Mon 14 September 2026
Cluster Coding Blog

মার্গে অনন্য সম্মান সঞ্জয় কুমার দাস (সেরা)

maro news
মার্গে অনন্য সম্মান সঞ্জয় কুমার দাস (সেরা)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার

সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব - ৫৫ বিষয় - মুখ ও মুখোশ

টানাপোড়েন

যদি সমস্ত আঘাত সহ্য করে নেওয়াটা- প্রত্যাঘাতের সমার্থক হয়, তবে, পিনাক নির্মম আঘাত করেছে। বেশ করেছে।
যদি অন্তর থেকে কারোর প্রশংসা করাটা- তোষামোদির সমার্থক হয়, তবে পিনাক দ্ব্যর্থহীনভাবে চাটুকার। বেশ করেছে।
যদি প্রতারণার কৌশল ধরে ফেলাটা- অপদার্থতার তকমা হয়, তবে পিনাক উৎকষ্ট অপদার্থ। বেশ করেছে।
কথাগুলো ঠিক স্বতস্ফুর্তভাবে বলা নয়। অনেক আঘাতের উপর্যুপরি কষাঘাতে, কালশিটে পড়া পিঠে লেখা রক্তিম উপন্যাস! আপনারা জানতে চান? তবে ভীষণরকম কঠিন হতে হবে। কোমলতার বিন্দুমাত্র থাকলে, নিচের পত্রটি পড়বেন না।
"অনিন্দ্য,
তোকে বন্ধু ভাবতে আজ বড় কুণ্ঠা হচ্ছে রে! বিশ্বাস কর, এমনটা যে আমি ভাববো, সেটাও কোন'দিন ভাবিনি। তোর সাথে দীর্ঘদিনের পথচলা। কিছু লোক আমাদের বন্ধুত্বকে ঈর্ষাও করে। কিন্তু, তোর মধ্যে তো ঈর্ষানুভূতির ছিটেফোঁটাও ছিল' না। কোন দোষে পিনাককে তুই দু'চোখে দেখতে পারিস না? আমি পিনাককে শ্রদ্ধা করি। সেই জন্য? একটা মানুষকে ডেকে, কীক'রে চড় মারতে হয়, সেটা তোর কাছেই শিখতে হয়। তার সব কথা তোকে জানিয়েছি, কিন্তু তোর একটা কথাও তাকে জানাইনি। উল্টে তোর সমস্ত অন্যায় আব্দার নিজের অভিলাষ ব'লে চালিয়েছি। মন না মানলেও, তোর মুখ চেয়ে পিনাককে বারবার বঞ্চিত করেছি। আচ্ছা আমার সাধ-আহ্লাদ ব'লে কিছু থাকতে নেই, তাই না? সবসময়ে তোর কথা মেনে চলতে হবে? তাও সে'টার একটাই লক্ষ্য পিনাকের অবমাননা। কই, আমার বাড়ির কেউ তো কোন' বক্রোক্তি করেনি! না তোকে জড়িয়ে, না পিনাককে জড়িয়ে! তুই প্রতি পদে খোঁটা দিয়ে যাস...! বেশ, এতই যদি প্রেম, পারবি আমাকে বিয়ে করতে? জানি এটা কথার কথা। আর কত আঘাত করবি, অনিন্দ্য? তবে জেনে রাখ। আমার যাকে ভালো লাগে, যার মধ্যে সামান্য হলেও গুণ আছে, তার সাথে আমি কথাও বলবো, সম্পর্কও রাখবো। তুই আমাকে ভালোবাসিস জানি। সে ভালোবাসা যে এত ক্রুর হ'তে পারে জানতাম না।
দেখ অনিন্দ্য, আমি একজন সমাজসেবিকা। সেই সত্তা থেকেই বলছি: সমাজের মঙ্গলজনক কোন'কিছুকেই কোন'কিছুর কাছেই ছোট করতে পারবো না। তাতে আমার বন্ধুত্ব, তোর ভালো না-লাগলে আমি নিরুপায়। হ্যাঁ, আমি পিনাককে ভালোবাসি। যেমন মানুষ তার ইষ্টদেবতাকে ভালোবাসে। তুই সেটা মানিস না, মানবিও না। সেটা তোর সমস্যা। সরাসরি বলার মত পৌরুষত্ব তোর নেই। অন্যকে পরাজিত ক'রতে গেলে, তাকে ছোট নয়, তার থেকে নিজেকে বড় হ'তে হয়। আগের অংশের পরে
তুই নিজের দিকে একবারও তাকিয়েছিস? তোর একাধিক বান্ধবী নেই? নাকি আমি কিছুই জানি না? তুই জানিস, তোর মান রাখতে, মন রাখতে, বুকে পাথর চাপা দিয়ে, পিনাককে কত কষ্ট দিয়েছি? সে সব কষ্ট শতগুণ হ'য়ে আমার বুকে বেজেছে। এমনকি সেই মানুষটা চুরচুর হয়ে গেছে! আমিও একা বালিশ ভিজিয়েছি। সবই অব্যক্ত সত্য!
না, আমার লজ্জা করছে না। সত্যিকারের একজন মানুষকে শ্রদ্ধার সাথে ভালোবাসা যদি পাপ/কলঙ্ক হয়, তবে আমি কলঙ্কিনী। আর সে কলঙ্ক তো মেনে নিয়েছি, তোর সাথে বন্ধুত্ব হওয়ার দিন থেকেই! রবিঠাকুরের বাণীতো সকলেই চিৎকার করে গায়: "আমি তোমার প্রেমে হবো সবার কলঙ্কভাগী।"
বিশ্বাস কর অনিন্দ্য, আমি ভালোবেসে কষ্ট পাচ্ছি। তোরা পুরুষরা সবাই সমান। মুখে ভালোবাসা, মনে কাকের বাসা। মনে করিস না বিজয় আমাকে ফুলের বিছানায় সাজিয়ে রাখে। দোষটা আমারই রে, অনিন্দ্য! আমি চেষ্টা করেছিলাম, নিজের দু'টোহাত তোদের দু'হাতে রেখে সমাজে একটা বন্ধনের নিদর্শন তৈরী করবো। পারলাম না। আমি হেরে গেলাম। তবে জেনে রাখ এ' জীবনে, যেমন তোর সখ্য আমি ভুলতে পারবো না, তেমনই বিজয়ের আন্তরিকতাও ভুলতে পারবো না। তুই জানিস কি না জানি না, তোর মর্যাদা রাখতে বা নিজে থেকেই, আমিও হয়তো হারিয়ে যাবো! অনিন্দ্য, আমি তোদের দু'জনকেই ভালোবাসিরে। খুব ভালোবাসি। তোদের ক্ষতে মলম দিতে দিতে, নিজের ভেতরে একটা দগদগে ক্ষত তৈরী করেছি। কে সেখানে মলম লাগাবে? তোরা সব পুরুষই সমান।
পূবের আকাশে একটা লালচে আভা দেখা যাচ্ছে। একটু বিশ্রাম নিই। ভালো থাকিস।
তোর একান্ত বান্ধবী তনুষী"

সমাপ্ত

Admin

Admin

dsaf  

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register