- 8
- 0
সবুজ মাথার মানুষ
আমি, রাংটুলদা, আর ওকতাসু লিওনাম গ্রহ থেকে পৃথিবীতে ফিরে এলাম। ৩০০ বছর কাটিয়ে পৃথিবীতে এসে দেখি পৃথিবী জনশূন্য। রাংটুলদা বললেন - লক্ষ লক্ষ বছর পরে জীব কোষে দেখা যায় দুর্বলতার লক্ষণ । বিশেষ করে জন্মদানের কোষগুলি শিথিল হয়ে পড়ে। মানুষের ক্ষেত্রে
সেটা ঘটেছে। তবে এইটুকু জেনে রাখো, আমি আন্দামানে যে সবুজ মাথার মানুষ সৃষ্টি করেছি, তা হচ্ছে কৃত্রিম অভিবাসন পদ্ধতি। এবার কিভাবে সবুজ মাথার মানুষ সৃষ্টি করলাম শোনো।
আন্দামানের আদিবাসীদের মাথায় আর্কিড ব্যাকটেরিয়া স্থাপন করেছিলাম এবং সেই সঙ্গে ছিল ব্যাকটেরিয়া থেকে সংগৃহীত খাদ্য। আদিবাসী মানুষের খাদ্যনালীতে যুক্ত হবার ব্যবস্থা । ফলের সবুজ অর্কিড ব্যাকটেরিয়া একদিকে সালোকসংশ্লেষ অন্য দিকে খাদ্য সংগ্রহ উভয় কাজ করতে পারবে। ফলে শুধু আমোদ - প্রমোদ ও বংশবৃদ্ধি করাই সবুজ মাথার মানুষের কাজ হবে। আন্দামানের অরণ্যে আমরা যখন পৌছালাম, তখন সবুজ মাথার মানুষেরা বেশ সুখে স্বচ্ছন্দেই দিন কাটাচ্ছিল। কিন্তু বিধিবাম । নতুন মানুষদের মধ্যে একটা অজানা রোগ দেখা দিল। অসংখ্য নতুন মানুষ মরতে লাগলো। তবুও তারা আমাদের সাদরে গ্রহণ করল । রাংটুলদার সেবায় তাদের অকাল মৃত্যু কমে গেল।
দীর্ঘ ভাষণ দিয়ে এক সবুজ মাথার মানুষ বললেন - এস আমরা একটা ধর্মে একতাবদ্ধ হই এবং উপাসনা করি । কিন্তু ভিড়ের মধ্যে থেকে একজন উচ্চ স্বরে বলে উঠলেন - না না আমরা কোন ধর্ম প্রচারকের অধীনে যাব না। পৃথিবীর পুরনো অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানি ধর্মের মানুষের আবির্ভাবের পরেই নতুন ধর্মের সৃষ্টি । এবং যত অনাসৃষ্টি। সেই কারণে আমরা আবির্ভাব লগ্নে কোন ধর্মের পথেই পা বাড়াবো না । যত বড় মহাপুরুষ হোক না। যত উপদেশ দিক না কেন। আমরা কোন ধর্ম সৃষ্টি হতে দেব না আমরা কিছু দিন ধৈর্য ধরি। মৃত্যুর কারণ বুঝে তার প্রতিকার করতে থাকি। অবশেষে ধৈর্যের ফল পাওয়া গেল অকাল মৃত্যু কমে গেল । সবুজ মাথার মানুষেরা দিব্যি সালোকসংশ্লেষ পদ্ধতিতে গাছের মত দিন কাটাতে লাগলো।
0 Comments.