- 42
- 0
শুভ নববর্ষ
বেশ কিছুদিনের নীরবতা ভেঙে, বাংলা নতুন বছরের পুণ্য প্রভাতে আবার নতুন করে পথচলা শুরু করল ‘টেক টাচ টক সাহিত্য জোন’। যেন দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ফিরে পাওয়া এক প্রিয় সুর—নতুন উদ্যমে, নতুন আশায়, নতুন আলোয় ভরে উঠল আমাদের এই সাহিত্য-পরিসর।
এই পুনরারম্ভের মুহূর্তটিকে আরও তাৎপর্যময় করে তুলেছে অসম ও বাংলার সংস্কৃতির অপূর্ব মেলবন্ধন। বহাগ বা বৈশাখের আগমনী সুরে দুই ভূখণ্ডেই বেজে ওঠে উৎসবের ডাক—অসমে রঙালি বিহুর উচ্ছ্বাস, আর বাংলায় পয়লা বৈশাখের হালখাতার আনন্দ। প্রকৃতির রঙ, মানুষের হৃদয়ের উল্লাস, আর নতুন শুরুর আশ্বাস—সব মিলিয়ে এই সময়টা এক অনন্য সেতুবন্ধন গড়ে তোলে দুই সংস্কৃতির মধ্যে।
বসন্ত তার রঙিন পসরা গুটিয়ে বিদায় নিয়েছে, কিন্তু রেখে গেছে উৎসবের আবেশ। বাংলার মানুষ এখনও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছে কালবৈশাখীর—সেই ঝড়ের, যা গরমের ক্লান্তি ভেঙে এনে দেয় প্রশান্তি ও নবজাগরণের ইঙ্গিত। অন্যদিকে, অসমবাসী ইতিমধ্যেই প্রথম দিনেই প্রত্যক্ষ করেছে বরদৈচিলার তীব্র উপস্থিতি—প্রকৃতির এক ভিন্ন, কিন্তু সমান শক্তিশালী অভিব্যক্তি। যেন দুই অঞ্চলের আকাশ-হাওয়া আলাদা সুরে একই গল্প বলে চলে।
এই আবহেই আমাদের আজকের লেখকসূচি বিশেষভাবে অর্থবহ হয়ে উঠেছে। এখানেও রয়েছে অসম ও বাংলার এক সুন্দর সহাবস্থান—ভাষা, ভাবনা, অনুভূতির এক আন্তরিক মেলবন্ধন। বিভিন্ন লেখকের কলমে ফুটে উঠেছে দুই সংস্কৃতির স্বাদ, তাদের জীবনযাপন, উৎসব, প্রকৃতি আর হৃদয়ের টানাপোড়েন। এই মিলন শুধু ভৌগোলিক নয়, এটি মননের, এটি সৃজনের।
তাই আসুন, এই নববর্ষের শুভক্ষণে আমরা একসঙ্গে ডুব দিই শব্দের জগতে। পড়ে নেওয়া যাক আজকের লেখাগুলি—যেখানে প্রতিটি শব্দে লুকিয়ে আছে নতুন শুরুর স্পন্দন, প্রতিটি বাক্যে বয়ে চলেছে সংস্কৃতির মেলবন্ধনের সুর। এখান থেকেই হয়তো আবার শুরু হবে আমাদের এক নতুন সাহিত্যযাত্রা, আরও গভীর, আরও বিস্তৃত।
সায়ন্তন ধর
0 Comments.