T3 || প্রভাত ফেরি || বিশেষ সংখ্যায় সুবীর সরকার

আমাদের প্রভাত দা,আমাদের আশ্রয়

 

প্রভাত চৌধুরী।একজন বহুবর্ণ ব্যক্তিত্ব।একজন বহুপ্রজ ব্যক্তিত্ব।আলোকসামান্য এক মানুষ।বাংলা কবিতায় তিনি এবং কবিতা পাক্ষিক’ বাংলা কবিতায় মাইলস্টোন হয়েই থাকবে।নয়ের দশকে লিখতে আসা প্রায় সব কবি নিয়মিত লিখেছেন ‘কবিতা পাক্ষিক’এ।আর প্রভাত দা ছিলেন পিতার মতোন।আদরে আর যত্নে পাশে থেকেছেন।আমি বাংলা কবিতার পাঠকের কাছে পৌঁছতে পেরেছি,আমার পাঠক তৈরি হয়েছে ‘কবিতা পাক্ষিক’ পত্রিকায় নিয়মিত লিখেই।আর কলকাতা থেকে ৭৫০ কিমি দূরে এই উত্তরে বসেই একেবারে নিয়মিতভাবে শ্রী প্রভাত চৌধুরী আমাকে নিয়মিত লিখবার সুযোগ দিয়েছেন।সঙ্গে আরো কিছু ভালো পত্রিকায় লিখবার সুযোগও।এইরকমভাবে পাশে দাঁড়াবার মানুষ একজন তরুনতম কবির পরম প্রাপ্তি।

১৯৯৫ সাল।৩৬ ডি হরিশ চ্যাটার্জী।প্রভাত দার বাসায় প্রথম প্রভাত চৌধুরীর মুখোমুখি হয়েছিলাম।আর ১১ মার্চ ২০১৯,বাংলাদেশের রাজশাহীতে শেষ দেখা ওনার সাথে। কতগুলো বছর কেটে গেল।আজও প্রভাত চৌধুরীর সঙ্গে আত্মীক বন্ধন অটুট।আমার প্রথম কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯৬ তে।‘কবিতা পাক্ষিক’ থেকেই।হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিট থেকে ৪৯পটলডাঙা স্ট্রিট।কত কত বার প্রভাত দার সাথে আড্ডা।মত বিনিময়।কত জমিয়ে রাখা প্রশ্নের উত্তর পেতাম তার কাছ থেকে।এখনো পাই।

একসময়,মানে সেই সব চিঠিপত্রের যুগে প্রায় নিয়মিত চিঠিপত্র বিনিময় হত প্রভাত দার সঙ্গে।আমার জমিয়ে রাখা সংশয়,আর অনন্ত জিজ্ঞাসাগুলি আমি প্রশ্ন আকারে প্রভাত দাকে জানাতাম,কবিতা নিয়ে নানান অজানাগুলি জানতে চাইতাম;আর সবুজ কালিতে দীর্ঘ সব চিঠিতে প্রভাত দা আমাকে খোলামেলা লিখে সব জানাতেন।আমি সেই সব চিঠিগুলি থেকে প্রতিপল শিখতাম।নিজেকে খুঁড়তাম।

আমি প্রথম থেকেই বানান ভুল করতাম।প্রচুর বকা খেয়েছি এই নিয়ে প্রভাত দার কাছে।এখনো বকুনি খাই।আর,সবচেয়ে বিষ্ময়ের বিষয় এই যে,অনেক ভুল টুল করলেও আমার বিষয়ে কেন জানি না প্রভাত চৌধুরী চিরকালই একতরফাভাবেই স্নেহশীল।আজও ঢালাওভাবে প্রশ্রয় ও আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছেন তিনি আমাকে।

একথা অস্বীকারের কোন উপায় নেই যে,প্রভাত চৌধুরী আমার জীবনে অনেকখানি।পিতার মতন তিনি।ঈশ্বরের মতন তিনি।

প্রণাম,মান্যবর শ্রী প্রভাত চৌধুরী।
আপনি থাকবেন আমার খুব খুব ভেতরেই।

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!