- 11
- 0
অনেক অংক মেলেনা
আদর্শের একটা নির্দিষ্ট সরগম আছে।
চলার পথে কখন নির্দিষ্ট তালে পা পড়বে,
কখন ফাঁকে, কখন লঘুস্বর, কখন ঋষভ,
কখন কোমল, কখন শুদ্ধ রাগে বাজবে সুর,
চলার পথে কোন তালে হবে চলতে
দাদরা, একতাল নাকি ত্রিতাল অথবা কাহারবা
সবকিছুরই একটা নির্দিষ্ট রূপরেখায়
গটমটিয়ে নিজের রাস্তা ধরে এগিয়ে চলে আদর্শ।
এ যেন অনেকটাই রেলের লাইনে চলা রেলগাড়ি
নো ডাইনে - নো বাঁয়ে, বিলকুল সিধা
নাক বরাবর।
অথবা ধরো
আটচল্লিশ হাজার ফুট ওপর দিয়ে ওড়া বিমান
নির্দিষ্ট অল্টিচুড, মেনে এগিয়ে চলা।
এভারেস্টের শিখর ছাড়িয়ে অনেক অনেক উঁচুতে
দুপাশে ডানা ছড়িয়ে উড়ে চলা।
মাটি থেকে অতোবড়ো শরীরটাকে দেখাই যায়না,
ঠিক একটা বিন্দুর মতো,
আবার কখনও দৃষ্টি থেকে হারয়েও যায়
বিমানের তাতে কিছু যায় আসে না।
বিমানের মতো এক্সপ্রেস ট্রেনও।
কখন যে হুস্ করে চলে যায় প্লাটফর্মের ওপর দিয়ে
নির্দিষ্ট লক্ষ্যে,
ঝড়ের গতিতে ছুটে যাওয়া প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো শুধু ভয়েভয়ে তাকিয়ে দেখে।
কেউ বোকার মতো হাতল ধরতে এগিয়ে যায় না।
সে যে কোন স্টেশনে দাঁড়াবে সে শুধু ওই সরগম জানে।
ভালোবাসার কোনো নির্দিষ্ট সরগম নেই।
সে উদারা মুদারা তারার মধ্যে আটকে থাকেনা।
কোনো তাল, মাত্রা - লয় বোঝেনা।
একমাত্র ভালোবাসাই ওই চলন্ত ট্রেনের হাতল ধরতে
এগিয়ে যায়। যেতে পারে। সে সাহস ভালোবাসার আছে।
আর আশ্চর্য হলেও সত্যি,
অনেক প্রেমিক গতির ধাক্কায় মারা গেলেও কিছু মানুষ
কিন্তু হাতলটা ঠিক ধরে ফেলে।
কী আশ্চর্য তাই না?
আদর্শ আর ভালোবাসা
ইতিহাসে পড়লেও আমরা মনে রাখিনা তাদের।
ভুলে যাইনা ঠিকই, শুধু ভুলে যাওয়ার ভান করি।
দমের অভাবে হাঁপাতে থাকি।
এসব কথা আমায় ফরাসী দেশের
একজন বাউল বলেছিলো।
0 Comments.