিয়ে আওয়াজ করছিল। পুলিশে খবর দিই তখনই।
আমরা বলে উঠি -' জয় সোনাদার জয় । ' আজ সোনাদার ও আমাদের সবার জন্য একটা গ্যাং ধরা পড়লো ।।
0 Comments.