সম্পাদকীয়

বৃষ্টি পড়লেই মনটা কেমন উদাস হয়ে যায়। মন যেতে চায় সেই চেনা নদীটার কাছে।

“নাও বাইয়া যাও ভাটিয়ালি নাইয়া।
ভাটিয়ালি নদী দিয়া।
আমার বন্ধুর খবর কইও।
আমি যাইতেছি মরিয়া।”

নদীর সাথে আমাদের আত্মার নিবিড় টান। তাই ভাটিয়ালি গান আমাদের প্রাণের গভীরে চেতনার মধ্যে মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। নদীর স্রোতের সাথে আছে জীবনের চলার এক অপূর্ব সাদৃশ্য। সমুদ্রের দিকে চলেছে উজান স্রোতে। জীবন ও পরিণতির পথে এমনই প্রবাহমান। যে মুহূর্তে সে অতিক্রম করে সেটি আর ফিরে আসে না।
বাংলাদেশ এবং ভারতের ভাটি অঞ্চলের জনপ্রিয় গান। বাংলাদেশের বিশেষ করে নদ-নদীপূর্ণ ময়মনসিংহ অঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র নদীর উত্তর-পূর্ব দিকের অঞ্চল গুলোতে ভাটিয়ালি গানের মূল সৃষ্টি। চর্চারস্থল এবং সেখানেই এই লোকসংগীতের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।। বাউলদের মতে ভাটিয়ালি গান হল তাদের প্রকৃতি তত্ত্ব ভাগের গান। ভাটিয়ালি গানের মূল বৈশিষ্ট্য হল- এই গানগুলো রচিত হয় মূলত মাঝি,নৌকা,দাঁড়, গুণ ইত্যাদি বিষয়ে। সাথে থাকে গ্রামীণ জীবন, গ্রামীণ নারীর প্রেম,প্রীতি,ভালবাসা, বিরহ,আকুলতা ইত্যাদি।
“আর গেলে কি আসিবেন মোর মাহুত বন্ধুরে?
আর গেলে কি আসিবেন মোর মাহুত বন্ধুরে?
আরে হস্তি নড়ান হস্তিরে চড়ান হস্তির গলায় দড়ি
আরে ও সত্যি করিয়া বলরে মাহুত কোন বা দেশে বাড়ি?”

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।