ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন – ১১৮

ফেরা
ববস ক্যাফে থেকে হোটেলে ঢুকছি, ম্যানেজারের সাথে দেখা। কিছু খোঁজখবর নেওয়ার ছিলো, তাই তিনজনেই দাঁড়িয়ে পড়লাম।
আপলোগোকা প্ল্যান বাতাইয়ে জারা।
বললাম, পরদিন লেহ শহরের সাইটসিয়িং। তারপর দিন নুব্রা যাবো। নুব্রা থেকে আবার লেহতে ফিরে পরদিন টার্গেট প্যানগং।সেখানে একরাত থেকে পরদিন আবার ব্যাক টু লেহ। তারপর দিন টুকিটাকি যা দেখা বাকি থাকবে সেরে একটু কেনাকাটা। তারপরের দিন কার্গিলের উদ্দেশ্যে যাত্রা।
বহোত বড়িয়া প্ল্যান। মগর নুব্রা কে বাদ লেহ কিউ লটেঙ্গে? ডিরেক্ট প্যানগং চলা যাইয়ে।
সেটা যাওয়া সম্ভব?
পহেলে নেহি থা। আভি এক নয়া রাস্তা বনা হ্যায় শায়ক নদীকো ছুঁকর। এক কাম কিজিয়ে, আপকা ড্রাইভার কে সাথ বাত করাইয়ে।
কর্মা কে ফোনে ধরি। সব কথা বলি। ওও জানায় এই নতুন রাস্তার কথা। আমরা চাইলে এই রাস্তা ধরেই যাবো, কারণ রাস্তা একটু নড়বড়ে।
ভালোই তো। একদিন সেভ। ঐদিন টা শেষ পর্যায়ে কাশ্মীরে কাজে লেগে যাবে।
কর্মা এটাও বলে এই হোটেলের চেনা বেশ কিছু ভালো প্রপার্টি আছে নুব্রা ও প্যানগংয়ে। আমরা চাইলে বুক করে নিতে পারি।
উত্তম প্রস্তাব। ম্যানেজারকে বলি। উনি সাথে সাথে ফোন ঘোরান। কিছু কথা বার্তা বলে আমাদের দিকে তাকান। নুব্রা মে বড়িয়া হোটেল, ১৮০০ রুপিয়া পার ডে। প্যানগং মে ২০০০ রুপিয়া টেন্ট, উইথ ডিনার এন্ড ব্রেকফাস্ট।
আরে সাবাশ!! এতো বাজেটের থেকে বেশ কম। তিনজনে শলা পরামর্শ করে তখুনি টাকা দিয়ে দি। এবার রুমে ফেরার পালা।
সিঁড়ি ভাঙতে যাবো, ম্যানেজার আবার ডাকেন। পার হেড ৩০০ রুপিয়ামে বুফে ডিনার। আজ রাত। চলে গা??
আমার আপত্তি ছিলো না। কিন্তু মেয়েদুটো রাজি হলো না। তারা বাইরের ক্যাফে দেখে মুগ্ধ। কোনো একটা ক্যাফেতে তারা ডিনার সারবে। অগত্যা।।
রাত আটটা নাগাদ, আমরা বেরোই আবার। তখন বলা চলে সবে সন্ধ্যা নামছে। ৫-৬০০ মিটার হেঁটে একটা দোতলা ক্যাফে পেয়ে সেখানে ঢুকি। মনে হয় ভালোই খাবার পাবো।
আমি আর শতাব্দী, বলতে নেই ভালো খাবার পেয়েছিলাম। কিন্তু…
বেচারা অনি!! ওয়েটারের কথার ফাঁদে ফেঁসে এমন খাবার চেয়েছিল, আজ সাত বছর পার করেও এখনো রাগ দেখায় সেদিনের জন্য।।