- 57
- 0
রাজার চিঠি
এই প্রথম কোন পুজোয় সব কিছু থেকেই প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকলাম। কারণটা অবশ্যই শারীরিক অবস্থার অবনতির জন্য। এবং মানসিক স্থিতিও তথৈবচ। পুজোর একমাস আগে থেকে ভুগছি। এখন আর ওষুধ খেতে ভালো লাগে না। তবে আশা একটাই, বাড়ির সামনে ছাতিম গাছটা মাঝে মাঝে গন্ধে গন্ধে জানান দেয়, রাজার চিঠি আমার জন্যেও তৈরি হচ্ছে। হরকরা হলে ছুটে এসে দিয়ে যেতে পারতো কিন্তু ডাকপিওন পোস্ট অফিসের থেকে সে পত্তর এখনো পায়নি কিনা। তবু ভরসা ছাতিম গাছ আছে।
দু বন্ধুর মধ্যে তুমুল হুল্লোড়। একটা পেটে খিমচে দেয় তো অন্যটা কান কামড়ে ধরে। এ বলে তুই আমার নামে বাজে কথা বলেছিস। ও বলে না, কক-খোনো না... তুই বলিস। বলতে বলতে এ ওর ঘাড়ে উঠে পড়ে, ও এর মুখে মারে ঢুঁ। শরতের রোদ্দুরে একজনের সাদালেজ ৯-কারের মত ডিগবাজি খায় তো অপরজন ৎ বানানো লেজটা দিয়ে টিনের কার্নিশে আওয়াজ তোলে। আমি ঘরে বসে অবোধ্য সে যুদ্ধদৃশ্যর একমাত্র দর্শক মনের ভুলে কেশে উঠলে ৯ এবং ৎ মিলে গোলগাল চোখ পাকায়। বলে এই আসল দোষী। আমি বলি, হ্যাঁ হুজুর সব দোষ আমার। কিন্তু গলা বসে থাকায় আমার বাণী ওদের কান অবধি পৌঁছাতে পারেনি।
তারমধ্যেই সন্ধি পুজোর তিথি আসবো আসবো করছে। সবে সপ্তমীর দিন মনখারাপের একটা হাওয়া বিষন্ন করে তুলল মহানগর। তার মধ্যে রাত থেকে শ্বাসকষ্ট। ভোর ভোর উঠে অঞ্জলি দিয়ে ঘরে এসে শুয়ে বুঝতে পারছি আবার মাথা টনটন করছে। এবার জানলা জুড়ে দুই কবুতর।
একজন সুখী, অন্যজন লক্কা।
সুখী বলল, লক্কা আমাকে মাফ করে দে।
লক্কা - কভি নেহি। তুমি জানতা নেহি মদ খেলি লিভার খারাপ হয়, চরিত্র নয়।
সুখী - না লক্কা আমি জানি না।
লক্কা- খামোশ বেয়াদপ। গুরু বলেছেন আর তুমি জানো না।
সুখী - না লক্কা, আই ডোন্ট নো প্রভুজি।
লক্কা - মর আবাগী। আমার গুরু কি ভুজিওয়ালা না কি।
এতটা শুনেই আমি হেসে ফেললাম। ওমনি কথার তীর ঘুরে গেল আমার দিকে।
বেয়াদপ মানুষ হেসে হেসে আমাদের ঝগড়া বাঁধাতে চায়।
আমি বললাম: না রে বাপু।
কবুতর দ্বয়: তোমার স্টমাকে কথা থাকে না। তুম প্যাট পাতলা আছে।
আমি: তা আছি।
এইসব গুলতানির মাঝেই তেড়ে জ্বর আসে। জ্বর আমার প্রলাপ-সহচর। জ্বর আমার ভাঙা আয়নার কাঁচ। কাঁচে ছায়া পড়ে আমার।
ছায়া বকবক করে... মিমো আর রূপাইয়ের কি হবে?
আমি হাত নেড়ে ইশারায় জানাই, জানি না।
ছায়া: অউর তেরা ক্যা হোগা কালিয়া
আমি: জানি না।
ছায়া: বন্ধুরা কি বলছে?
আমি: তারা কারা!
ছায়া: যারা সঙ্গে ছিল, এখন নেই।
আমি: জানি না, জানতে চাইও না।
ছায়া: তোমাকে কি ছেলেবেলার "জানি না" বলা রোগে ধরেছে।
আমি: হয় তো বা।
ছায়া: এর মধ্যে থেকে কোনটা জানো তবে?
আমি একটু ভেবে বললাম, সব কিছু জানতেই বা হবে কেন? এই যে চুপচাপ সরে যাব, এটাই কি ভালো নয়। আমি অমল না হলেও রাজা তো আমাকেও চিঠি লিখবে না কি?
ছায়া: শুধু কোন সুধা ফুল নিয়ে এসে ঐ চিঠির খাম খোলার আর্জি জানাবে না।
0 Comments.