গদ্যানুশীলনে গোপেশ দে

অনীক

আজ আমার বিয়ে পাকাপাকি হয়ে গেল।একটু আগে পাকাপাকির কাজটা সেরে ঘরে ঢুকল বাড়ির সবাই।আজ মনটা একটু খারাপ।একটু বললে কম হয়ে যাবে ভালোই খারাপ।শুক্লাকে এত ভালোবাসলাম অথচ বিয়ে করতে পারলাম না সেই জন্যই মনটা খারাপ।শুক্লা হঠাৎ করে গলার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে গেল।কেমো তিনটে হয়ে গেছে আরো তিনটে আছে এখন।
দু’ মাস ধরে ওর সাথে কোনো দেখা সাক্ষাৎ নেই।ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম প্রথম যেতাম ওদের বাড়ি।ওর বাবা মা আমাকে ওর বন্ধু ছাড়া আর বিশেষ কিছু জানতেন না।
শুয়ে শুয়েই কথা বলত আমার সাথে।আমি একটা চেয়ার নিয়ে ওর মাথার কাছে বসতাম।
শেষ যেদিন গেলাম ওদের বাড়ি ও আমার সাথে কত মজারই না কথা বলেছিল।কত গল্প বলল সেদিন।অবশ্য যখনই যেতাম তখনই গল্প বলত আর আমি মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনতাম।আমি ওর এই অবস্থা দেখে কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলতাম।ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকতাম।
কিন্তু হঠাৎ সেদিন কী যে হয়েছিল মেয়েটার ? আমাকে বলল অন্য কাউকে বিয়ে করতে।আমি ওর মায়াবী চোখের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলাম।শুক্লার চোখের নীচে কালি।আমি ‘ না’ বলায় ও ভীষণ রেগে গেল। আমাকে ওর কাছে আসতে বারণ করে দিল।সব ধরনের যোগাযোগ রাখাটাও বারণ করে দিল।ওকে ভালোবেসে থাকলে এই কাজটা আমার করতে হবে।ওকে ভুলে যেতে হবে।
তারপরও আমি একদিন গেলাম ওদের বাড়ি।শুনলাম ওকে নিয়ে ভেলোর গেছে ওর বাবা মা।শুনে কিছুটা স্বস্তি পেলাম।চিকিৎসাটা ভালোয় ভালোয় হোক।ভগবানের কাছে ছিল এই প্রত্যাশা।
এই মানসিক অশান্তির মধ্যেই আমার জন্য মেয়ে দেখার জন্য উঠে পড়ে লাগল বাবা মা।পাত্রী দেখাতে যাওয়ার কথা বলল মা।প্রথমে রাজী হইনি।কিন্তু বাবা মায়ের জোড়াজুড়িতে আর পারলাম না।এদিকে শুক্লাও তো আমাকে অন্য মেয়ে বিয়ে করতে বলল।ও যেভাবে বলল তাতে ওর কথা রাখাটা কি সমীচীন হবে ? ও কি সত্যি আমাকে বিয়ে করতে চাচ্ছে না ?
কী ভেবে কী ভেবে বর্ষা নামের মেয়েটিকে দেখতে গেলাম। প্রথম দেখাতেই বর্ষাকে আমার বেশ ভালোই লাগল।বর্ষারও হয়ত।বর্ষাকে যেদিন প্রথম দেখতে গেলাম সেদিন বারবারই শুক্লার কথা মনে পড়ছিল।শুক্লার জায়গায় বর্ষাকে বসাতে পারব তো ? ভয় হয়।বড় ভয় হয়।আর এসব ভেবে এখন কীই বা লাভ।সামনের মাসেই আমার বিয়ে।বর্ষাকে কি আমি শুক্লার মত ভালোবাসতে পারব ? শুক্লার কথা ভাবলেই যে চোখে জল চলে আসে।
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!