- 17
- 0
সংসারের গন্ধ
ওর সাথে দেখা হ'লে হাওয়ার গন্ধ কেমন যেন বদলে যেত, আজ ও যায়। আমি জানি যদি আর কোনোদিন দেখা হয় সেদিনও বদলে যাবে, সে কুয়াশা গন্ধি অঘ্রায়ণ কি বকুল ঘ্রাণে আনমনা ফাল্গুন যাই হোক। অচেনা ওকে প্রথম যেদিন দেখেছিলাম সেদিন রাতে বাড়ি ফিরে খুব অনুভব করেছিলাম ওকে দেখতেই চারপাশের গন্ধ কেমন বদলে গেছে, তখন বদলে যাওয়া গন্ধটার আইডেন্টিটি নিয়ে কিছু বুঝিনি, ভাবিনিও। ঘরে ফিরে সোফায় গা এলিয়ে দিতেই একটা দীর্ঘ শ্বাস, দীর্ঘশ্বাস নয়, বুকের ভিতর থেকে বেরিয়ে এলো অন্যরকম একটা গন্ধ নিয়ে, বুঝলাম বিকেলের সেই গন্ধটা বুক দখল ক'রে নিয়েছে কিছু না জানিয়েই। গন্ধটার সাথে অভিজ্ঞতার যোগ সে বিকেলেই প্রথম কিন্তু গন্ধটার নোমেনক্লেচার বা কেমিস্ট্রি কিছুই হদিশ করতে পারলাম না।
গন্ধটা সংক্রামক হ'য়ে ওর বুকেও ঢুকে পড়েছিলো
হয়তো আমার থেকেও গাঢ় হ'য়ে। বেশি রাতে বৃষ্টি হ'য়েছিলো, অচেনা নম্বর থেকে ফোন ও এসেছিলো।
গন্ধটার নোমেনক্লেচার হয়তো ওর কাছে অন্য বিশেষ্যপদে সে রাতেই ভালোলাগার ডিকশেনারীর ইনডেক্সে জায়গা পেয়েছিলো, নইলে কী ফোন আসতো!
একদিন বুঝলাম ওটা নিষিদ্ধ সংসারের অবাধ্য গন্ধ।
ওর সাথে ঘর বাঁধতে উস্কানি দিয়েই চলেছে রাত বাড়লেই। ভাবনার গলা টিপে মারা মোটেই সহজ নয়। বলে ফেলতেই হ'লো,
"জানলা দিয়ে সোনা রোদের আলো
দেয় যে ধুয়ে মলিনতার কালো
দরজা খুলে ফুলের হাসি দেখতে আমি পাই,
প্রতিদিন দেখতে আমি পাই।"
উত্তর এলো জিজ্ঞাসায়, "কোথায়?"
আবার গাইলাম,
"স্বপ্নে দেখি একটি নতুন ঘর
তুমি আমি দু'জন প্রিয়
তুমি আমি দু'জন
বাইরে দূরে পিউ পাপিয়া করে কূজন।"
ওপারে নীরব হ'লো কুহু ওই।
দু'জনের চৌহদ্দি দুটো উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা, কারটা কতো কঠিন আজও বোঝা হয়নি। দুটো প্রাচীরের ই ইঁটগুলো সংসারী, সংসারের গন্ধটা কী ওই ইঁটগুলোই শুষে নিচ্ছিল প্রতিদিন!
0 Comments.